২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০ ফাল্গুন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

প্রশ্নফাঁস থামাতেই হবে

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • আরিফ হোসাইন হিয়া

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শুরু হয় ১৯৭৯ সালে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৫৫টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নতুন করে গতি পায় এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহতভাবে চলতে থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ, কর্মকর্তা নিয়োগ, সমাজসেবা কর্মকর্তা, এনবিআর, খাদ্য অধিদফতর, সহকারী শিক্ষক কর্মকর্তা নিয়োগ, অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা নিয়োগ, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা এমন কি বিসিএসের মতো বড় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস হয়েছে। বর্তমানে চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রায় প্রতিটি প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এভাবে একের পর এক প্রশ্নফাঁস হতে থাকায় এবং প্রশ্নফাঁসকারীদের শাস্তি না দেয়ায় এমন ঘটনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। বর্তমানে এটি এমন আকার ধারণ করেছে মনে হচ্ছে এটা আমাদের স্বাধীনতা। শিক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সাফল্য দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট হলেও বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সকল সফলতাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। রোধ করা যাচ্ছে না তাদের হুংকার, আশ্বাস, ভবিষ্যতদ্বাণী সবকিছুই যেন অকার্যকর মনে হচ্ছে। এখানে আমার প্রশ্ন হলো- এটি নিয়ন্ত্রণ করতে শিক্ষামন্ত্রী ব্যর্থ কেন? সরকার তো জঙ্গী দমন করতে পারছে, বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা দেখিয়েছে অপশক্তিকে দমন করে রাখতে পারছে কিন্তু প্রশ্নফাঁস দমন করতে পারছে না কেন? এটা ভাবতে গেলে আমার একটি গল্প মনে পড়ে যায়। তা হলো, এক ব্যক্তি তার বাড়িতে নতুন পানির সংযোগ চালু করেছে কিন্তু পানির লাইন দিয়ে পানির সঙ্গে ময়লা আসত। তিনি সব কল পরিবর্তন করেন তবুও ময়লা আসত। তিনি কখনও ভাবতেন না যে এটির মূল কারণ কি? একদিন তার বাবা বাড়ির ছাদে আসে যেখানে পানির ট্যাঙ্ক ছিল এবং দেখল যে পানির ট্যাঙ্কেই ময়লা জমে আছে। তাহলে বোঝেন কিভাবে কল দিয়ে পরিষ্কার পানি আসবে। ঠিক একইভাবে সরকার মূল জায়গা চিহ্নিত করতে পারছে না। যারা প্রশ্ন করে ও এর সঙ্গে যুক্ত সেই সকল রাঘব বোয়ালদের আগে ধরতে হবে। আমরা লজ্জিত যে এত কিছুর পরও শিক্ষামন্ত্রী কিভাবে তার পদে বহাল থাকে। বার বার জাতির সামনে তিনি নয়ছয় আলাপ করছেন। এভাবে চললে তো জাতিকে মেধাশূন্য করতে কিছু বাকি থাকবে না। দেশের অধিকাংশ চাকরির পরীক্ষা ঢাকাতে হয় আর তা দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রার্থীরা আসে। অনেক ছাত্রছাত্রী আছেন যারা নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবৃত্ত পরিবার হতে আসে। তাদের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া বাবদ অনেক টাকা খরচ হয় কিন্তু এরপরেও যদি প্রশ্নফাঁসের জন্য পরীক্ষা বাতিল হয় তাহলে কার তা সহ্য হবে? এ দায় কার? এ দায়ভার কে গ্রহণ করবে? কষ্ট লাগে যখন এসব নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়। তাই সরকার ও প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি যে, প্রশ্ন ফাঁসকারীর মূল ট্যাঙ্ক পরিবর্তন এবং অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করুন। দলীয় কর্মী হলেও কোন ধরনের ঘষামাজা ছাড়াই অপসারণ করুন। তা না হলে জাতির মেরুদ- সোজা হবে না। বরং পরিনামে দেশ ও জাতির জন্য বড়ই লজ্জাকর ও ক্ষতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করবে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

১৫/০২/২০১৮ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: