২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সময় সাপেক্ষ ॥ এবি মির্জা আজিজ

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৬:৪৩ পি. এম.
বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সময় সাপেক্ষ ॥ এবি মির্জা আজিজ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারবাজার থেকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবিমির্জা আজিজুল ইসলাম। তবে আগে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ছাড়াই ভালো কোম্পানিকে ভালো প্রিমিয়ামে টাকা উত্তোলন করতে পেরেছে। ওই সময় সহজেই টাকা সংগ্রহ করা গেছে।

সোমবার রাজধানীর ফারস হোটেলে অনলাইন বিজনেস পোর্টাল বিজনেসআওয়ার২৪.কম আয়োজিত ‘শিল্পায়নে আইপিও’র গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিটিভি’র প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ এসব কথা বলেন। আর সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানপির উপদেষ্টা ও ওমেরা ফুয়েলের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা (সিইও) আক্তার হোসেন সান্নামাত।

মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর সবদেশেই শেয়ারবাজারে কিছু সমস্যা হয়। আমাদের দেশেও হয়। কিছুদিন আগেও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে সেটা আশঙ্কাজনক না। এখন শেয়ারবাজার সুষ্ঠভাবে চলছে। এমতাবস্থায় বিনিয়োগ করলে বড় ক্ষতি হবে না।

এদিকে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনে সময়ক্ষেপণের কারণে ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে না বলে জানিয়েছেন। যে কারণে দূর্বল কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে। এমতাবস্থায় এই সমস্যা কাটিয়ে তোলার জন্য স্বল্প সময়ে আইপিও অনুমোদন দেওয়া দরকার। সরকারি কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসলে শেয়ারবাজার সমৃদ্ধ হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির সাবেক এই চেয়ারম্যান। একইসঙ্গে সরকারি কোম্পানিতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, কমিশন আগের চেয়ে দ্রুততম সময়ে আইপিও অনুমোদন দিচ্ছে। দেরি হওয়ার পেছনে কমিশনের চেয়ে ইস্যুয়ারদের নির্ভুল আবেদন করা জরুরী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আর্থিক হিসাবে গড়মিল থাকায় এগুলো সংশোধন করে অনুমোদন পেতে সময় লেগে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গবর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক হোল্ডাররা শেয়ারবাজারের মূল সমস্যা বলে জানিয়েছেন এরাই ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে পতনের সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও বলেন, দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে ডিমিউচুয়ালাইজড (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ) যথাযথ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে ডিমিউচুয়ালাইজড এতো সহজ না। এতোটা সহজ হলে তো হতোই। বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে ৪০ শতাংশ ট্রেকহোল্ডার রেখে ডিমিউচুয়ালাইজড না প্লেয়ারদের সঙ্গে মিউচুয়ালাইজড করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১০০টি কোম্পানি আইপিওতে আবেদন করেও ১টির অনুমোদন না পাওয়া দুঃখজনক। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজার থেকে দূরে সড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনে মূল সমস্যা সময়ক্ষেপণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আইপিও অনুমোদন দেড় বছরের আগে কল্পনাই করা যায় না। আইপিও অনুমোদনে এই সময় ক্ষেপন বিরক্তকর। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে আইপিও অনুমোদনে ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগে। সেখানে আমাদের দেশে দেড় বছর অবশ্যই বিরক্তকর। আমাদের দেশেও আইপিও অনুমোদন দেয়া ১০ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে সম্ভব। বিএসইসির কমিশনার স্বপন কুমার বালা ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি হাসান ঈমাম রুবেল উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৬:৪৩ পি. এম.

১২/০২/২০১৮ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: