২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০ ফাল্গুন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

বড়াইগ্রামে শিশু ধর্ষণের মনগড়া রিপোর্ট

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩৬ পি. এম.
বড়াইগ্রামে শিশু ধর্ষণের মনগড়া রিপোর্ট

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর ॥ নাটোরের বড়াইগ্রামে নয় বছরের এক শিশু ধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্টে অসঙ্গতি থাকায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের দ্রুত অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার বিকালে উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের হাইওয়ে থানা সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ধর্ষিতার পিতা ও পরিবারের সদস্য সহ গ্রামবাসীরা বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের পূর্ব হারোয়া এলাকার প্রতিবেশী চাঁন প্রামাণিকের ছেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহবুর রহমান (১৬) গত ২৪ জানুয়ারী দুপুর ১২টার দিকে ওই শিশু কণ্যাকে বাই সাইকেল চালানো শিখাতে প্রথমে বাড়ির উঠোনে ও পরে চকলেট দেওয়ার কথা বলে ঘরের ভিতর ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে বাড়ি ফিরে আসলে তাকে অসুস্থ দেখালে মার জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটি সব ঘটনা খুলে বলে এবং পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলেই পিতা বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

জানা গেছে, শিশুটিকে ধর্ষনের পরের দিন দুপুর দেড়টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ডলি রাণী শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। অথচ মেডিকেল রিপোর্টে তারিখ দেখানো হয়েছে আগের দিন ২৪ জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া রিপোর্টে লেখা রয়েছে সেক্সুয়্যাল এ্যাসাল্ট, দেয়া হয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিক ও ব্যাথানাশক ঔষধ। বুকের নীচের অংশে কালো দাগ রয়েছে এবং মানসিক অবস্থা খারাপ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। ডা. ডলি রাণী আসামী পক্ষের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে মনগড়া রিপোর্ট তৈরী করে অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করে তার দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি করা হয়। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ডলি রানীর বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ ধর্ষনের রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

এব্যাপারে ডা. ডলি রাণীর মুঠোফোনে এই অসঙ্গতিপূর্ণ রিপোর্টের বিষয়ে জানতে হাওয়া হলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে লাইনটি কেটে দেন। পরে আরও কয়েকবার ফোন কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তহছেনুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে আসামী ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। মামলা দায়ের করার পরেরদিন আসামী মাহবুরকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দানের লক্ষ্যে আদালত গত ৩০ জানুয়ারী তাকে ২৪ দিনের জন্য অন্তবর্তীকালীণ জামিন দেন।

প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৭:৩৬ পি. এম.

১৪/০২/২০১৮ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: