১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

টাঙ্গাইলে দেবে গেছে রাঙ্গাচিড়া ব্রিজ ॥ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ১৪ সেপ্টেম্বর ॥ টাঙ্গাইল সদর-কাকুয়া ও বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের রাঙ্গাচিড়া ব্রিজ এবার বন্যার পানির প্রবল চাপে ধসে ভেঙ্গে গেছে। এতে করে বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের সঙ্গে কাকুয়ার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ গ্রামের মানুষ। এলাকার লোকজন ও ছোট ছোট যানবাহন বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলীর তদারকির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রিজটি ধসে গেছে। প্রায় দু’মাস হলো ব্রিজটি বন্যার পানির ¯্রােতে ভেঙ্গে গেলেও এখন পর্যন্ত মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২২ লাখ টাকায় টাঙ্গাইল সদর-কাকুয়া ও বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের রাঙ্গাচিড়া ব্রিজের কাজ পায় মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্রিজটির নির্মাণ কাজের তদারকি ছাড়াও পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ফারুক।

কাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার আজাদ বলেন, বড় একটি সড়কে এখানে ত্রাণের ব্রিজ করা ঠিক হয়নি। ব্রিজের নিচে কোন আরসিসি ছিল না। এ কারণে পানি প্রবল স্রোতে পুরো ব্রিজটিই ধসে ভেঙ্গে গেছে। সিএনজি চালক রওশন আলী বলেন, খুব ঝুঁকির মধ্যে গাড়ি চালাচ্ছি। যে কোন সময় ভেঙ্গে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ব্রিজটি মেরামতের কোন উদ্যোগই দেখছি না।

ওই ব্রিজের তত্ত্বাবধায়ক সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ফারুক বলেন, ব্রিজটির কাজ পেয়েছিল মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন কারণে ব্রিজটি নির্মাণ করতে অপরাগতা প্রকাশ করে। আমার নিজের গ্রাম বিধায় ওই সময়ের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজটি আমি তদারকি করি। দরপত্রে কোন পাইলিং ছিল না। এ কারণে বন্যার পানির প্রবল ¯্রােতে ব্রিজটির নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে দেবে গেছে। এখানে কোন অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ করার কোন প্রশ্নই আসে না।

কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেবে যাওয়া ওই ব্রিজের উপর বাঁশ ও কাঠের পাটাতন দিয়ে রিক্সা, সিএনজি, অটোরিক্সা, ভ্যানগাড়ি চলাচলের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা করেছি। ইতোমধ্যে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের জন্য চিঠি দিয়েছি। তারা দ্রুত সম্ভব ব্রিজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন, বন্যায় যে সমস্ত ত্রাণের ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার তালিকা নেয়া হচ্ছে। এ বছর ব্রিজের টেন্ডার হয়ে গেছে। আগামীতে আমরা অধিকতর গুরুত্বসম্পন্ন স্থানে যেসব ব্রিজ ধসে গেছে সেসব ব্রিজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করে দিব।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন বলেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন থেকে উপজেলায় যে ব্রিজ করা হয় সেখান থেকে এ বছরের মধ্যেই রাঙ্গাচিড়ায় দেবে যাওয়া ব্রিজের স্থানে নতুন করে ব্রিজ করা হবে।

প্রকাশিত : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

১৫/০৯/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: