১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

চবিতে স্বাধীনতা বিরোধীদের কোন অস্তিত্ব নেই

প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ

দৈনিক জনকণ্ঠে মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি চবিতে সক্রিয়’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের পাঠানো প্রতিবাদে বলা হয়, সংবাদে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বর্তমান প্রশাসনকে ঘিরে রেখেছে, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত করা হচ্ছে এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ সম্পর্কিত যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে তা মোটেও সঠিক নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কেউ এসব তথ্য সরবরাহ করেছে। বর্তমান চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের কোন অস্তিত্ব নেই। স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রশাসনের বিভিন্ন পদে আসীন করার যে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দু’একটি পদে আগের প্রশাসনের আমলে নিয়োগপ্রাপ্তদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন কাজের স্বার্থে এবং প্রশাসনের চলমান গতি অব্যাহত রাখতে যাদের নিয়োগ দিয়েছে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল চেতনায় বিশ^াসী। তাছাড়া আগের প্রশাসনের বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গই বর্তমান প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বন্ধ সম্পর্কিত বিষয়ে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বর্তমান প্রশাসন বিশ^বিদ্যালয়ের স্বার্থ সুরক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। বিশ^বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বিগত প্রশাসনের আমলে শুরু হলে বর্তমান প্রশাসন এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং যারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শীঘ্রই একটি সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকবে।

সংবাদে বলা হয়েছে, অধ্যাপক গোলাম কবিরকে বিভাগীয় সভাপতির পদ থেকে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে অধ্যাপক গোলাম কবির চবি প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চবি ফিজিক্যাল এডুকেশন এ্যান্ড স্পোর্টস সাইন্স বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। উক্ত বিভাগের সভাপতি কর্তৃক একাডেমিক কমিটি, প্ল্যানিং কমিটি, অর্ডিন্যান্স লঙ্ঘন করে পরীক্ষার ফলাফলসহ, বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ইতোপূর্বে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের আলোকে অধ্যাপক গোলাম কবিরকে অতিরিক্ত দায়িত্বের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রাখতে উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) নিজেই উক্ত বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সংবাদে বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষককে নিয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের প্রতিটি সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর নৈতিক দায়িত্ব। তারই আলোকে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ বিশ^বিদ্যালয়কে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার স্বার্থে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে। বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব নেই এমন এক ব্যক্তির (হামিদুর রহমান আজাদ) পিএইচডি সেমিনার করার ব্যাপারটিকে বার বার সামনে এনে একই সংবাদ প্রচার করে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ক্যাম্পাসে সক্রিয় হচ্ছে বলে গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বর্তমান প্রশাসনের সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে ২০১৮ সালে ছাত্রত্বের মেয়াদ শেষ হলেও বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিগত প্রশাসন হামিদুর রহমান আজাদের ছাত্রত্ব বহাল রেখেছিল এবং আবারও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ করেছিল। সেমিনারের বিষয়ে চবি বর্তমান প্রশাসন অবগত হওয়া মাত্রই তাকে নিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেমিনার করায় চবি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের তিনজন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। উক্ত বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চায় বর্তমানে চবি ক্যাম্পাসে জামায়াত শিবির বা স্বাধীনতা বিরোধীদের কোন অস্তিত্ব নাই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সম্মানিত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ ক্যাম্পাসে অত্যন্ত সুসংহতভাবে সহাবস্থান করছেন এবং জামায়াত শিবিরসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে চবি বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও কঠোর।

চবি নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরি স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল হককে নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বক্তব্য নিয়ে যে সংবাদ ছাপানো হয়েছে তাও বিভ্রান্তিমূলক। উক্ত শিক্ষক অধ্যক্ষ বিষয়ে বক্তব্য প্রদানকালে চবি উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ওই শিক্ষককে সেদিনের সভার আলোচ্য বিষয়ের ওপর বক্তব্য রাখতে বলেন এবং আলোচনার বাইরে বক্তব্য না দিতে নির্দেশ দেন। বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইইআর-এর ১৮ শিক্ষককে যোগদান করানোর তৎপরতা চলছে বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আদৌ সত্য নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য হলো একটি বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা কারও জন্য সমীচীন নয়। আইনজীবীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে মর্মে যে বক্তব্য ছাপানো হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রকৃত ঘটনা হলো বিশ^বিদ্যালয়ের মামলা পরিচালনার জন্য যে আইনজীবীকে নিয়োগ করা হয়েছিল তার অদূরদর্শীতার কারণে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রায় সকল মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ দেয়া হচ্ছিল। এতে বিশ^বিদ্যালয় আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন বিশ^বিদ্যালয়ের স্বার্থ এবং সম্পদ সুরক্ষায় একজন সুদক্ষ আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন। বিশ^বিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য প্রতিবাদলিপিতে অনুরোধ জানানো হয়।

প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

১৮/০৯/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: