৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

আধুনিক জীবনে মেট্রোরেল

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৯
  • তৌফিক অপু

শহর থেকে গ্রাম কিংবা গ্রাম থেকে গঞ্জে এখন যেন চাইলেই ছুটে যাওয়া যায়। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে আমূল পরিবর্তন এসেছে যোগাযোগের বাহনগুলোতে। একটা সময় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে অনেক হিসাব-নিকাশ করে পথে পা ফেলতে হতো। আর এখন রাত দিন চব্বিশ ঘণ্টা যখন খুশি মিলবে বাহন, পৌঁছে যাওয়া যাবে গন্তব্যে। এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সত্যিই চোখে পড়ার মতো।

যোগাযোগের উৎকর্ষতায় যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে জীবনগতি তেমনি বেশ কিছু সমস্যারও উদ্রেক ঘটেছে। গ্রাম থেকে প্রচুর পরিমাণে মানুষ হয়ে পড়েছে শহরমুখী। যার ফলে শহরে বাড়ছে মানুষের চাপ, আর এ চাপ সামলাতে বেড়েছে যানবাহন। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি এবং যানবাহন এ দুয়ে মিলে সৃষ্টি করছে যানজটের। কমিয়ে দিচ্ছে ছুটে চলার গতি। রাজধানী ঢাকার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে পুরো একটা দিন চলে যায়। অথচ গতিময় জীবনে যা হওয়া উচিত ছিল মাত্র এক ঘণ্টার। অনেকের মতে ছোট্ট এ শহরে তো এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যেতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগার কথা, অথচ সেখানে লেগে যায় সকাল থেকে সন্ধ্যা। যা সত্যিকার অর্থেই বিরক্তির কারণ। নগরবিদদের মতে, পর্যাপ্ত রাস্তার অপ্রতুলতা, ভাঙ্গা সড়ক, অপ্রশস্ত সড়ক, যেখানে সেখানে পার্কিং, এবং রিক্সার অবাধ যাতায়াত যানজটের অন্যতম কারণ।

ঢাকাকে রিক্সার রাজধানী নামেও পরিচিত। এখানে গড়ে প্রতিদিন চার লাখ রিক্সা চলাচল করে। যদিও সরকারী হিসাবমতে মাত্র ৮৫ হাজার রিক্সার নাকি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে একটা সুখবর হলো কিছু বড় রাস্তায় রিক্সা চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তারপরেও কমতি নেই যানজটের। তবে সুখবর হলো যানজট নিরসনে বেশকিছু উদ্যোগ মানুষের মনে প্রশান্তি যুগিয়েছে। এর মধ্যে ফ্লাইওভার, শাটল ট্রেন, মেট্রোরেল, ফোর লেন অন্যতম।

প্রসঙ্গ মেট্রোরেল

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়াল সড়কের চাইতে মেট্রোরেল ও বিআরটি প্রকল্পের বেশি সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ। তাছাড়া যানজট এড়াতে মেট্রোরেলের কোন বিকল্প নেই। এই প্রকল্পটিই হবে যানজট নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাজধানীর যানজটের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) অনুযায়ী প্রস্তাবিত সব কটি মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের।

রাজধানীর প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কে এখন প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান। যানজট নিরসনে আশা জাগানিয়া মেট্রোরেলের দ্বিতীয় অংশের কাজও চলছে সমানতালে। চূড়ান্তও হয়েছে প্রকল্পের কোচের ডিজাইন। সে মোতাবেক জাপানের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কারখানায় লোকোমোটিভের রেপ্লিকা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশ ও আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা। কাজ শেষ হলে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে বিদ্যুতচালিত এই ট্রেনে। চলতি বছরের শেষেই দেখা যাবে রাজধানী শহরে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতি সম্পন্ন সবচেয়ে দ্রুতগতির ট্রেনের চলাচল।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেট্রোরেলের কাজের কারণে যানজট বেড়েছে। সরু হয়েছে বিভিন্ন এলাকার সড়ক। শতাধিক বাসের চলার পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামীতে আরও কিছু রুটে বাস চলাচলে পরিবর্তন আনা হবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজের কারণে কিছুটা জনদুর্ভোগ হলেও তা সাময়িক। প্রকল্পের কাজ যত দ্রুত শেষ হবে ততই দুর্ভোগ কমে আসবে। বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায়, সেগুলোকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প’ হিসেবে ঘোষণা করা করেছে। ২০১২ সালে এমআরটি-৬ বা মেট্রোরেল প্রকল্প নেয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিশেষ উদ্যোগে সংশোধিত পরিকল্পনা নেয়া হয়। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা ২০১৯ সালের জুনে। চালু হওয়ার কথা ওই বছরের ডিসেম্বরে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা প্রকল্পে উল্লেখ রয়েছে।

উত্তরা থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর পর্যন্ত ২০ কিমি দীর্ঘ মেট্রোরেলের-৬ রুটের নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্পের সহায়তা হিসেবে জাইকা দেবে প্রায় ১৬ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ এলিভেটেড রুটের মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন থাকবে। প্রতিঘণ্টায় উভয় দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মেট্রোরেল রুট-৬ এর পাশাপাশি আরও দুটি রুট নির্মাণের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মেট্রোরেল রুট-১ (এমআরটি-১) হচ্ছে গাজীপুর থেকে ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত ৪২ কিমি দীর্ঘ। প্রথম পর্যায়ে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত হতে পূর্বাচল পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটারের কাজ করা হবে। ২০১২ সালে এমআরটি-৬ বা মেট্রোরেল প্রকল্প নেয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বিশেষ উদ্যোগে সংশোধিত পরিকল্পনা নেয়া হয়। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা ২০১৯ সালের জুনে। চালু হওয়ার কথা ওই বছরের ডিসেম্বরে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা প্রকল্পে উল্লেখ রয়েছে।

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলের অবকাঠামো নির্মাণকাজ (গ্রাউন্ড ব্রেকিং) শুরু হবে মার্চের শেষের দিকে। ২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ আংশিক সম্পন্ন হবে। আর ২০২১ সালে ঢাকাবাসী মেট্রোরেলে চড়ার সুযোগ পাবে।

কেমন হবে এই রেল? কী কী সুবিধা থাকছে এতে?

কামরাগুলো কেমন হবে?

সব কামরাই বেশ চমৎকার দেখতে হবে। মেট্রোরেলের প্রতিটি কামরা হবে সুপরিসর। সেখানে যাত্রীদের জন্য থাকবে আরামদায়ক আসন। প্রতিটি কামরা হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

ট্রেন কতক্ষণ পর থামবে?

ট্রেনে ওঠা-নামার সুবিধার্থে প্রতিটি স্টেশনে থাকবে সুপরিসর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন এসে দাঁড়াবে।

ভাড়া আদায় করা হবে কিভাবে?

মেট্রোরেল ব্যবস্থায় যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনে প্রবেশের সময় মেশিনে ভাড়া সংগ্রহ করা হবে। স্বয়ংক্রিয় কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করবেন যাত্রীরা।

ঘণ্টায় কত যাত্রী বহন করবে?

ঘণ্টায় ঢাকার দুই প্রান্তের ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হবে এই ট্রেন। যাত্রাপথে উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, টিএসসি, প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করবে।

রাস্তার কোন্ পাশে হবে লাইন?

মূল রাস্তার মাঝ বরাবর মেট্রো রেলের রাস্তা নির্মিত হবে। যানজটে যাতে না হয়, সেভাবেই রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রায় এক কোটি ৪৫ লাখ লোকের বসবাস রাজধানী শহর ঢাকায়। বিপুল এ লোকজনের শহরে যানজট নিরসনে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা তথা স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

এ পরিবহন পরিকল্পনার আওতায় ডিটিসিএর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হতে যাচ্ছে মেট্রোরেল ব্যবস্থা। ২০.১ কিলোমিটারব্যাপী একটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাপান সরকারের দাতা সংস্থা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার সঙ্গে এক ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের সরকার।

২০২১ সাল নাগাদ মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শেষ হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ হবার পর এটি ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

জাইকার সঙ্গে এই চুক্তির মধ্য দিয়ে কার্যত শুরু হলো বহুল আলোচিত মেট্রোরেল স্থাপনের কার্যক্রম।

প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।

চুক্তি অনুযায়ী, জাইকা প্রকল্পের ৮৫ শতাংশ ব্যয় অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা দেবে কয়েক ধাপে। এর মধ্যে প্রথমধাপে জাইকার কাছ থেকে পাওয়া যাবে ১০১৮ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ দিয়ে জানা যায় যে জাইকার কাছ থেকে প্রথম ধাপে পাওয়া অর্থ মূলত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ব্যয় করা হবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত ডিজাইন ও পরিকল্পনার কাজটি করবে। আগামী জুনের মধ্যেই আশা করা যায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ চূড়ান্ত করা যাবে। এরপরে আরেকটি চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে ২০.১ কিলোমিটারব্যাপী এই রেলপথে ১৬টি স্টেশন থাকবে।

বলা হচ্ছে, ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকার বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামলাতে মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহনই হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা।

মেট্রোরেল প্রতি ঘণ্টায় ৬০,০০০ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ফলে মেট্রোরেল স্থাপিত হলে রাস্তায় যাত্রী এবং পরিবহন উভয়ের ওপরই চাপ কমবে।

পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবার পর মোট ২৮ জোড়া মেট্রোরেল চলাচল করবে রাজধানীতে। রাস্তার মাঝ বরাবর ওপর দিয়ে উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাবে এই মেট্রোরেল। প্রতি মেট্রোরেলে ৬টি কোচ থাকবে। প্রতি স্কয়ার মিটারে ৮ জনের হিসাবে ব্যস্ততম সময়ে ১ হাজার ৮০০ যাত্রী চলাচল করতে পারবে। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লাগবে, যার ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকাই দেবে জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা যোগাবে সরকার। তবে এ সুবিধার যাত্রা শুরু হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে দুই বছরের বেশি সময়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের একটি অংশের যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে।

মেট্রোরেলের কিছু থেকে যাওয়া কথা

ঢাকা শহরের যানজট দূরীকরণে মেট্রোরেলের উদ্যোগ সত্যিকার অর্থেই যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ। যোগাযোগ ব্যবস্থার যত উন্নতি ঘটবে ততই এগিয়ে যাবে দেশ। অথচ এই যোগযোগই আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে বহুগুণে। শুধু রাস্তায় প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সেসব সমস্যা নিরসনে মেট্রোরেল আশীর্বাদ হয়ে হয়ত ধরা দেবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা সবার। কিন্তু ঘটনাটা যদি ঢাকার ফ্লাইওভারগুলোর মতো হয় তাহলে কিন্তু দুঃখের শেষ থাকবে না। দুর্ভোগ বেড়ে যাবে বহুগুণে। আর খরচের সঙ্গে যদি আয়ের সঙ্গতি না থাকে তাহলে হয়ত দেশের ঘাড়ে ঋণের বোঝা বাড়বে বই কমবে না। ধরা যাক উত্তরা থেকে মতিঝিল যাতায়াতের কমন একটি জায়গা পড়বে ফার্মগেট। যেহেতু নির্দিষ্ট রুট অনেকেই এই মুহূর্তে মেট্রোরেলের সেবা নিবে না। কারণ তার কর্মস্থল কিংবা বাসা সেখানে নয়। তারপরেও কম করে হলেও ২০০ লোক উঠবে এবং ২০০ লোক নামবে মেট্রোরেল স্টেশনে। কিছু সময়ের জন্য এই বাড়তি ৪০০ লোকের দাঁড়ানো কিংবা চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করা আছে কি না? আর মেট্রো রেলের স্টেশনগুলো যদি কাক্সিক্ষত জায়গা থেকে দূরে হয়ে যায় সে ক্ষেত্রেও যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে মেট্রোরেল প্রতিদিনের ট্রিপের ১০% কভার করবে। মেট্রো আর নন মেট্রো মিলিয়ে ৩৩% ট্রিপ কভার করলেও বাকি ৬৭% এর জন্য কি কি উদ্যোগ নেয়া হবে সেটাও কিন্তু এখন থেকেই ভাবা দরকার। কারণ মেট্রো স্টেশন দূরে থাকলে যাত্রী স্টেশন থেকে বের হয়েই গন্তব্যে যাওয়ার জন্য কিছু না কিছু খুঁজবে। সেসব বাহন স্টেশন ভেদে বৃদ্ধি করা এবং পার্কিং ব্যবস্থা তৈরি করার প্লানিংটাও এই প্রকল্পে আওতায় থাকা উচিত। তা না হলে পুরো প্রকল্পটা দেখতে অনেকটা মাকাল ফলের মতো মনে হবে। যেমন টা আমাদের কিছু অপ্রয়োজনীয় জায়গার ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস রয়েছে।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। যার ফলে কোনভাবেই আমাদেরও পিছিয়ে থাকার অবকাশ নেই। উন্নত বিশ্বের মতো ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), কয়েক লেন বিশিষ্ট রাস্তার মতো উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কর্মঘণ্টা যেন রাস্তায় শেষ না হয়ে যায় সে ব্যাপারে কাজ চলছে যা একটি দেশের জন্য ইতিবাচক। তারপরেও উদ্যোগগুলোর কোথায় যেন সৌন্দর্যহানি। দেখার বিষয় সর্ষের ভিতর ভূত আছে কি না? সচেতন হতে হবে নিজেদেরও, চলাচলে নিজেদেরও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। প্রত্যাশা রইল স্বপ্নের মেট্রোরেল যেন সত্যিকারের অর্থেই যুগান্তকারী এক যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ধরা দেয় আমাদের সামনে।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৯

২৬/০৩/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

স্বাধীনতা দিবস বিশেষ আয়োজন ২০১৯



শীর্ষ সংবাদ:
শিল্পালোকে উদ্ভাসিত মুজিববর্ষের পরিকল্পনা || স্বয়ংসম্পূর্ণ ৩ বছরে ॥ পেঁয়াজ উৎপাদন ৩০ লাখ টনে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট || প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ডিজিটালাইজ করা হবে ॥ প্রতিমন্ত্রী || বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সকল ধর্মের মানুষের বসবাসের উপযুক্ত দেশ গড়ে তোলা ॥ পূর্তমন্ত্রী || স্ট্যামফোর্ডের ছাত্রী রুম্পা হত্যার বিচার দাবিতে সিদ্ধেশ্বরীতে মিছিল || রমজানে ছয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতি || এয়ারলাইন্সগুলোর টিকেট নিয়ে কারসাজি! মালয়েশিয়ায় আটকেপড়া বাংলাদেশীরা বিপাকে || আওয়ামী লীগ সভাপতির পদ ছাড়া যেকোনো পদে পরিবর্তন হতে পারে ॥ কাদের || রাজধানীতে বিষমুক্ত শাকসবজি নিয়ে চালু হলো ‘কৃষকের বাজার’ || মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ||