১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

কমলা রঙের রোদ

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৯
  • কাজী সুফিয়া আখতার

পাখির মত কলরব করতে করতে বছরের অধিকাংশ দিন রীনা, ফুলি, জ্যোৎস্না, রেখা ও হামিদা কলেজে যায়। একই গ্রামে বাড়ি। একজন আরেকজনকে ডেকে ডেকে নিয়ে যায়। ব্যাসডাঙ্গা গ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে কেশবপুরে কলেজ। পায়ে হেঁটে অথবা ভ্যানে চড়ে যাওয়া যায়। ওরা বছরের বেশির ভাগ সময় হেঁটেই যায়। ভ্যান সবসময় পাওয়া যায় না। আবার সকলের হাতে সবসময় টাকাও থাকে না। হাটের দিন তো ভ্যানে উঠে বসবার জায়গাও পাওয়া যায় না। বৃষ্টির দিনে স্কুলে যেতে আসতে ওদের অসুবিধাই হয়। ছাতা আছে সকলেরই। গ্রীষ্ম-বর্ষায় রোদ থেকে, বৃষ্টি থেকে একটু সুরক্ষা মেলে।

সবাই একসাথে যেতে পারলে অনেক সুবিধা। দীর্ঘ রাস্তা পারি দিয়ে স্কুলে পৌঁছাতে ভয় লাগে না। পড়া নিয়ে বা বাড়ির কোনো সমস্যা হলে আলাপ করে ভাল সুরাহা মিলে। ভাল মানে, ওদের মাথাতে যতটুকু ভাল বুদ্ধি আসে তার ভিত্তিতে সমাধান খোঁজা। মাঝে মাঝে আশেপাশে কেউ না থাকলে ভাল দুষ্টুমিও হয়। খোশ গল্পোও হয়। বাড়িতে তৈরি আচার, পিঠা খাওয়াও হয়। আজ শুধু হামিদা ও জ্যোৎস্না যাচ্ছে। গ্রামের প্রায় বাড়িতে ধান এসেছে। কারো মা একা ধান শুকানো ও ঝাড়ার কাজ সামাল দিতে পারবে না। চাচি, ফুপু সবাই ব্যস্ত। একজন যে আরেকজনকে সাহায্য করবে তার উপায় নেই। ধান লাগানো হয় যেমন একই সময়ে, ধান কাটার ধুমও পড়ে যায় একই সময়ে। ইচ্ছা থাকলেও একজন আরেকজনকে যতটুকু দরকার ততটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব হয় না। সেই সাথে প্রতি সংসারে নিত্যদিনের ধোঁয়া-পাকলা, রান্না-খাওয়ার কাজ তো আছেই। মেয়ে যদি মাকে একটু সাহায্য না করে তাহলে কি চলে। গ্রামের যে কয় পরিবার হাই স্কুলে, কলেজে মেয়েকে পড়তে দিয়েছেন সে তো ভালো শিক্ষিত পরিবারে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্যে। মেয়ে লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াবে এমন বাসনা অভিভাবকদের মনে উঁকি ঝুঁকি দিলেও শক্ত কোনো ঠাঁই গাড়তে পারেনি। এই কারণে বার্ষিক পরীক্ষা সামনে থাকলেও ওরা আসতে পারলো না। জ্যোৎস্না ও হামিদা’র ক্লাস পরীক্ষা আছে। তাই অনেক বলে কয়ে, যুক্তি-তর্ক করে কলেজের পথে যাত্রা করতে হয়েছে। তাতে একটু দেরিও হয়ে গেছে। দু’জনেই দ্রুত পা চালাচ্ছে। মুখে কথা নেই। একটু ভয় ভয়ও লাগছে। গ্রামের মানুষজন বাজারের পথে আগেই চলে গেছে। অনেকদূরে দু’একজনকে দেখা যাচ্ছে। ওরা ডাইনে-বাঁয়ে তাকিয়ে প্রতিদিনের বিরক্ত উদ্রেককারীদের আজ না দেখতে পেয়ে একটু খুশি হয়। কিন্তু মনের ভয় কাটে না। কখন যে কিভাবে মূর্তিমান গং উদয় হয় আগে থেকে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না ওরা। রাস্তাও একটা। দু’পাশে জমি। মাঝখানে সি এ্যান্ড বি’র মেঠো রাস্তা। প্রতিদিনই প্রায় এক মাইল পথ হেঁটে ওদের স্কুলে-কলেজে আসতে হয়। এতে ওরা ক্লান্ত হলেও স্কুল-কলেজ কামাই করার কথা ভাবে না। হামিদা ও জ্যোৎস্নার স্কুল ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো। এটুকু ওদের রক্ষা কবচ। তাও বাড়ি থেকে ক্লাস সেভেন/এইটে উঠার পর থেকে মাঝেমধ্যেই শুনতে হয় ‘আর স্কুলে গিয়ে কাম নাই। সংসারের কাজকামগুলো শিইখ্যা লও। নইলে পরের বাড়িতে গেলে কথা শুনতে হইব। বলবে মা কিছু শেখায় নাই।’ সে যখন বলবে তখন দেখা যাবে বলে ওরা এড়িয়ে যায়। কে জানে কোন কথা থেকে কোন কথা শুনতে হয়। শ্বশুর বাড়ি তো পরের অধ্যায়। বাপের বাড়িতেই তো মাঝেমধ্যে টাল সামলানো দায় হয়ে ওঠে। বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কেউ এলেই হয়। বাড়িতে যেন উল্লাস খেলে যায়। মনে যা-ই থাক, কথাবার্তায় ওদের খুব সতর্ক থাকতে হয়। সামান্য কথায় হাজার ছুতো ধরে, আবিষ্কার করে তারপর না স্কুলে যাওয়াই বন্ধ হয়ে যায়। ওদের তো বেশি কিছু চাওয়ার নেই। ভালোভাবে এস.এস.সি. পাস করে কলেজে ভর্তি হওয়া। কমপক্ষে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রীটা নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। নিজের ভাত-কাপড়ের ব্যবস্থা নিজে করা। পরিবারের উপর নির্ভরশীলতা কমানো। এটা তো কোনো বড় আশা নয়। তবু কেন যে এত বাধা আসে ভেবে পায় না ওরা! পরানের গহীন ভিতর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।

হামিদা ডানদিকে তাকিয়ে ধান কাটা হয়ে যাওয়া দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে পড়ে থাকা ধান কুড়াতে আসা গ্রামের ছেলেমেয়েদের দেখতে দেখতে একটু আনমনা হয়ে যায়। কারো চেহারা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। সোনা রং মাঠের পরে হরেক রঙের জামার কারণে হরেক আকৃতির রঙের মেলা। নিত্যদিনের দেখা প্রাকৃতিক এই দৃশ্য প্রতিদিনই হামিদার কাছে নতুন রূপে ধরা দেয়। আজো কী সুন্দর যে দেখতে লাগছে! বাংলাদেশের প্রকৃতি সব ঋতুতে অপরিসীম সৌন্দর্য বিলোয় অকৃপণ হাতে। শুধু আমরাই কৃতজ্ঞ চিত্তে তা দেখি না। হামিদা মনে মনে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানায়। বিধি রে, ও বিধি, সোনার বাংলায় জন্ম আমাদের; মানবজন্ম ধন্য আমাদের। পাড়ার মাস্তান ছেলেগুলোকে ভাল করে আমাদের স্বস্তিতে চলাফেরার পথ সুগম করে দাও, প্রভু। তার কবি জীবনানন্দ দাসের কথা মনে পড়ে। শুদ্ধতম এই প্রকৃতির কবি ঠিকই বলেছেন, বাংলার রূপ আমি দেখিয়াছি, পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে চাই না আর।

সামনের দিকে তাকিয়ে জ্যোৎস্না আঁতকে ওঠে-এ্যাই হামিদা, দেখ, সাইকেল আসতেছে। বলতে না বলতেই চারটে সাইকেল দ্রুত শা শা করে ওদের দু’জনের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওরা দ্রুত সরতে গিয়ে রাস্তার দু’পাশে, ঢালুতে পড়ে যায়। এক মিনিটের মধ্যে চার সাইকেল আরোহী কালাম, বিভাস, অরুণ, সাহেব, মফিজ ও শফিক ফিরে এসে ওদের সাইকেলে উঠে বসতে হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। কালাম হামিদাকে বলে- ব্যথা পাইছো, মেরি জান? আইজ আমাগো লগে চলো। রোজ রোজ স্কুলে যাওনের কি কাম? আইজ আমাগো লগে একটুস খানি গপ্পো করবা। আরেকজন বিভাস, জ্যোৎস্নার কষ্টে ভেসে গিয়ে বলে, দ্যাহি, দ্যাহি ডান পা’টা দ্যাহি। ইস্সিরে গোড়ালিতে চামড়া উইঠ্যা গ্যাছে দেহি! জ্যোৎস্না পায়ে হাত দিয়ে বসে ছিল। বিভাস পায়ে হাত দিতে গেলে এক ঝটকায় তাঁর হাত সরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। রাস্তায় উঠতে চেষ্টা করে। বিভাস পথ আটকে হাত ধরে। হামিদা, জ্যোৎস্না দু’জনেই হাত ছাড়ানের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা ও চিৎকার করতে থাকে। রাস্তার উপরে চার সাইকেল নিয়ে চারজন অপেক্ষা করছে। একটু দূরে বাজার ফেরত লোকজনকে এদিকে আসতে দেখা যায়। বিভাস বলে- এত ধস্তাধস্তি করতাছ ক্যান? চলো, মলম লাগায়ে দিবানে।

অরুণ বলে- বেইন্ন্যা বেলা বাড়ির থন ভাত খাইয়া বের হছ নাই? দু’প্যাকাটি তুইল্লা আনতে এতক্ষণ লাগে!

মফিজ দূরের দিকে তাকিয়ে হাট ফেরত লোকজনের দেখা পায়। বলে ওঠে- এ্যাই তোরা তাড়াতাড়ি ওগো লইয়া আয়। মাতব্বর চাচার ছোট ভাইরে দ্যাখলাম মনে অয়।

শফিক বলে- খাইছে। আই এক মিনিটের মইধ্যে হাওয়া হই যামু। তোরা দুইডা আইলে আইবি, না আইলে নাই। আই যামুগি।

এমন সময় শরীরের সমস্ত শক্তি জড়ো করে হামিদা কষে এক চড় লাগায় কালামের গালে। ঘটনার আকস্মিকতায় কালাম হতভম্ব। এত সাহস হামিদার তার গালে চড় বসায়! বিভাসও বিস্ময়ে ওদের দিকে তাকিয়ে নিজের অজান্তেই হাতের মুঠি আলগা করে দেয়। জ্যোৎস্না এক দৌড়ে রাস্তায় উঠে ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ বলে জোরে চিৎকার করে ওঠে। ইতিমধ্যে হাটের লোকজন আরো কাছে চলে এসেছে। চিৎকার শুনে তারা হাটার গতি বাড়িয়ে দেয়। বেগতিক দেখে কালাম ‘দ্যাইখ্যা লমু’, ‘এই চড়ের দাম তোরে দ্যায়ন লাগবো, কইয়া দিলাম’ বলে শাসাতে শাসাতে দ্রুত শফিকের সাইকেলে উঠে বসে। ধূলা উড়িয়ে চার মোটরসাইকেল দ্রুত হাওয়া হয়ে যায়।

হাট ফেরত লোকজনের দলটি কাছে এসে গেছে। দলের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ সোহরাব মুন্সি বলেন, বান্দরগুলান তোমাগো পিছনে লাগছে মনে অইলো? নাকের পানি চোখের পানি এক করে, দু’বার হিক্কা তুলে হামিদা বলে- হ, চাচা। আমাগো মোটরসাইকেলে তুইল্লা লইয়া যাইতে চাইছিল। রাগে অপমানে তার শরীর কাঁপছে। জ্যোৎস্নার অবস্থাও তথৈবচ। ছেলেগুলোকে কিছু উত্তম-মধ্যম দিতে না পারার অসহায়ত্ব তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে।

-গু-ামিকরণ ছাড়া এইগুলানের আর কুন কাম নাই। গেরামডারে জ্বালায়া খাইলো।

- একদম হাচা কতা। হারা দিনমান মোটরবাইকে টো টো কইরা ঘুইরা বেড়ায়।

- মাতব্বরের ভাইয়ের বেটারে দেখলাম মনে অয়?

- ঠিকই দেখচেন চাচা। হের লগে হারুন মিয়ার পোলাডা।

- হারুন মিয়া স্কুল কমিটির সদস্য না?

- হয়। তয় হের লগে পোলাডার অত বনিবনা নাই।

- তোমরা সাবধানে যাও। আমরা দেহি কি করণ যায়।

গ্রামের হাট ফেরত মানুষজনের দল ‘কী দিনকাল আইলো’ বলে স্বগতোক্তি করতে করতে চিন্তিত মুখে বাড়ির দিকে পা চালায়। গেরামের উঠতি বয়সী পোলাপানের ইসব খারাপ কা- কিরতির একটো বিহিত হওন দরকার বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন। আস্তে আস্তে সবার কথা শেষ হয়ে আসে। দূরের মাঠে মাঝে মাঝে গরুর হাম্বা হাম্বা রব, ধান কুড়ানি ছেলেমেয়েদের অস্পষ্ট কোলাহল ধ্বনি, বাতাসে গোত্তা খাওয়া চিলের ডাক ছাড়া আর কোনো শব্দ শোনা যায় না। অনেক উঁচুতে ঝা ঝা নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের সংসার নিঃশব্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মন্ত্রমুগ্ধের মত মাথার উপরে সূর্যের তাপ নিয়ে হাট ফেরত দল এগিয়ে যায়।

ওরা দু’জন হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে তড়িৎ গতিতে কলেজের দিকে রওয়ানা হয়। এতক্ষণে নিশ্চয় ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। দেরি করে কলেজে আসার জন্য ক্লাস স্যারের বকা আজো কপালে আছে। থাকুকগে। এতসব অপমান গায়ে মাখলে কলেজে আসা যাবে? পড়াশোনা ছাড়া ওরা বাঁচবে কি করে? একনাগাড়ে সাতদিন বাড়িতে থাকলে দম বন্ধ লাগে। মাথা ঝিম ঝিম করে। বাইবেলে না কি আছে ‘মূর্খের গান শোনার চেয়ে, জ্ঞানী লোকের ভর্ৎসনা শোনা ভাল।’ হামিদা নিজে নিজে অন্তরে শক্তি সঞ্চয় করে। উল্টো দিক থেকে একটা ভ্যান আসতে দেখা যায়। তাতে মরিয়ম আপা ও তার সহকর্মী বাদল সাহেব মনে হয়। কাছাকাছি আসতে দেখা যায় ওদের ধারণা সঠিক। দু’জনের মুখ খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মরিয়ম আপা তাদের গ্রামেই যাচ্ছেন। মহিলা সমিতি’র উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ। ভদ্রমহিলা এত ভাল যে সমিতি’র সকল সদস্যের পরিবারের সবাই কেমন আছেন নিয়মিত খোঁজখবর নেন। নিজের ছোট বোনের মত সবসময় ওদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। কোনো অসুবিধা হলে তাকে জানাতে বলেন। এগুলো তো তার সরকারি কাজের দায়িত্বের মধ্যে পরে না। এত আন্তরিক আর অমায়িক মানুষ খুব কম দেখা যায়। জ্যোৎস্না আর হামিদার দেখা পৃথিবী তো আরো ছোট। তারা এমন ধারা মানুষ দেখেছে বলে মনে পড়ে না। ভ্যান নিকটে আসতেই মরিয়ম আপা বলে ওঠলেন- এত দেরি করলে ক্যান? কলেজে ক্লাস তো শুরু হয়ে গেছে। যাও, তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে যাও।

ওরা লজ্জা পেয়ে হাসি দিয়ে কথা সারে। ভ্যান চলে যায়। বলবার মত কথা তো নেই। একদিন ওদের জীবন কী মরিয়ম আপার মত হবে? গ্রামে ঘুরে ঘুরে মহিলাদের, মেয়েদের উপকার করবে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়াবে। শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে, দক্ষতায় আত্মবিশ্বাসী নারী। ওরা তিতি বিরক্ত ঘটনার পরে ভিতরে ভিতরে তিরতিরে পানি স্রোতের মত উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠার প্রত্যয়ে আরো দ্রুত পা চালায়।

২.

ক্লাস পরীক্ষা ভালই হলো। স্কুলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলো না। বাড়িতে ফিরে বইখাতা টেবিলে রেখেই উঠোন থেকে আগলে করে ধান ঘরে তুলতে মাকে সাহায্য করতে লেগে যায় হামিদা। তার মুখ থমথমে। আজকের ঘটনা মাকে বলতে হবে। কিন্তু কিভাবে বলবে ভেবে পায় না। মা আজরা বিবি মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে- কি রে কিছু হইছে স্কুলে? - না, কি অইবো।

-তয় কলেজ থোন হয়রান হইয়া ফিরলি, হাত মুখ না ধুইয়া, ভাত না খাইয়া কামে লাইগা গেলি ক্যান?

- দ্যাখতাছো না সূর্য ডুবতাছে?

- ডুবুক। তুই খায়া আয়। রাইতে রান্ধনের সময় একটু হাত লাগাইছ। তাইলেই অইবো।

-অহন ভাত খাইতে ইচ্ছা করতাছে না। বলে ধান ভরা আগল নিয়ে হামিদা ঘরে যায়। আজকের ঘটনায় অপমানে তার শরীর এখনও জ্বলতাছে। ভিতর থেকে বারে বারে কান্না ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কান্না করলে বাড়ির সকলে এক শ’ একটা প্রশ্ন করবে। তখন হবে আরেক বিপদ। সহজ সমাধান খুঁজবে সবাই। মাইয়া ডাঙ্গর হইছে। বিয়া দিলেই তো সব লেঠা চুকে যায়। পড়ালেহা করতে দিয়া বদনাম কিননের কাম কি? যেই মেয়্যারা পড়ালেহা করতাছে না সেই মেয়্যারা এই বাজারে বিকাইতেছে না? ইত্যাদি ইত্যাদি হাজারো কথা। হামিদা হাতমুখ ধোঁয়ার জন্য পুকুর ঘাটে যায়। কিন্তু গোসল করে ঘরে ফিরে। জলে শরীর ডুবালে অপমানের জ্বালা একটু কমবে কি? যদি কমে, এই ভেবে মুখে পানির ঝাপ্টা দিতে দিতে পানিতে নামে। তার চোখের পানি পুকুরের জলে মিশে এক হয়ে যায়। মা তাকে দেখে আঁতকে ওঠে- সইন্ধ্যাডার সময় গোসল করলি কুন আক্কেলে? জ্বরটর অইলে বুজবি মজা।

- ঘাটে পা পিছলাইয়া পইরা গেছিলাম।

-ভাল কইরা চুল মুছবি। চুলে পানি যেন না থাহে।

হামিদা কোনো কথা বলে না। চুপচাপ ঘরে যায়। কাপড় বদলিয়ে হারিকেন ধরায়। কারেন্ট নাই। কখন যে আসবে ঠিক নাই। ক্ষুধায় পেট চো চো করছে। সেই কোন সকালে গরম ভাত খেয়ে কলেজে রওয়ানা দিয়েছে। কিন্তু খেতে একদম ইচ্ছে করছে না। সে খাটে শুয়ে পরে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পরে নিজেও টের পায় না।

মায়ের ডাকে ভাত খেতে উঠে দেখে সংসারে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। বাবা হাট থেকে ফিরে ভাত খেয়ে বারান্দায় বসে হুক্কা টানছেন। দাদি তার কোমরে গরম তেল মালিশ করে দেবার জন্য ফুফুকে ডাকছে। রাখাল গরুর টাগারিতে কাটা খড়, পানি দিতে দিতে গান ধরছে বিধি রে, ও বিধি... কোথাও কোনো ছন্দপতন নেই। হামিদা মুখ কালো করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভাতের লোকমা মুখে তোলে। মায়ের চোখে কিছুই এড়ায় না। কিন্তু সারাদিনের হাড় ভাঙ্গা খাটুনির পরে এত রাতে মেয়ের মনোকষ্ট নিয়ে কথা বলতে তারও ইচ্ছে করছে না। আগামীকাল সময় সুযোগ বুঝে জিগ্যেস করে জেনে নিলেই হবে। দু’জনে চুপচাপ খেয়ে ওঠে ।

৩.

মাতব্বরের কানে রাতেই ঘটনাটা পৌঁছায়। হাট ফেরত লোকের সাথে ছোট ভাই মামুন তো ছিলই। তয় সে কথাখান বড় ভাইয়ের কানে তুলেনি। তার সাথে রাতে দেখাও হয়নি। মুন্সি চাচা সন্ধ্যায় যশোর যাওনের সময় কেশবপুরে মাতব্বরের সাথে দেখা। এক ঘর লোকের সামনে তখনই সবিস্তারে ঘটনা বয়ান করে। এর একটা বিহিত হওন দরকার সে কথাও জানাতে ভুলে না। তারপর যশোরের বাস ধরে। অনেক রাতে বাড়ি ফেরার কারণে মাতব্বর জসিমউদ্দিন এ নিয়ে আর উচ্চবাচ্য করেননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে দরজায় দাঁড়িয়ে-কালাম, কালাম বলে হাক পারেন। গলার স্বরে রাগ ঝরে পড়ে। উঠোনে ধান সিদ্ধ করার কাজ তদারকি করতে ছিল জমিলা। ভাশুরের মুখে সাত সকালে ছেলের নাম শুনে প্রমাদ গুণেন। আবার কি কান্ড বাধাইছে পোলাডা, কে জানে! এত বকাবকি করে কোনো ফায়দা হচ্ছে না। সারাদিন শুধু মোটরবাইকে বন্ধুগো লগে ঘোরাঘুরি। কলেজে ভর্তি হইছে ক্লাস করে না। বাপের লগে দোকানে বইলে তার মান যায়। ভাইয়ের বেটার খোঁজ করতে তাই ছোট ভাইয়ের বৌ চিন্তিত মুখে এগিয়ে আসে। - কি হইছে ভাইজান, হেরে ডাকতাছেন ক্যান? হেয় তো অহনো ঘুম থেইক্যা উডে নাই।

- নবাব পুত্ররে উডাও, তার চান মুখখান একবার দেহি। তার কুকর্মের জ্বালায় আমার তো গ্রামে মুখ দেহানের উপায় নাই। পেরতেক দিন একটা না একটা নালিশ লাইগ্যাই আছে।

কালামরে ডাকতে কাছারি ঘরে দিকে নিজেই যায় জমিলা। ভিতর বাড়ির দিকের দরজায় ধাক্কা দেয়। দরজা খোলে না। জমিলা জোরে জোরে নাম ধরে ডাকে। গোয়ালঘর থেকে গরু নিয়ে হেট হেট করতে করতে বাড়ির রাখাল খালেক মাঠে রওয়ানা দেয়। কি ভেবে পিছন ফিরে তাকাতেই দেখে কাছারি ঘরের বাইর দিকের দরজা খোলা। সে বলে- ও চাচি কালাম ভাইজান মুনে লয় ঘরে নাই। দরজা দি খোলা।

জমিলা বাইরের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে দেখে খালেকের কথা সত্যি। বিছানা খালি। কালাম আগেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে। সে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কি বলবে গিয়ে এখন ভাশুরকে? যে ছেলে সকাল বেলা দশটা না বাজলে ওঠে না, সে আজ সাড়ে সাতটা না বাজতে পগার পার! বড় ঘটনা ঘটাইছে।

বড় কাকার চিৎকারে কালামের ঘুম ভেঙ্গেছে। প্রথমে মনে করতে না পারলেও পরে গতকালের ঘটনা মনে পড়ে। সে শঙ্কিত হয়। কত্ত বড় সাহস! তার নামে বাড়ি বইয়া আইসা নালিশ। এর একটা বিহিত করন লাগবো। তারপর চটপট বিছানা ছেড়ে উঠে বাজারের দিকে হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতেই মোবাইলে বন্ধুদের দ্রুত বাজারে ওদের নির্দিষ্ট চায়ের দোকানে আসতে বলে। চায়ের দোকানের মালিক শরিফ কালামকে দেখেই মুখ কালো করে। কিন্তু হাসি মুখেই বলে- আইজ এত সকাল যে? কালাম কিছু বলে না। দোকানে ভিতরের দিকের একটি খালি টেবিলে গিয়ে বসে। পাঁচজনের জন্য পরোটা, ডিম ভাজা ও চায়ের অর্ডার দেয়। শরিফ মৃদু স্বরে বলে, আগের কিছু টাকা বাকি ছিল? বিরক্ত কণ্ঠে কালাম বলে, দিয়া দিমু নে।

- অনেকদিন হয়া গেল..

সবাই প্রায় একসঙ্গে দোকানে ঢোকে। নাস্তা খেতে খেতে কালামের মুখ থেকে সব শুনে। তারপর আজকের বিলটা খাতায় লিখে রাখতে বলে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে উড়িয়ে চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে বাজারের দক্ষিণ পাশে স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে গিয়ে ঢোকে। শরিফ মনে মনে গালি দেয়। কিন্তু মুখে বলে- ঠিক আছে। সাধন বাবু দোকান খুলে ধূপ-ধুনা জ্বালিয়ে সবে মাত্র ক্যাশ বাক্স নিয়ে বসেছেন। দু’জন কর্মচারী নতুন গয়নার ডিজাইন বানাতে ব্যস্ত। ওদের চাহিদা শুনে প্রথমে নাই, দিলে পুলিশ ধরবে ইত্যাদি নানা কিসিমের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত নগদ টাকা নিয়ে ছোট এক বোতল দিতে বাধ্য হন। বাজার ভালই মিলে গেছে। দু’একজন ছাড়া ওদের দিকে তাকানোর ফুরসৎ এখন কারো নেই। ওরা এদিক- সেদিক তাকিয়ে একে একে দোকান থেকে বেরিয়ে কলেজের পাশে কোচিং সেন্টারের কাছাকাছি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে ইতিউতি তাকাতে থাকে। হামিদা কোচিং সেন্টার থেকে বেরুতেই কালাম এসিড ছুড়ে মারে। তারপর দৌড়ে পালিয়ে যায়। হামিদা- ও মাগো, জ্বলে গেলাম গো; বলে চিৎকার করতে থাকে। তার পাশে ছিল জ্যোৎস্না। ছুড়ে মারা এসিড তার গলায়, হাতেও লেগেছে। সেও চিৎকার করছে। কোচিং-এর সবাই বেরিয়ে এসে ওদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। অনেক পানি হামিদার মুখে ঢালা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। অনেক গভীরভাবে মুখের একপাশ পুড়ে গেছে। বা চোখ সম্ভবত নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে বার্ন ইউনিটে ভর্তির জন্য ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। অন্য মেয়েরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। সাহায্য চায়। রেখা ঢাকাতে মরিয়ম আপাকে ফোন করে সব ঘটনা জানায়। তিনি তাদের পাশে আছেন এবং সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন।

পরদিন হামিদার সাথে মরিয়ম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা করেন। তাঁকে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত¡না দেবার চেষ্টা করেন। হামিদার মাও মেয়ের সাথে এসেছেন। তিনি গুমরে গুমরে কাঁদেন আর বলেন- মাইয়ার জীবন শ্যাষ। ক্যান যে মাইয়ারে পড়ালেখা করাইতে গেছিলাম। মরিয়ম চুপচাপ শুনে যান। এই মুহূর্তে এসব কথার উত্তর দেয়া বাহুল্য। তিনি হামিদার বাবার সাথে কথা বলেন। কীভাবে মহিলা অধিদপ্তর নারী নির্যাতন সেল থেকে মামলা পরিচালনা এবং চিকিৎসা খরচের আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে তা বাতলে দেন। পরের দিন ইস্কাটনে মহিলা অধিদপ্তরের অফিসে এসে তার সাথে দেখা করতে অনুরোধ করেন। হামিদার বাবা এত দুঃখের মধ্যে মরিয়ম আপার আন্তরিকতা দেখে অভিভূত হন। হামিদা অনুচ্চারিত স্বরে কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলে লোকে যাই বলুক সে অপরাধীদের শাস্তি চায়। কাজেই মামলা দায়ের করতে বাবাকে জোর করে।

এই ঘটনায় থানাতে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর পরই সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। তবু ঘটনার দু’দিন পরে পুলিশ অরুণ, বিভাস ও শফিক এই তিনজনকে তিন জায়গা থেকে এ্যারেস্ট করে। মফিজকে দুই মাস পর টাঙ্গাইলের এক গ্রাম থেকে ধরা হয়। কালাম কোথায় পালিয়ে যায় কেউ জানে না। বাড়ির লোকও তার কোনো হদিস সত্যি সত্যি দিতে পারে না। পোলাডা সত্যি সত্যি দেশান্তরি হইয়া গেল। কুনে গেল! মা চোখের জল ফেলে সকলকে লুকিয়ে রান্না ঘরে। কেউ দেখলে আবার বলবে- এমুন পুতের জন্যি কেউ চোখের পানি ফেলায়? আমি হইলে তো নিজেই মাইরা ফেলাইতাম। মাতব্বর চাচা জসিমউদ্দিন আগের চেয়ে আরো গম্ভীর হয়ে গেছেন। তবে তিনি আইনের পক্ষে। কালামের কোনো খবর পেলে পুলিশকে জানাবেন বলেছেন। তিনি স্ব উদ্যোগে গ্রামের মানুষদের নিয়ে মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথ নিরাপদ করতে শুক্কুর বার বাদ জুমা ঈদগাহ মাঠে সভা ডাকছেন। একটা সমাধান তো করা লাগবে। এই ঘটনার পর পটাপট কয়েকটি মেয়েকে গার্জিয়ানরা মেয়েকে অন্যত্র নিয়ে বাল্যবিবাহ দিয়ে দিয়েছেন। এদের মধ্যে রেখা ও ফুলিও আছে। এরকম হলে তার তো মান থাকবে না। এটা তো অসভ্য মানুষের গেরাম না। তিনি এই অবস্থার একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান।

জ্যোৎস্না, হামিদা কারো পরীক্ষা দেয়া হলো না। স্কুলে যাওয়া বন্ধ। জ্যোৎস্না ঘরের কাজকর্ম করে। প্রাইভেটে পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরীক্ষা দেয়ার আগেই দ্বিগুণ যৌতুকে তার বিয়ে হয়ে যায় পাশের গেরামের ব্যবসায়ী ছেলে গৌরহরি’র সাথে। শুনে হামিদার মা-মেয়ের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, আর বলেন, মুখপুড়িরে কে বিয়ে করবে? এমন মেয়েকে পেটে ধরলাম।

প্রায় এক বছর পর কালাম জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ধরা পড়ে। মালয়েশিয়া যাওয়ার খবর জসিমউদ্দিন মাতব্বর পুলিশকে জানায়। আদালতের রায়ে তার যাবজ্জীবন জেল হয়েছে। নারী অধিকার আদায়ের সংগঠন নারী পক্ষে’র নাসরিন হক অনেকদিন ধরে এসিড বার্ন মেয়েদের নিয়ে কাজ করছে। তাদের উপযুক্ত কাজের ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সদা তৎপর। মরিয়ম তাকে হামিদার জন্যে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ করে দেবার জন্য অনুরোধ করে। হামিদা বারে বারে ঢাকা আসে। উন্নত চিকিৎসা ও পড়ালেখার ব্যবস্থা করে দেবার জন্য এই কাগজ সেই কাগজে নাসরিন এবং মরিয়ম আপার নির্দেশ মত স্বাক্ষর করে। অপেক্ষায় থাকে উড়োজাহাজের টিকেটের জন্য। অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে হতাশা বাসা বাধে মনে। সময়ে সময়ে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা জাগে। মা মুখে যা-ই বলুক তার প্রতি ঈগলের চেয়েও প্রখর দৃষ্টি রাখে। তার চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মহত্যা সম্ভব না। আর কেনই বা আত্মহত্যা করবে সে? সবাই তাকে এতো ভালোবাসে। সে তো দোষ করেনি। বৃথা নিজেকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কেন নিজেকে শাস্তি দেয়া। সে আবার পড়ালেখা শুরু করবে বলে প্রতিজ্ঞা করে। কাল জ্যোৎস্না এসেছিল। নানা গল্প করলো। একসময় বললো সে মা হতে চলেছে। এবং সে একটি মেয়েই চায়। মেয়েটিকে সে স্বাধীনভাবে বড় করবে। হামিদার ভালো লাগে তার কথা। এই তো হওয়া উচিত সকলের মনোভাব। সে সাহস পায় মনে।

শীতের শেষে এক বিকেলে মরিয়ম আপা তাদের বাড়ি আসে।

- ও খালাম্মা, মিষ্টি খাওয়ান। সুখবর আছে।

- মস্কারি করো মাইয়া? মুখপোড়া মাইয়ার বিয়া হয়?

মরিয়ম আপা হাসতে হাসতে নেদারল্যান্ডস যাওয়ার চিঠি মায়ের হাতে দেন। চিঠিতে কি লেখা আছে পড়ে বুঝিয়ে বলেন। আগামী সপ্তাহে হামিদাকে উন্নত চিকিৎসা ও লেখাপড়ার জন্য নেদারল্যান্ডস চলে যেতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক। টিকেট এসে গেছে। ভিসা হয়ে গেছে। মায়ের চোখ জলে ভরে ওঠে। মরিয়ম তাঁকে জড়িয়ে ধরে। হামিদা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে কমলা রঙের রোদ উঠোনময় ছড়িয়ে আছে।

প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৯

৩১/০৫/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

ঈদ আনন্দ সংখ্যা ২০১৯



শীর্ষ সংবাদ: