১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

নূরজাহানের হতভাগ্য স্বামীর সমাধি

প্রকাশিত : ৭ আগস্ট ২০১৯
  • ইশতিয়াক আলম
  • ভ্রমণ কাহিনী

হাতে সময় আছে দেখে সঙ্গিনীকে আরো ঘুমোবার সুযোগ দিয়ে নিচে নেমে এলাম। হোটেলের কাছেই চায়ের দোকান এবং রিক্সাওয়ালা পেয়ে ঘণ্টা হিসাবে মিটিয়ে উঠে বললাম, প্রথম চলেন আলমগঞ্জের শের আফগানের সমাধি।

রিক্সাওয়ালা বলল,পীর বাহরাম বাদশার মাজার।

আমি আমার কথার পুনরাবৃত্তি করলে সেও পুনরাবৃত্তি করল পীর বাহরাম বাদশার মাজার। বলে যোগ করল, মাজারের ভেতরে নুরজাহানের প্রথম স্বামী শের আফগানের এবং তাকে খুন করতে এসেছিল যে তার কবর পাশাপাশি।

আমি অবাক হয়ে বললাম,আপনি তো বেশ ইতিহাস জানেন। রিক্সাওয়ালা খুশি হয়ে বলল,আমি ঐ মাজারে যাই,মাজারের খাদেম আমাকে বলেছে।

বর্ধমান বাজারের মাঝ দিয়ে যেতে বাঁদিকে পড়ল কার্জন তোরণ। বর্ধমানের মহারাজ লর্ড কার্জনকে আমন্ত্রণ করলে ভারতের গবর্নর জেনারেলের সম্মানে নির্মিত তোরণের এখনকার নাম বিজয় তোরণ। ডানে পেলাম মহারাজের বাড়ির পেছন দিক। আরো কিছুদূরে যেয়ে পেলাম আলমগঞ্জের সরু রাস্তা, দুপাশে রাস্তা ঘেঁষে পুরোনো দালান। সামান্য যেতে রিক্সা থেমে গেল। বাঁয়ে লোহার পুরোনো গেট, তালাবদ্ধ। সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠলে মাজারে প্রবেশ পথ। দুপাশে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের যথাক্রমে শের আফগান এবং পীর বাহরামের পরিচিতি বিজ্ঞপ্তি। পাশের সাইড গেট খুলে উপরে উঠলে ল¤া^া প্যাসেজ,বাঁয়ে প্রথমে ছোট মসজিদ,তারপরের কক্ষ পীর বাহরামের মাজার,পরের কক্ষে পাশাপাশি দুটি কবর। এরপরে খোলা প্রাঙ্গণ, সেখানেও কয়েকটি কবর। ওপাশে বড় পুষ্করিণী। চারপাশে পুকুরের কাটা মাটিতে পাড়। মাজার, মসজিদ, পুষ্করিণীর এককোণে সমতল থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচুতে।

পীর বাহরামের মাজারের পরের কক্ষে পাশাপাশি দুটি কবরে যে দু’জন তারা একে অপরের হন্তারক। একজন স¤্রাট জাহাঙ্গীরের সৎভাই সুবেদার কুতুবউদ্দিন, অপরজন বর্ধমানের জায়গিরদার আলী কুলী খাঁ ইসতাজলু ওরফে শের আফগান।

বাদশাহী নাম শরীফাবাদ বর্তমানে ব্যস্ত জেলা শহর বর্ধমান, নিরিবিলি ও পুরোনো এলাকা আলমগঞ্জের মাটির নিচে রয়েছে কত ইতিহাস। সমসাময়িক সময়ের সব চেয়ে প্রভাবশালী মহিলা সুন্দরী মেহেরুন্নিসা স¤্রাট জাহাঙ্গীরের প্রধান মহিষী নূরজাহান হয়ে ওঠার আগে শরীফাবাদ বা বর্তমানের বর্ধমানে প্রথম স্বামী শের আফগানের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন দীর্ঘ এগারো বছর,জন্ম হয় তার একমাত্র কন্যা লাডলী বেগমের।

এই মাজারে শায়িত তিনজনের কেউই বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেনি। পীর বাহরামের জন্ম প্রাচীন বুখারা শহরে। তার আসল নাম শাহওয়ার্দি বায়াত। সেই সময়ের অনেকের মত ভাগ্যান্বেষণের জন্য স¤্রাট আকবরের সময়ে আগ্রায় আসেন। পথচারীদের তিনি পানি খাওয়াতেন,এই সেবার জন্য তার পরিচিতি হয় সাক্কা বলে। পরে নির্দেশিত হয়ে বর্ধমান আসেন এবং স্থানীয় জনসাধারণের জলকষ্ট নিবারণের উদ্যোগ নিয়ে খনন করান এই বড় পুষ্করিণী। পুকুর পাড়েই থাকতেন তিনি, নামাজ-কালাম পড়তেন। ক্রমে পরিচিত হন পীর বাহরাম নামে।

শের আফগান ওরফে আলী কুলী খাঁ ইসতাজলুর জন্ম পারস্য দেশে। কম বয়সে তৎকলীন শাসক সফরী বংশের ইসমাইল মির্জার সফর্চি(খাবার পরিবেশক) কাজে নিযুক্ত হন। ইসমাইল মির্জা মারা গেলে সেখান থেকে পালান,আসেন মুলতান। দীর্ঘদেহী,সাহসী,শক্ত-সমর্থ ও ভাল যোদ্ধা হওয়ার গুণাবলী থাকায় মুঘল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। তার দায়িত্ব পালনের নিষ্ঠার জন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সুনজরে পড়েন। পদোন্নতি হয় এবং কর্মস্থল হয় লাহোরের বাদশাহী কোর্টে। এইখানে স¤্রাট আকবরের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বাসভাজন হন। স¤্রাট আকবরের ছেলে শাহজাদা সেলিমের(পরে হন স¤্রাট জাহাঙ্গীর) বন্ধুস্থানীয় এবং বিশ্বস্ত অনুচর। একবার শিকারে যেয়ে সেলিম বাঘের আক্রমণের মুখে পড়লে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে তাকে রক্ষা করেন। তাকে দেওয়া হয় শের আফগান উপাধি। এই আফগানের সঙ্গে আফগানিস্থানের কোন সম্পর্ক নেই। পারসিক ভাষায় ’আফগান’ শব্দের অর্থ ‘যে কব্জা করে’। শের বা বাঘকে কব্জা করেছিলেন বলে শের আফগান। এরপর থেকে শের আফগান বলেই বেশি পরিচিত হন।

মেহেরুন্নিসার(স¤্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিয়ের পর নতুন নাম হয় নূরজাহান)। জন্ম আফগানিস্তানের কান্দাহার মরুভূমিতে। জন্ম তারিখ ৩১ শে মে ১৫৭৭। মেহেরুন্নিসার পিতা গিয়াস বেগ ও মাতা আসমত বেগম ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় পারস্যের খোরাসান থেকে দিল্লীর উদ্দেশে রওয়ানা দেন। দস্যুরা তাদের সব কিছু লুণ্ঠন করে নেয়। এই অবস্থায় পথের মাঝে এক বাবলা গাছের নিচে জন্ম হয় মেহেরুন্নিসার। গল্পে আছে যে, পিতা গিয়াস বেগ ও মাতা এমন দুর্দশায় পড়েছিলেন যে মেয়েকে বাঁচাবার আর কোন উপায় না দেখে পথের পাশেই বাচ্চাকে শুইয়ে রেখে তারা রওয়ানা দেন। এই আশায় যে কোন সহৃদয় ব্যক্তি যদি শিশুটিকে পেয়ে আশ্রয় দেয়। সামান্য দূর যেতেই শিশুর কান্না শুনে তারা ফিরে এসে বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নেন। এই সময় মাসুদ নামে এক সওদাগর এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাদেরকে আশ্রয় দেন। তার সহায়তায় গিয়াস বেগের পরিবার আগ্রায় পৌঁছান এবং অল্প দিনের মধ্যে স¤্রাট আকবরের কৃপায় গিয়াস বেগ এবং তার পূত্র আসফ খান দরবারে চাকুরিতে নিয়োজিত হন।

আসমত বেগম সুন্দরী এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের। তাঁর অনেক গুণ। তাই হারেমের বেগমরা তাকে ডেকে নিতেন গল্প করার জন্য। মেহেরুন্নিসাও সঙ্গে যেত। সে যখন যথেষ্ট আকর্ষণীয়, উপরন্ত তার গানের গলা খুবই ভালো,কবিতা রচনা করতে পারে,সাহসী,বুদ্ধিদীপ্ত চোখমুখ। এই সময়ে পরিচয় হয় শাহজাদা সেলিমের সঙ্গে। দুজনকে ঘিরে নানা কথা ভেসে বেড়ায় হারেমে ও বাইরে। শাহজাদা সেলিমের প্রধান স্ত্রী শাহ বেগমের কানে সব কথাই যায়। পরিচারিকারা নতুন খবর দেওয়ার সময় সাবধান করে দেয়। শাহ বেগম রাজা ভগবান দাসের মেয়ে। তার মায়ের ভাই সেনাপতি মানসিংহ। তার কানেও কথাটা তুলে ধরা হয়। শাহজাদা সেলিমের যে মতিগতি কোনদিন না শাহজাদা গান জানা, কবিতা লিখতে পারা বুদ্ধিমতী নতুন সুন্দরী মেহেরুন্নিসাকে বিয়ে করে ফেলে এবং প্রধান মহিষী বানায় ? প্রাসাদের কোণে কোণে চলে ষড়যন্ত্র, গোপনে, একে অপরের বিরুদ্ধে, একপক্ষ অন্য কোন্ পক্ষের বিরুদ্ধে। এরই অংশ হিসাবে শাহজাদা সেলিমকে যেতে হয় দাক্ষিণাত্যে। অন্যদিকে একদিন দরগা থেকে আসার পথে মেহেরুন্নিসাকে উদ্ধার করে কে? শের আফগান ওরফে আলী কুলী খাঁ, সে যে তখনো বিয়ে করেনি। মেহেরুন্নিসা দেখে দীর্ঘদেহী শের আফগানকে, এই লোক নাকি বাঘের আক্রমণ থেকে শাহজাদা সেলিমকে বাঁচিয়েছিল। আলী কুলী খাঁ নির্ণিমেষ চোখে দেখে মেহেরুন্নিসাকে। এক দেখাতেই সে উতলা। দ্বিধা নিয়ে দেখা করে মানসিংহের সঙ্গে। বাঘের হাত থেকে শাহজাদাকে রক্ষা করায় স¤্রাট আকবর আলী কুলী খাঁকে তার পছন্দের পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন। আলী কুলী তখন নেয়নি। এখন সেই পুরস্কার সে চায়। মানসিংহের মাধ্যমে আবেদন যায়। স¤্রাট আকবর খুব খুশি মনে আবেদন মঞ্জুর করেন। স¤্রাট আকবরও চাইছিলেন শাহজাদা সেলিম যেন মেহেরুন্নিসার সঙ্গে মেলামেশা না করে।

খুব দ্রুতই বিয়েপর্ব শেষ হয়। শের আফগান ওরফে আলী কুলী খাঁ ইসতাজলুর বিয়ে করে মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে চলে যায় বর্ধমান। সাল ১৫৯৪। মেহেরুন্নিসার এক কন্যা লাডলি বেগমকে নিয়ে শের আফগানের মৃত্যু ১৬০৭ পর্যন্ত একসঙ্গে বর্ধমানে বসবাস করেন।

নুরুদ্দিন মুহম্মদ সেলিম ৩রা নভেম্বর ১৬০৫ সালে পিতা স¤্রাট আকবরের মৃত্যুর ০৮ দিন পরে জাহাঙ্গীর উপাধি নিয়ে চতুর্থ মুঘল স¤্রাট হিসাবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। পিতার মৃত্যুর আগেই তাঁর সঙ্গে সেলিমের বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। অধীনস্থদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে ্ সে দ্বন্দ্ব। এমনি এক দ্বন্দ্বে শের আফগান স¤্রাট আকবরের পক্ষেই থাকেন। এ থেকে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিবাদ। মেহেরুন্নিসাকে বিয়ে করায় পুরোনো অসন্তোষ তো রয়েছে। শের আফগানের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি,দুনীর্তি, বিরুদ্ধাচরণ, প্রতিবেশী শত্রু আফগানদের সহযোগিতা ইত্যাদি অনেক অভিযোগ আনা হয়। তাকে গ্রেফতারের জন্য জাহাঙ্গীরের সৎ ভাই বাংলার সুবেদার কুতুবুদ্দিনকে বর্ধমান পাঠানো হয়। দু’জন মুখোমুখি হলে শের আফগান আক্রমণ করেন কুতুবুদ্দিনকে, তার সহচররা আক্রমণ করে শের আফগানকে। দুজনেরই স্থান হয় পীর বাহরামের মাজারে পাশাপাশি কবরে।

মেহেরুন্নিসাকে লাডলিসহ নীত হন রাজধানীতে। ভাই আসফ আলী এবং গিয়াস বেগ দুজনেই স¤্রাটের দরবারে অতি উঁচু পদে অধিষ্ঠিত তা সত্ত্বেও মেয়েসহ মেহেরুন্নিসার স্থান হয় হেরেমে। রাজমাতা সেলিমা সুলতানা বেগমের সহকারী হিসাবে। দীর্ঘ চার বৎসর মেহেরুন্নিসা থাকে লেডি ইন ওয়েটিং।

মুঘল স¤্রাটরা পিতৃভূমি ইরানের মতো নববর্ষ বা নওরোজ পালন করতেন। দুর্গের মধ্যেই বসত মিনাবাজার।বিক্রেতা মহিলারা, ক্রেতা স¤্রাট,শাহজাদা ও ধনী মহিলারা। সেখানে অন্তঃপুরবাসিনীরা তাদের প্রস্তুত বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রি করতেন।

১৬১১ সালের নওরোজের মিনা বাজার, একটি পরিধেয় বস্ত্রের দোকানে মেহেরুন্নিসার মুখোমুখি হন স¤্রাট জাহাঙ্গীর। ৩৪ বৎসর বয়সী শুভ্র- শ্বেতবসনা মেহেরুন্নিসাকে দেখেই চিনতে পারেন। তার মনে পড়ে যায় প্রথম সাক্ষাত দিনটির কথা। মেহেরুন্নিসা তখন কিশোরী। শাহজাদা সেলিম তার আট বছরের বড়। সেলিমের খুব শখ বিভিন্ন পাখীর। সেদিন একজোড়া পায়রা ধরেছেন,আরো একজোড়া ধরবেন।সামনে দেখেন মেহেরুন্নিসকে পায়রাজোড়া তার হাতে গছিয়ে দিয়ে এগিয়ে যান আরেকজোড়া ধরতে। ফিরে এসে দেখেন মেহেরুন্নিসার হাতে একটি পায়রা।আরেকটি কই জিজ্ঞেস করলে সে জানায় উড়ে গেছে। শাহজাদা রাগান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, কিভাবে? মেহেরুন্নিসা হাতের পায়রাটি উড়িয়ে দিয়ে বলে, এই ভাবে।

ক্রোধান্বিত সেলিম উদ্ভিন্নযৌবনা মেহেরুন্নিসার সুন্দর মুখের হাসি ও কৌতুকের খেলা দেখে জোড়ে হেসে ওঠে। মেহেরুন্নিসাও হেসে ওঠে।

দীর্ঘ ১৭ বৎসর পর দেখা,তা সত্ত্বেও মুহূর্তের মধ্যে পুরোনো প্রেম জেগে ওঠে।

স¤্রাট জাহাঙ্গীর জানান তিনি মেহেরুন্নিসাকে বিয়ে করতে চান।

মেহেরুন্নিসা অসম্মতি জানান এই বলে যে সে বিধবা এবং তার একটি মেয়ে আছে। এবং তার বিয়ের ্ইচ্ছা নেই। এতে থেমে থাকে না জাহাঙ্গীরের ভালবাসার আবেদন। তার যুক্তি,মা ও মেয়ের নিরাপত্তা,ভবিষ্যত ইত্যাদি বিবেচনা করবার জন্য বলায় মেহেরুন্নিসা সম্মত হন এবং তার দেওয়া শর্ত মেনে নিয়েই স¤্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মেহেরুন্নিসার বিয়ে হয় আঠারো লক্ষ আশরফি।(ঐতিহাসিক ডেভিড প্রাইস ১৮২৯ সালে এর মূল্য নির্ধারণ করেছিলেন

সাতকোটি বিশ লক্ষ টাকা)। মেহেরুন্নিসার তখন ৩৪, জাহাঙ্গীরের ৪২।মেহেরুন্নিসার দি¦তীয় এবং জাহাঙ্গীরের বিশ ও শেষতম বিয়ে। মেহেরুন্নিসার নতুন নাম দেওয়া হয় নূরজাহান(জগতের জ্যোতি)। কান্দাহারের মরুভূমির বাবলা গাছের নিচে জন্ম নেওয়া মেহেরুন্নিসা ওরফে নূরজাহান হয়ে ওঠেন মুঘল সা¤্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী মহিলা। পাথরের ঝাঁঝরির পাশে বসে পেছন থেকে নূরজাহান স¤্রাট জাহাঙ্গীরকে রাজকার্যে পরামর্শ দিতেন। রাষ্ট্রীয় ফরমান জারীর ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছিল।মুদ্রায় স¤্রাটের সঙ্গে নূরজাহানের নামও অঙ্কিত থাকতো। নূরজাহানের ছিল অনেক গুণাবলী। সে ছিল কবি, দক্ষ শিকারী,সৃজনশীল স্থপতি। একজন বলিষ্ঠ,সম্মোহনী ও উচ্চশিক্ষিতা নারী হওয়ায় তাকে ১৭শতকের সব চেয়ে প্রভাবশালী নারী ভাবা হতো।

বাইশ বছর স¤্রাটের দায়িত্ব পালন করার পর জাহাঙ্গীর ১৬২৯ সালের নভেম্বরে মারা গেলে পঞ্চম মুঘল স¤্রাট হন শাহজাদা খুররম, শাহজাহান নাম নিয়ে। নূরজাহান মেয়েকে নিয়ে লাহোরে নির্বাসন নেন। তার বার্ষিক ভাতা নির্ধারিত হয় দুই লক্ষ টাকা।১৬৪৫ সালের ৮ই ডিসেম্বর আটষট্টি বছর বয়সে মারা গেলে তাকে কবর দেওয়া হয় লাহোরের শাহদারায় জাহাঙ্গীরের কবরের কাছে। নূরজাহানের সমাধিতে তারই রচিত নি¤েœাক্ত ফার্সি পঙক্তি: ”বর মজারে মা গরীবাঁ না চিরাঘে না গুলে না পরে পরওয়ানা সূজদ্ সাদায়ে বুলবুল ।”

কবি সত্যেন্দ্রনাথ এর অনুবাদ করেন:‘‘গরীব গোরে দ্বীপ জ্বেলোনা, ফুল দিওনা কেউ ভুলে, শামা পোকায় না পোড়ে পাখ , দাগা না পায় বুলবুলে।”

প্রকাশিত : ৭ আগস্ট ২০১৯

০৭/০৮/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: