২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ৯ ফাল্গুন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

‘এতিমের টাকা চুরি করায় খালেদাকে কনডেম সেলে রাখা উচিত

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৯:২২ পি. এম.
‘এতিমের টাকা চুরি করায় খালেদাকে কনডেম সেলে রাখা উচিত

সংসদ রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল হক সেলিম বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার বিরোধীতা করে বলেছেন, ’উনাকে (খালেদা জিয়া) তো গোটা জেলখানাই দেওয়া হয়েছে। কত আরাম-আয়েশে আছেন। অথচ বিএনপি নেতারা বলেন তাঁকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি, অমুক দেওয়া হয়নি। উনাকে কী ফাইভ স্টার হোটেল সোনারগাঁও-এ রাখতে হবে? এতিমের টাকা চুরি করে আত্মসাত করেছেন, উনাকে (খালেদা জিয়া) তো কনডেম সেলে রাখা উচিত, উনার তো কাজ করা উচিত।’

প্রথমে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের পংকজ দেবনাথ, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, জিল্লুল হাকিম, বেগম ফাতেমা তুজ্জহরা, আশেক উল্লাহ রফিক, এম আবদুল লতিফ, বেগম রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি এবং জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান ও সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ ফজলুল হক সেলিম বলেন, দুর্নীতির দায়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্রের কারাদন্ড হয়েছে। কিন্তু রায়কে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের নির্দেশে লন্ডনে বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলা করে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করেছে। পাকিস্তানের দোসর ও এজেন্টরাই এই হামলা করেছে। সন্ত্রাসী-জঙ্গীরা কীভাবে হাইকমিশনে ঢুকলো, ব্রিটিশ সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে দেশবাসী জানতে চায় না। তারেক জিয়া একজন সন্ত্রাসী, জঙ্গী, দুর্নীতিবাজ ও ১৭ বছরের দন্ডপ্রাপ্ত আসামী। একে লন্ডনে থাকার সুযোগ দিয়ে ব্রিটিশ সরকার তাদের নিরাপত্তাই বিঘিœত করছে, তাদের ভাবমূর্তি ধ্বংস করছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরব সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। সেখানেও পাঁচ জনের বিরুদ্ধে বিপুল অংকের টাকা পাচারের যে তদন্ত শুরু করেছে, তাতে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার নাম উঠে এসেছে। সেখানে ১২শ’ কোটি ডলার ধরা পড়েছে। সৌদি সরকার তাদের বিপুল পরিমাণ পাচারকৃত টাকাও বাজেয়াপ্ত করেছে। বেলজিয়াম, কাতার, মালয়েশিয়া ও দুবাইতেও জিয়া পরিবারের বিপুল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। শুধু দেশেই নয়, সারা বিশ্বেই খালেদা জিয়ার পরিবার দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

শেখ সেলিম আরও বলেন, হাওয়া ভবনে বসেই এই তারেক জিয়া জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি নিঃশ্বেষ করে দিতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। হামলার পর খুনীদের বিদেশে পালানোর সুযোগ দিয়ে প্রমাণ হয়েছে এই গ্রেনেড হামলার সঙ্গে খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন। তিনি বলেন, যিনি এতিমের টাকা মেরে খান, আগুণ দিয়ে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন তাঁকে কারাগারে এতো সুবিধা দেওয়া হবে কেন?

সুশীল সমাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরা দেশে গণতন্ত্র থাকুক তা চায় না। পদ্মা সেতু নিয়েও তারা ষড়যন্ত্র করেছিল শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হেয় করতে। সকল ষড়যন্ত্র সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করছেন। দেশবাসী জানতে চায় সুশীল সমাজের নামে এরা কারা? এদের টাকার উৎস কী তা তদন্ত করে বের করা উচিত।

সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে শেখ সেলিম বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। কিন্তু অপশক্তিরা আসলে দেশকে আবারও পিছিয়ে দেবে, দেশকে ধ্বংস করে দেবে। একদিকে জঙ্গী-সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের উন্নয়ন ও অগ্রগতির শক্তি। দেশবাসীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী অন্ধকারের শক্তিকে বেছে নেবে, নাকি উন্নয়ন-অগ্রগতির পক্ষেই থাকবে।

বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, খুনী-দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে কীসের সংলাপ? যারা জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে কীসের আলোচনা? বরং উচিত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করে বিচার করা। বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেভাবে হবে। দেশে সংবিধানবিরোধী কোন স্বপ্নের সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না।

জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, জাতীয় পার্টি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বলেই শুধু সংবিধান রক্ষা নয়, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাও রক্ষা পেয়েছে। জাতীয় পার্টি সবসময়ই গণতন্ত্রের পক্ষে থেকেছে, আগামীতেও থাকবে। তিনি বলেন, সরকারের অর্জন অনেক থাকলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ কিছু কিছু ঘটনা সরকারের কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

জিল্লুল হাকিম বলেন, সারাদেশের মানুষ বিএনপি মানেই অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতাকারী, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক দল হিসেবেই চেনে। দুর্নীতির দায়ে জেলে গেছেন খালেদা জিয়া। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, বিএনপির নেতাকর্মীরাও রাস্তায় বের হয়নি।

পংকজ দেবনাথ বলেন, জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি নেতারা এখন মানষিক বিকারগ্রস্ত হয়ে কথা বলছেন। এরা বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি চায় না, দেশকে আবারও অন্ধকারের যুগে নিয়ে যেতে চায়। কারণ বিএনপি হচ্ছে জঙ্গী-সন্ত্রাসী-হত্যাকারী-দুর্নীতিবাজ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির একটি রঙ্গমঞ্চ। খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমান সারাবিশ্বে এখন একজন স্বীকৃতি দুর্নীতিবাজ। দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনেও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৯:২২ পি. এম.

১৩/০২/২০১৮ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: