১৯ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ছয় ব্যাংকের রেমিটেন্স একাউন্ট বন্ধ


যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ছয় ব্যাংকের রেমিটেন্স একাউন্ট বন্ধ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্থপাচারের শঙ্কায় যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ছয়টি এক্সচেঞ্জ হাউসের রেমিটেন্স একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক হাবিব ব্যাংক। এ অবস্থায়, রেমিটেন্স প্রবাহ অব্যাহত রাখতে এক্সচেঞ্জ হাউস রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে দেশীয় সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি ব্যাংকে যুক্তরাজ্যে এক্সচেঞ্জ হাউস খোলার অনুমতি দিয়েছিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়ায় সবশেষ ১২টি ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউস যোগ হয়েছিলো। এর মধ্যে বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ৪টি এক্সচেঞ্জ হাউসের কার্যক্রম।

শুরু দিকে বেশিরভাগ এক্সচেঞ্জ হাউসের রেমিটেন্স একাউন্ট ছিল ব্রিটেনের বার্কলেজ ব্যাংকে। ২০১৩ সালে অর্থপাচারের অভিযোগে ওই ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসের রেমিটেন্স একাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয় ব্যাংক কৃর্তপক্ষ।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুরোধে যুক্তরাজ্য শাখা সোনালী ব্যাংক সেখানকার নেটওয়েস্ট ব্যাংকে থাকা নিজেদের একাউন্ট থেকে সে সব এক্সচেঞ্জ হাউসকে এ সুবিধা দিয়ে আসছিলো। ২০১৫ সালে নেটওয়েস্ট ব্যাংকের চাপে তারাও একই অভিযোগে একাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয়।

সবশেষ গেলো মাসে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক হাবিব ব্যাংকও অর্থপাচারের ঝুঁকির শঙ্কায় ছয়টি এক্সচেঞ্জ হাউসের একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ার শঙ্কার পাশাপাশি কার্যক্রম বন্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো।

যুক্তরাজ্য এমটিবি একচেঞ্জ প্রধান নির্বাহী আনিসুর রহমান, 'একের পর এক আমাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে আমাদের রেমিটেন্সের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।'

নিরাপদে অর্থ প্রেরণের সুবিধা থাকায় অল্প সময়ে প্রবাসীদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো। তারাও চান বাংলাদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক।

এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাজ্য মার্কেন্টাইল একচেঞ্জ হাউস প্রধান নির্বাহী খায়রুজ্জামান বলেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংক যদি কিছু একটা করতে পারে সেটা বাংলাদেশের এবং প্রবাসীদের জন্য ভালো।'

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, প্রতিবছরই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স কমেছে ৮ কোটি মার্কিন ডলার।