১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ডিঙিয়ে আসা বিনোদন ও আমরা

প্রকাশিত : ৭ আগস্ট ২০১৯
  • বিধান রিবেরু

বিনোদনের দুনিয়ায় চিরকালেই নতুন নতুন ব্যাপার যুক্ত হয়ে আসছে। আধুনিক এই আন্তর্জাতিক যুগে তেমনই এক সেবার নাম ওভার দ্য টপ বা ওটিটি। এটি একটি স্ট্রিমিং মিডিয়া সার্ভিস, যা শুধুমাত্র ইন্টারনেট থাকলেই কাজ করে। টেলিভিশন, বেতার, পাড়ার কেবল সংযোগ সবকিছুকে ডিঙিয়ে এই সেবা সরাসরি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ট্যাবলেট কিম্বা মোবাইল ফোনের এ্যাপের মাধ্যমে ভোক্তার কাছে চলে আসে। আর ভোক্তা তার নিজের ইচ্ছেমতো বিনোদন বেছে নিতে পারেন। সেটা হতে পারে কোন চলচ্চিত্র, বা ধারাবাহিক অথবা অন্য যে কোন দৃশ্য- ফলন বা ভিজুয়াল প্রোডাকশন। ভোক্তা নিজের সুবিধামতো যে বিনোদন বেছে নিতে পারছেন সে জন্য এই সেবাকে সাবস্ক্রিপশন বেইজড ভিডিও অন ডিমান্ডও বলা হয়ে থাকে। আমরা আলাপ করব এই নতুন মাধ্যম দিয়ে আসা দৃশ্যÑ ফলন ও পণ্যায়ন নিয়ে।

আমরা নিশ্চয় নেটফ্লিক্স, এ্যামাজন ভিডিও, হুলু, হটস্টার, হৈচৈ, আইফ্লিক্স, বায়োস্কোপ লাইভ ইত্যাদির নাম শুনেছি। এগুলো সবই ‘মাথার ওপর দিয়ে’ এসে বিনোদিত করে ভোক্তাদের। নতুন সময়ের মানুষেরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখার চাইতে নিজের ল্যাপটপ বা বড় স্ক্রিনের মোবাইলেই একটি গোটা ছবি দেখে নিতে পছন্দ করে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাস্তার যানজট ঠেলে, তিন-চার শ’ টাকার টিকেট কেটে ছবি দেখার চেয়ে, ওটাকেই যুৎসই কর্ম মনে করছে অনেকে। তাই বলে যে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখার সংস্কৃতি উবে যাবে তা কিন্তু নয়। বাসাতেই তো এখন কফি বানিয়ে খাওয়ার মেশিন বসানো যায়, তাই বলে কি লোকে ক্যাফেতে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে? দেয়নি। ওটা একটা ভিন্ন সংস্কৃতি, এটা আরেকটা। দুটোই মানুষকে বিনোদন যোগায়, মানে প্রেক্ষাগৃহ ও ওটিটি সেবার কথা বলছি।

একটা বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার ইউটিউবেও কিন্তু ‘চাহিবা মাত্র’ ভিডিও পাওয়া যায়, তবে সেটি কিন্তু ভোক্তার পয়সা খরচ করতে হয় না, আর তার চেয়েও বড় কথা ইউটিউব একটি ভিডিওভিত্তিক অনলাইন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম। এখান থেকেও অর্থকড়ি উপার্জন হয়, তবে এর তরিকা ভিন্ন। সেই অর্থ আসে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে। দর্শক সেই টাকার ভাগ পান না, যিনি ভিডিও তুলে ধরেন তিনি পান। সেই আলাপ স্বতন্ত্র। মোটকথা ইউটিউব থেকে এই ওটিটি মাধ্যমটি ভিন্ন।

মানুষ আগে সাধারণত বড় পর্দায় চলচ্চিত্র দেখত, আর ছোট পর্দায় দেখত ধারাবাহিক। ওটিটি দুটোকেই এক জায়গায় এনে দিয়েছে। এমনকি সরাসরি খেলাও দেখা যায় এই সেবার মাধ্যমে। এসব সুবিধা যে করে দেয়া হলো, সেটা কি সমাজে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্ন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত? তা তো অবশ্যই। মানুষ ধীরে ধীরে আপন থেকে পর হয়ে যাচ্ছে, মানে তারা অপর হয়ে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে বেশি। যার যারটা তারতার। এটাই হয়ে উঠেছে এখনকার সংস্কৃতি। এর সঙ্গে অর্থনীতির রয়েছে গভীর যোগাযোগ। গ্রাম যদিও পর পর ভাব থেকে এখনও মুক্ত, তবে নগর এই ‘পরকীয়া’য় পুরোপুরি আক্রান্ত। পরকীয়ার ইংরেজী করতে পারেন এলিয়েনেশন।

এটা থেকে আমিও মুক্ত নই। আমি প্রথমে খুব বিরক্ত হতাম, যখন শুনতাম লোকজন ‘গেম অব থ্রোন’ নিয়ে মাতামাতি করছে। এরপর আমি বলতে গেলে হঠাৎ করেই ‘সেক্রেড গেমস’ দেখি। দেখে মনে হলো নেশা ধরে গিয়েছে। এরপর দেখি ’নার্কোস’, ‘সেন্স-এইট’, ‘ডেজিগনেটেড সার্ভাইবার’, ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ ইত্যাদি। এখন অবশ্য ক্ষান্ত দিয়েছি। তবে এসব ধারাবাহিক দেখার সময় একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম, বিশেষ করে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ দেখার সময়, সিজনগুলোর অধিকাংশ পর্ব একটি দল বানালেও, অনেক সময় দলের সদস্য বদল হয়ে যায়। মানে পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার থেকে শুরু কলাকুশলী পর্যন্ত। স্বাভাবিক কারণেই এত দীর্ঘ কাজ একই টিমের পক্ষে এক নাগাড়ে কাজ করে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য, তাই দল বদলে যায়, তাতে অবশ্য দৃশ্য- ফলনের কোন হেরফের হয় না।

ধনতন্ত্রে চেইন ফুড শপ বলে একটা ব্যাপার খুব জনপ্রিয় হয়েছে। মানে আপনি দুনিয়ার যেখানেই যাবেন ম্যাকডোনাল্ডের বার্গারের স্বাদ একই রকম পাবেন। তারা একটি রেসিপি অনুসরণ করে সর্বত্র। কাজেই বৈচিত্র্যকে সেখানে কবর দেয়া হয়। ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এই রীতি মেনে চলার কারণ, একটি রেসিপি এক জায়গায় যখন জনপ্রিয় ও মুনাফা আদায় করে নিতে পারে, তখন সেই একই ফর্মুলা দুনিয়ার অন্য জায়গাতেও প্রয়োগ করা হয়। যেন একটি কারখানার প্রোডাক্ট, একই মান রক্ষা করে বেরুচ্ছে একটি নালা দিয়ে। ইংরেজী ‘ডাক্ট’ মানে বাংলায় ওই নালাই তো। অর্থাৎ প্রোডাকশন লাইনে একই মান রক্ষা করে একটি পণ্য উৎপন্ন হয়। ওটিটি প্লাটফর্মের ধারাবাহিকগুলোও সে রকম।

একটি ধারাবাহিকের পরিচালক পর্যন্ত বদল হয়ে যায়, কিন্তু গল্প ও চরিত্র একই গতি ও অভিব্যক্তি নিয়ে নির্দিষ্ট দিকে ধাবিত হতে থাকে। এ যেন অনেকটা ডগমা ফিল্মের মতো। নির্দিষ্ট ছকে ফেলে দেয়া আছে সিনেমাটোগ্রাফি, লাইটিং, কালার, টোনালিটি, ক্যারেক্টারাইজেশন ইত্যাদি, সেই অনুযায়ী শুধু দৃশ্য ধারণ করে যাওয়া। ধারাবাহিকগুলোর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আধুনিক কল-কারখানায় উৎপাদিত মান নিয়ন্ত্রিত পণ্যের কিন্তু বেশ মিল আছে। আবার এই আধুনিক সমাজ যে ব্যাধি তৈরি করেছেÑ এ্যালিয়েনশনেরÑ সেটার বাই প্রোডাক্ট হিসেবেই ওটিটি মাধ্যমের জন্ম হয়েছে এবং সেখানে সিরিজ বলুন বা সিনেমা বলুন, ব্যবসা করতে পারছে। মানুষ মনে করছে এ ধরনের দৃশ্যজাত পণ্য সকলের সঙ্গে বিশাল অন্ধকার হলরুমে বসে দেখার খুব একটা দরকার নেই। তা ছাড়া যে ধরনের উপাদান এসব পণ্যে মেশানো থাকে, তা ব্যক্তিগত সময়ে একা একা দেখা অনেকটা বাসনা দেবতাকে ভোগ দেয়ার মতোই। প্রেক্ষাগৃহে অনেক অচেনা মানুষ থাকে। বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি আর চায় না, অচেনা লোকদের ভিড়ে নিজের বাসনাকে তুষ্ট করতে। সে যেহেতু ‘পরকীয়া’য় আক্রান্ত, সেহেতু সে এই ধরনের ওটিটি প্রোডাক্ট একা একা দরজা বন্ধ করেই ভোগ করতে চায়, আর প্রডিউসাররা ওই প্রোডাক্টের মানকেও নিয়ন্ত্রিত রাখতে চায়, যেন ভোক্তা যে স্বাদ পেয়ে শুরু করেছিল সিরিজটি, সেটি যেন শেষ পর্যন্ত থাকে। স্বাদ যদি পরবর্তী পর্ব বা মৌসুমে নষ্ট হয়ে যায়, তা হলে তো পুরো ব্যবসাটাই মার খেয়ে যাবে, তাই না?

টেলিভিশনেও ধারাবাহিক হয়, সেখানেও একাধারে কয়েক শ’ পর্ব প্রচার হয় একটি ধারাবাহিকের। সেক্ষেত্রেও চেষ্টা থাকে মান নিয়ন্ত্রিত রাখার। যদিও কখনও কখনও আমরা দেখি একটি চরিত্রে হুট করে আরেকজন অভিনয়শিল্পী কাজ করছেন। এটা তো ঠিক, তিন শ’ পর্বে নিশ্চয় টানা একজনের পক্ষে কাজ করে যাওয়া বেশ মুশকিলের বিষয়। তো ছোট পর্দার এই ধারাবাহিক বিনোদনের চেয়ে ওটিটির ধারাবাহিক স্বতন্ত্র ওই দেখার সংস্কৃতির কারণে। অর্থাৎ ছোট পর্দায় একা কোন ধারাবাহিক দেখা প্রায় অসম্ভব, যদি আপনি তিনকূলে আত্মীয়স্বজন ছাড়া কেউ হন অথবা আপনার জন্য যদি আলাদা ঘর ও আলাদা একটি বোকা বাক্স বরাদ্দ থাকে তাহলে হিসেব ভিন্ন। নইলে টেলিভিশন কেউ একা একা দেখে না, পরিবারের সদস্যদের নিয়েই দেখে।

এখানে একটি কথা আছে, ইদানীং বাজারে ইন্টারনেট টিভি বেরিয়েছে। সেখানেও কিন্তু ওটিটি মাধ্যম কাজ করে। সে জন্য ওটিটি ওয়ালারাও বুদ্ধি কম রাখেন না, তারা শিশুদের জন্য আলাদা একটি ভাগ করে রেখেছে। তা ছাড়া আপনি ইন্টারনেট টিভি দিয়ে প্রবেশ করুন, আর মোবাইলের এ্যাপলিকেশন, একটি সেবায় কিন্তু আপনার নামেই আলাদা একটি খাতা খোলা থাকে। যেমন ধরুন নেটফ্লিক্সে, সেখানে একটি এ্যাকাউন্ট থাকলে তা ব্যবহার করতে পারে চারজন, স্বতন্ত্র চারটি হিসাবের খাতা খোলা হয় তাতে, আর একটি জানালা থাকে বাচ্চাদের জন্য। তো ব্যক্তির জন্য খোলা খাতায় ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দ, অল্প পছন্দ সকলকিছু টুকে রাখা হয় আমলনামায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই কাজটি করে থাকে। এরপর সেই অনুযায়ী মেন্যুকার্ড আপনার সামনে হাজির করা হয়। মানে ব্যক্তি আপনাকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই ওটিটি প্লাটফর্মটিকে সাজানো হয়েছে।

আপনার জন্য বরাদ্দ জানালায় গিয়ে, ওদের তালিকায় রাখা পণ্যগুলোর প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া ও ধরন দেখে মিডিয়া সার্ভিস প্রভাইডার আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে একটি ছক তৈরি করে। আপনি যদি থ্রিলারের ভক্ত হন, তাহলে স্বভাবতই ওই ধরনের পণ্যের প্রতি আপনার ঝোঁক থাকবে এবং বিষয়টি টুকে রাখা হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে এই ধরনের পণ্য আপনার সামনে হাজির করা যায়। শুধু তাই নয়, আপনি যে ধরনের ছবি বেশি দেখেছেন, সেগুলো আমলে রেখে, নতুন যে ছবি বা ধারাবাহিকটি দেখতে যাচ্ছেন সেটি কত শতাংশ আগের দেখাগুলোর সঙ্গে মেলে তার একটি ম্যাট্রিক্স তৈরি করে ফেলে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। ফলে আপনি যখন ‘নার্কোস’ শেষ করে ‘এল চাপো’ দেখতে যাবেন, তখন ‘এআই’ আপনাকে জানাবে এই ধারাবাহিকটি আপনার রুচির সঙ্গে প্রায় আটানব্বই ভাগ যায়। আপনি নিজের রুচির সঙ্গে মিল আছে দেখে সেটি দেখা শুরু করবেন। এখানেও কিন্তু সেই মান নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং এ্যালগোরিদম আপনাকে বলে দিচ্ছে কোনটি আপনার জিহ্বায় বেশি পরিমাণে বিদেশী লাগবে না।

ভাববেন না, আহা কি দারুণ একটি প্রোগ্রামিং, একেবারে আমার রুচি মনে রেখে আমার জন্য পছন্দসই খাবার এনে দেয়। মনে রাখা দরকার, এই এ্যালগোরিদমের মাধ্যমে ওটিটি আপনার জিহ্বাকে বিচিত্র স্বাদ থেকেও বঞ্চিত করছে। ধরুন, একটি ছবি, সেটি আপনার পূর্বে দেখা অন্য ছবির সঙ্গে কত শতাংশ মেলে, সেটি না জেনেই দেখতে শুরু করলেন এবং দেখা শেষে আবিষ্কার করলেন, এই ছবিটি আগে দেখা কোন ছবির ঘরানার সঙ্গে মিল নেই, তাতে কিচ্ছু যায় আসেনি, ছবিটিকে আপনার ভাল লেগেছে, তখন? তখন আপনি ভিন্ন কিছু আবিষ্কার করলেন আসলে। আলাদা জঁরায় প্রবেশ করলেন আপনি। ওটিটি অনেক ক্ষেত্রেই আমি বলব এই আবিষ্কারের পথটি সঙ্কুচিত করে ফেলেছে। আবার ধরুন নতুন ধরনের কিছু দেখে আপনার ভাল লাগেনি, এই ভাল না লাগার অভিজ্ঞতাও তো জীবনে জরুরী। তবে মানুষের কিছু স্বাভাবিক প্রবণতা আছে। সে সহজে অচেনা পথে হাঁটতে চায় না, অচেনা খাবারও মুখে তুলতে চায় না। এক ধরনের ভয় বা শঙ্কা কাজ করে। আর এই যুগে মানুষ যন্ত্রের মতো শুধু ছুটছে, তাই নিশ্চিত না হয়ে সে কোন কিছু পরখ করতে চায় না, অযথা যদি সময় নষ্ট হয়, এই ভীতি কাজ করে। এখন তো সময় হয়ে গেছে অর্থ। কাজেই কেউ আন্দাজে ঢিল ছুড়ে আর অর্থ বা সময় নষ্ট করতে রাজি নয়। অর্থাৎ এমনিতেই মানুষ ঝুঁকি নিতে ভালবাসে না, আর এই আধুনিক যুগে তো নয়ই। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান ব্যবসায়ীরা।

আপনার স্বাদ প্রথমে ঘনিয়ে তোলা হয় মানবিক প্রবৃত্তির ওপর ভর করে। এরপর সেই স্বাদ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা হতে থাকে, নিরলসভাবে। তারা চায় আপনি নাওয়া-খাওয়া-ঘুম বাদ দিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকুন। যত বেশি আপনি তাদের দুনিয়ায় সময় কাটাবেন ততোই তাদের লাভ। এটাকে ইদানীংকালে বলা হয় ‘এ্যাটেনশন ইকোনমি’। মনোযোগের অর্থনীতিতে মানুষের মনোযোগকে বিরল পণ্যের মর্যাদা দেয়া হয়, শুধু তাই নয়, এখানে মানুষের আচার-আচরণের তথ্যাদিকেও সমান গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ওটিটি ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো পয়সা কামাই করে। শুধু কি তাই? ক্যামব্রিজ এ্যানালিটিকসের নাম তো শুনেছেন নিশ্চয়! যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এই ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে মার্কিন ভোটারদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে তা তো আর কারও অজানা নেই। সবই ওই মনোযোগের অর্থনীতির খেলা। পুঁজিবাদী সমাজে আদতে আর কোন কিছুই বাকি নেই, যা পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, হচ্ছে না। সকল কিছুই এখন পণ্য, এমনকি মানুষের মনোযোগটাও। বিনোদন মানুষ চায়, সেটাকে ভিত্তি করে মুনাফাভিত্তিক এই সমাজে ব্যবসা হবে সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু এর ভেতর থেকেই মানুষকেই খুঁজে বের করতে হবে, কিভাবে সে আর ব্যবসার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। যেহেতু অধিকাংশ মানুষই গড্ডল, তাই রাখালের প্রয়োজন পড়ে। একটি সমাজে অন্তত একজন রাখাল থাকলেই পরিস্থিতি হয় তো পরিবর্তন করা সম্ভব। সে পর্যন্ত সবকিছু ডিঙিয়ে হাতের মুঠোয় আসা বিনোদন উপভোগ করুন। তবে চিন্তা সহকারে, প্রশ্ন সহকারে। নিষ্ক্রিয় ভোক্তা হিসেবে নয়।

প্রকাশিত : ৭ আগস্ট ২০১৯

০৭/০৮/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: