১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

হবিগঞ্জে খোয়াই রিভার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৪ পি. এম.
হবিগঞ্জে খোয়াই রিভার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান

নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ ॥ বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হবিগঞ্জের পুরাতন খোয়াই নদী উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। পূর্ব ঘোষনানুযায়ী ও এস এ রের্কড মতে সীমানা নির্ধারণকল্পে সোমবার সকাল ১০টা থেকে শহরের মাহমুদাবাদ এলাকা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযানের সূচনা করা হয়।

ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ ও এডিসি (রেভিনিউ) তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়ার সার্বিক তত্বাবধান এবং সদর এ্যাসিল্যান্ড মাসুদ রানা, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইয়াসিন আরাফাত রানার নের্তৃত্বে পুলিশের স্পেশাল টিমের উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ চলাকালে প্রথম দিনে নদীর ভেতরে নির্মিত অন্তত ৩০ টি ছোট-বড় দালান-কোঠা, গাছ-গাছালি সহ অন্যান্য সামগ্রী ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এসময় হত-দরিদ্র, মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের সদস্যদেরকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায়।

একই সময় অনেকেরই অভিযোগ, এস এ রেকর্ডনুযায়ী সংশ্লিস্ট খোয়াই নদী মাপ ওস্ক্যাচ ম্যাপ তৈরীর দায়িত্বে থাকা এসিল্যান্ড অফিসের এক শ্রেনীর সার্ভেয়ার বা কর্তারা নাকি অজ্ঞাত কারনে নয়ছয় করেছেন যে কারনে কারো স্থাপনা যেমন একেবারেই পড়েনি, তেমনি কারও কারও বসত বাড়ী বা প্রতিষ্ঠান কিছু কিছু অংশ ভাঙ্গার আওতায় পড়েছে। তাদের দাবী, হবিগঞ্জের এসিল্যান্ড অফিসের গুটিকয়েক বিতর্কিত কর্মচারী দিয়ে এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা সমচীন হয়নি।

নিরেপেক্ষতা বজার রাখার স্বার্থে কারও সাথে অতীতে পরিচিত বা ঘনিষ্ট সর্ম্পক নেই এমন কাউকে অন্য জেলা থেকে এনে এই নদীর সার্ভে কাজ সম্পন্ন করা উচিত ছিল। তবে জেলা প্রশাসনের কর্তারা এমন অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলে উড়িয়ে দেন। এদিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ জানান, এই উচ্ছেদ অভিযান শেষ করতে অন্তত ৩ মাস সময় লাগতে পারে। প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা এই পুরাতন খোয়াই নদী থেকে অন্তত ৬’শ থেকে হাজারও দখলদারকে উচ্ছেদ করা হবে পরবর্তীতে হবিগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছেনুযায়ী প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে ‘খোয়াই রিভার উন্নয়ন প্রকল্প’র আওতায় এই স্থানটিতে হাতির ঝিলের আদলে গড়ে তোলা একটি দৃষ্টিনন্দন বিনোদন স্পট। যেখানে থাকবে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় বিনোদনের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানকে সুশীল সমাজ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, বাপা, সাংবাদিক সমাজ সহ সমাজের অন্যান্য পেশার মানুষ স্বাগত জানালেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বা প্রভাবশালীদের নানা কুটকৌশলের কারনে তা স্থিমিত বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে কিনা, এমন আশংকা ব্যক্ত করে অনেকেই বলেছেন, উচ্ছেদকৃত এই খোয়াই নদীতে গড়ে উঠা স্পর্শকাতর নানা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এমনকি জেলা ও সদর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক মরহুম জেনারেল এম এ রব জাদুঘর, জেলা পরিষদ ভবন, ডায়বেটিক হাসপাতালের মতো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এখনই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলে সাধারন মানুষের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের যেমন সঞ্চার ঘটবে, তেমনি পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত নাগালের বাইরেও চলে যেতে পারে।

তবে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ ইতিমধ্যে বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠান খুবই সেনসেটিভ হওয়ায় সংশ্লিস্টদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেই এই ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। চলমান উচ্ছেদ থেকে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেউ বাদ যাবেনা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স দেখাবে।

প্রকাশিত : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৪ পি. এম.

১৬/০৯/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: