২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মারাত্মক ব্যাধি

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • জাহিদুর রহমান

প্রশ্নফাঁস যেন আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের এক মহামারী আকার ধারণ করেছে। শিক্ষা একটি জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথকে সুগম করে। বর্তমান সরকারের বাজেট থেকে বড় একটি অংশ ব্যয় করা হয় শিক্ষাখাতে। রাষ্ট্র থেকে বলা হয়, শিক্ষা খাতে যা ব্যয় করা হয় তা আমরা ব্যয় হিসাবে দেখি না। এইটা হলো বিনিয়োগ। মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ জাতি গঠনের বিনিয়োগ। আমি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই সরকারের আন্তরিকতাকে।

এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই নিয়মিতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। শুধু বোর্ড পরীক্ষা নয়, নিয়োগ পরীক্ষা থেকে শুরু করে নিবন্ধন পরীক্ষা পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের ছড়াছড়ি। কথায় কথায় বলতেই হয়, সারা শরীর ডেটল দিয়ে পরিষ্কার করে, যদি মুখমণ্ডল পরিষ্কার করি মাটি দিয়ে তবে যেমন ডেটলের মূল্য থাকে না তেমনি সারা বছর নানা সুযোগ-সুবিধা ও ভাল লেখাপড়া করে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আর যাই হোক ভাল বিজ্ঞানী হবে না, ভাল ডাক্তার হবে না, ভাল ইঞ্জিনিয়ার হবে না, ভাল নেতা হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট পাই যখন দেখি পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ছড়াছড়ি। সরকার এই প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। যা আনন্দদায়ক ও স্বস্তিকর। এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত এবং গোয়েন্দা রিপোর্টে যাদের নাম উঠে আসবে সেসব ব্যক্তিদের চাকরিচ্যুত করা এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশ্নফাঁস বিতর্কের সঙ্গে যেসব কর্মকর্তার নাম উঠে আসবে বা যে এমপি মদদ যোগাবে জাতির স্বার্থে, সোনার বাংলা গড়ার স্বার্থে সঙ্গে সঙ্গে তাদের অপসারণ করতে হবে। দেশপ্রেমে উজ্জিবীত মেধাবী তরুণদের হাতে দিতে হবে শিক্ষার মতো গুরুদায়িত্ব। যারা এই দেশটাকে সুন্দর ও সুশোভিত করতে কাজ করবে। যেখানে প্রশ্ন ফাঁসের মতো ব্যাধি থাকবে না, থাকবে না শিক্ষার মান নিয়ে কোন প্রশ্ন। শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে মেধাকে সম্বল করে গড়ে তুলবে আধুনিক সোনার বাংলা।

কাপাসিয়া, গাজীপুর থেকে

প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

১৫/০২/২০১৮ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: