৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

কবিতা

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৯

যুগপৎ আনন্দ- বিষাদ

হাসান হাফিজ

সবচেয়ে সুফলা সময় কোন্টা?

জাতীয় জীবনে?

একাত্তর রক্তজ্বলা একাত্তর

অধিকৃত স্বদেশের প্রতি প্রান্ত

বারুদে স্পর্ধায় ক্রোধে তরঙ্গিত

একইসঙ্গে অদম্য অপরাজেয়

হয়ে উঠেছিল,

হয়ে উঠতে পেরেছিলÑ

অন্য কোন সময়ের এতটা গৌরব নেই

অন্য কোন সময়ের এত শ্লাঘা পরিতৃপ্তি নেই

সবচেয়ে ব্যথিত বেদনাবহ

কোন্ সে সময়?

উত্তর সকলে জানি। একাত্তর। একমাত্র একাত্তর।

অনন্ত কষ্টের নাম অমেয় আনন্দ নাম

একাত্তর, পুষ্পিত লাঞ্ছিত

আনন্দ ও বিষাদেরই নাম ॥

** একাত্তরের রূপকথা

নাসির আহমেদ

একটা রূপকথার গল্প শুনতে শুনতে আমার মেয়েটি

ঘুমিয়ে পড়েছে, তার শান্ত¯িœগ্ধ মুখে কী নিবিড় প্রশান্তি

জোছনারাতে একাত্তরে কীভাবে দৈত্যের সঙ্গে যুদ্ধ

মানুষের, সেই গল্পশেষে বিজয়ের আনন্দেই তৃপ্ত ওর কচিমুখ।

সেই যে আশ্চর্য এক অবিনাশী ইতিহাস এবং সময়

সেই সময় থেকে কত দূরে চলে এসেছি আমরা

কী বীভৎস অন্ধকারÑ শেষে একযোগে জ্বলে উঠেছিল

জোছনা আর জোনাকিরা! সেই সময় কোথায়!

এখন কোথাও কেউ জ্যোৎ¯œা আর জোনাকির দেখা

পাচ্ছে না। ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে আলোকিত

নির্বাচিত কয়েকটি অধ্যায় ঘাতকেরা ছিঁড়ে ফেলেছে

আমি কী করে এই দুঃসময়ের গল্প শিশুকে শোনাই।

আমি আতঙ্কিত এই ভেবেÑ যখন প্রশান্ত মুখ

এই শিশু জেগে উঠবে এবং জানবে অন্ধকার

কীভাবে খাবলে দিয়েছে তার পিতৃপুরুষের গর্বিত মুখ

তখন কীভাবে তাকে আমি একাত্তরের রূপকথা শোনাবো।

জানি কোনো অন্ধকারই চিরস্থায়ী হতে পারে না কখনো

আলো আসবেই, তবে তার আগে চাই অন্ধকার তাড়ানো প্রস্তুতি।

** মার্চের চরণ

মারুফ রায়হান

চুকনগরের কৃষককে আমি চিনি

একাত্তরে যাঁর লাঙলের ফলা

রূপান্তরিত হয়েছিল রাইফেলে

তাঁর দশ আঙুলই তো মাটি চিরে

বের করে আনতো ধান

সাবধান

তাঁকে অসম্মান কোরো না

ভুলেও যেও না দিতে তাঁকে যোদ্ধার সনদ

আমি জামিরার জেলেটিকেও স্মরণে রেখেছি

একাত্তরে তাঁর জালে সরপুঁটি আর খোলসের বদলে

ধরা পড়েছিল ঝাঁকেঝাঁক

খানসেনা আর রাজাকার

খবরদার

তাঁকে ভাতাটাতা দেবার ধৃষ্টতা কোরো না

বাংলার কৃষকজেলেমুটেমজুর

যাঁরা জান বাজি রেখে লড়েছিল

আর যাঁরা কখনো পাতেনি হাত দুটো টাকা বা সনদের জন্যে

পারলে তাদের আজ জানাও অভিবাদন

পারলে মাথায় তুলে রাখো

গ্রামবাংলার সত্যিকার ছবি আঁকো...

** চৈত্র-বসন্ত

আইউব সৈয়দ

চৈত্র গান গায় সুশোভিত উচ্ছ্বাসেতে কবিতাও লেখে

সূত্র মেনে, মাঝেমধ্যে হামাগুড়িতে ঘোরে সংস্কৃতির ঋতুতে;

চিত্রায়ণ করতে থাকে নীলিমার রূপসজ্জা। শখ-আহ্লাদ হিসেবে

সযতেœ বুনেগ্রামীণ শৈশবের প্রমিত জ্যোৎস্না।

ইদানীং ঢোলের কম্বিনেশনে পিপাসা বিলায় পাশাপাশি রঙ মেখে

ছুটে যায় রবীন্দ্রনাথের কাছে। দীর্ঘায়ত স্পর্শ গুণে

রচনা করে আপন আলিঙ্গন নামকীর্তনে আস্থা

রেখে স্ব-গৌরবে ওড়ায় অভিজ্ঞতা; চৈত্র- বসন্ত

সামাজিক রোদ খুলে আহা! তাক করে মহিমা ঈপ্সিত

প্রবাহধারা শরীরদর্শনে যেন পালক মেলে

** হালখাতা

রেজাউদ্দিন স্টালিন

সুশীল সমাজের নেতা

আর তার সংস্কৃতিমনা মেয়ে

সাথে ব্রিটিশ স্বামী

বৈশাখী উৎসবে বক্তৃতা করলেন

বিষয়-ঐতিহ্য রক্ষা ও হালখাতা

মেয়েটি গাইলো-এসো হে বৈশাখ

নেতা পরেছেন খদ্দর

আর মেয়েটি তসর

সদ্য বিদেশ থেকে আনা

** তৃতীয় বাংলা

কে আর কাজী ওবিই

এখানে আছে

রাজা রামমোহনের সমাধি সৌধ

অন্নপূর্ণা বাংলা টাউন

গঙ্গা রেস্তরাঁ, মধুর ক্যান্টিন,

বাংলা টিভি, শহীদ মিনার।

আরও আছে বিপণি বিতান

শাড়ি, পাঞ্জাবি, চুড়ির দোকান,

মুদি দোকানে কালিজিরা চাল,

মাছ বাজারে ফ্রোজেন ইলিশ,

ফেরিওয়ালার পান-সুপারি,

ময়রার দোকানে গুড়ের সন্দেশ।

এখানে অনুষ্ঠিত হয়

বিচিত্রানুষ্ঠান, নাটক, নববর্ষ, বইমেলা,

কবিতার আড্ডা, সাহিত্য সভা,

পিঠা প্রদর্শনী, কাবাডি খেলা।

কী আশ্চর্য

ছোট্টশিশু স্বাধীনবারী

লাল-সবুজের পতাকাধারী

বিলেত থেকে খোঁজে স্বদেশ

সোনার বাংলা, বঙ্গদেশ।

অবশেষে পেল দেখা

টি-শার্টে আঁকা

স্বপ্ন সাধের বাংলাদেশ।

** দীর্ঘায়িত দুঃখগুলো

মিলু শামস

গভীর রাতে

নির্জন সৈকত ধরে

বাড়িটি হেঁটে এসে বসে

জানালায় বেড়ে ওঠা

সোনালি অর্কিডের পাশে;

আকাশে কারও কারও ছায়া

দীর্ঘতর হয়ে নুয়ে পড়েÑ

ছুঁয়ে দেয় তার কপাল

ঘাড়ে রাখে হাত

চিবুক স্পর্শ করে হয় বহতা নদী।

বহুদূর থেকে ভেসে আসে

বর্ষণ ক্লান্ত উঠোনের ডাক,

বাড়িটি আঁচল বিছিয়ে দিলে

সবুজ গাছেরা সাজাতো

ঘরকন্নার আসর

ভোরের সূর্যের মতো

প্রসন্ন উঠোনে

কোনো এক কালে।

বহুরূপী হেঁটে এতদূর এসে

বাড়িটি নীলকণ্ঠ হয়

বিন্দু বিন্দু গরল উপচে পড়ে তার

ভাঁড়ারের আসবাবে

মাটির ঘড়া

কাঁসার পেয়ালা ও থালায়।

** সাধু অগাস্টিন ও তুমি

শাহীন মাহমুদ

তুমি যা বলছো তা শৃঙ্খলা বিহীন-আরোপিত

ক্ষমতায় টিকে থাকার বৈধতা অর্জনের উপায় মাত্র

শূন্যগর্ভ শব্দক্রিয়াতে ভরিয়ে দিতে চাও? দিতে পারো

তা হবে নমস্য।

চেতনার রক্ষণশীলতায় লুকালে আবার

উত্তর বায়ুবেগ পিছু ফেলে অন্তহীন অধিবিদ্যার মাঠে।

তোমাকে নিয়ে বসে আছি রাতদুপুরে

টেক্সট থেকে কনটেক্সটে।

সহস্র আঁধার ঘেঁটে তুলে আনা এক আলোকবর্ষের দয়িতা

তুমি তো জানো শব্দক্রিয়ায় সাধুর সমাধিতে অনন্তকাল

শুধু তোমার জন্য অগাস্টিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

** ধরো

লুৎফুল হোসেন

শিশিরের মতো বিন্দু বিন্দু হয়ে

ঝরে পড়ছি অদেখা মাটির গায়ে

বিছিয়ে থাকা ঘাসেদের শরীরে;

এরচে’ মিহি মুক্তো স্বেদ হয়ে জমতাম-

নোনা দেহে ছড়ানো ক্লান্তি ছুঁয়ে;

আগন্তুক নয়, অন্তর্গত এক শিকড়,

আমি নয় অংশ হতাম অন্য কারো;

আমাদের অস্তিত্ব অঙ্গাঙ্গি মিশে

গড়ে তুলতো অনঙ্গ আসমানী ঘর।

** বসন্ত বাতাসে ওড়ে

চঞ্চল শাহরিয়ার

বসন্ত বাতাসে ওড়ে কার যেন শাড়ির আঁচল

কেউ যেন দিয়েছিল আবীর মাখানো দিন।

আমি তার খোঁজ নিতে পুকুরের পাড়

রেললাইনের ওপারের দেবদারু ছায়া

মোটেলের বারান্দায় দেখা কল্যাণী দিদির কাছে

গচ্ছিত রেখেছি শৈশবের যতো গান।

তবু তার শাড়ির আঁচলে আমি বঁাঁধতে পারিনি

কুসুম কুসুম প্রেম। চন্দ্রমল্লিকার বনে রোজ

দিয়ে আসি প্রার্থনার সবটুকু সবুজ চাওয়া

তবু আমার হলো না দেখা চাঁদ মুখখানি।

বসন্ত বাতাসে ওড়ে কার যেন শাড়ির আঁচল

কেউ যেন আড়ালেই রেখে দেয় পেয়ে হারানোর দিন।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৯

২৬/০৩/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

স্বাধীনতা দিবস বিশেষ আয়োজন ২০১৯



শীর্ষ সংবাদ: