১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ৬ ফাল্গুন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

পরীক্ষা পদ্ধতি প্রসঙ্গে

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ফিরোজ মৃধা

বাংলাদেশের মতো এত পরীক্ষা আর সিলেবাস পরিবর্তন পৃথিবীর অন্য কোন দেশে হয় বলে মনে হয় না। প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় এমনকি চাকরির পরীক্ষায় পর্যন্ত বিভিন্ন পদ্ধতি চলমান, যা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। এখন ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে একটি চাকরির আশায়, যার জন্য তারা মুখস্থ বিদ্যার প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ছে। আর আমাদের দেশের চাকরির জন্য মেধার মূল্যায়ন দিন দিন যেন হারিয়ে যাচ্ছে টাকার কাছে আর বিভিন্ন কোটা পদ্ধতির কাছে। এখন ছেলেমেয়েরা সার্টিফিকেট আর টাকার বিনিময়ে চাকরি জন্য মরিয়া। এর জন্য আসলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আর চলমান শিক্ষা পদ্ধতিই দায়ী। আমাদের নীতিনির্ধারণ আর চাকরির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, ঘুষ বাণিজ্যও অনেকাংশে দায়ী। এই সুযোগটাই নিয়ে নিচ্ছে কিছু অসৎ ব্যক্তি। টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার প্রশ্ন ছড়িয়ে দিচ্ছে কোমলমতি ছেলেমেয়েদের কাছে। এভাবে মেধাহীন হয়ে পড়ছে আমাদের তরুণ সমাজ। কোমলমতি ছেলেমেয়েরা এমনকি অভিভাবকরা পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের আশায় থাকে। ডিজিটাল যুগে ঘরে বসেই পাওয়া যায় প্রশ্ন, এতে করে লেখাপড়ার প্রতি ছেলেমেয়েদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। মেধাহীন হয়ে পড়ছে যুব সমাজ আর এক শ্রেণীর লোক টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েও এগুলো বন্ধ করতে পারছে না, কারণ এই প্রশ্ন যারা ফাঁস করছে তারা খুবই শক্তিশালী আর শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আর সরকারের ভাল অর্জনগুলোকে নস্যাৎ করার জন্য প্রশ্ন ফাঁসের মতো এমন ঘৃণ্য পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি ও অপপ্রচারে লিপ্ত আছে কিছু মহল । আর যাদের কারণে এই সমস্যা তারা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কোন একক ব্যক্তি এজন্য দায়ী হতে পারে না, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা আর ব্যর্থতাগুলোকে খুঁজে বের করে সমাধান করা জরুরী।

আমাদের সচেতন হতে হবে, চারপাশে স্বার্থবাদী গোষ্ঠী আমাদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাদের নোংরা উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ করে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শুধু চাকরির জন্য শিক্ষা হতে পারে না, জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেদের জানার পরিধিকে বৃদ্ধি করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে সেভাবে আমাদের যুব সমাজের উপযোগী করে শিক্ষা পদ্ধতি প্রণয়ন করা জরুরী। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রয়োজন আমাদের প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করা। আমরা হেরে যেতে পারি না, আমরা যদি আমাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারি কেউ আমাদের পিছনে ফেলতে পারবে না। আমাদের তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের তারুণ্যের শক্তি ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন করার জন্য কারিকুলাম, শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরী।

ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ থেকে

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

১৫/০২/২০১৮ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: