২১ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সম্মেলন ঘিরে ছাত্রলীগে প্রাণচাঞ্চল্য, মধুর ক্যান্টিন সরগরম


বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১১(খ) ও (গ) ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কার্যকাল দুই বছর। এর মধ্যে সম্মেলন না হলে সংসদের কার্যকারিতা থাকবে না। কিন্তু ছাত্রলীগের ১৯৯০-পরবর্তী কোন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই চার বছরের আগে ক্ষমতা ছাড়েননি। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিগত ৭০ বছরে ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়েছে ২৮ বার। ৯০ দশকের পর চলতি বছরের ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ে সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল সম্মেলনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করে ইতোমধ্যে সম্মেলন সামনে রেখে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

যথাসময়ে সম্মেলন হওয়ায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে নেতাকর্মীদের মাঝে। ছাত্ররাজনীতির ‘আঁতুরঘর’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন হয়ে উঠেছে সরগরম। পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা নিয়মিত মধুর ক্যান্টিনে আসছেন। তাদের আলোচনার বিষয় এখন ২৯তম সম্মেলন। পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে ‘দৌড়ঝাঁপ’ শুরু করেছেন। নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং বয়স নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। এছাড়া নতুন নেতৃত্ব গঠনে কোন কোন এলাকা প্রাধান্য পাচ্ছে তাও রয়েছে আলোচনার শীর্ষে। কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের মাঠপর্যায়ে দল গোছাতে শুরু করেছেন। জুনিয়র পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে নতুন করে জমে উঠেছে ছাত্রলীগের রাজনীতি।

এস এম জাকির হোসাইন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছি। সম্মেলন সফল করার জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছি। যেসব ইউনিটের কমিটি এখনও হয়নি, দায়িত্বপ্রাপ্তকে দ্রুত সেখানে কমিটি ঘোষণার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করি নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) অন্য কোন প্রোগ্রাম না থাকলে আমরা যথাসময়ে সম্মেলন সফল করতে পারব।’

গত ৬ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা চলতি বছরের মার্চ মাসে (স্বাধীনতার মাস) ছাত্রলীগ সম্মেলন করুক। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেই তিনি ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বকে ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়ার অনুরোধ করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্মেলনের নির্দেশ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের আনন্দ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পুরো সমাবেশস্থল। সম্মেলনের খবরে রাজধানীতে ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়ও নেতাকর্মীরা ছিল উজ্জীবিত। তবে এবার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে অনেকটা অবাক করার মতোই ছাত্রলীগের নতুন সম্মেলনের ঘোষণা আসে। তাছাড়া বয়সের কারণে ছাত্রলীগ ছেড়ে দিতে হবে বলে হতাশা প্রকাশ করেন সিনিয়র নেতারা।

গত ৮ জানুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের সাক্ষাতকালে ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে জরুরী সভা ডাকেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। সভা থেকে নেতাকর্মীদের আসন্ন সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাসময়ে ছাত্রলীগে সম্মেলন না হওয়ায় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী ছিলেন হতাশ। অনেকে আবার রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। সম্মেলনকে সামনে রেখে নেতা হওয়ার স্বপ্নে অনেক নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মী আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ফলে নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগের রাজনীতি।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব অনেকটাই নির্ধারণ করেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তাই পদ প্রত্যাশীরা শীর্ষ পদ দুটির একটি নিজেদের দখলে আনতে সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন নিয়মিত। সূত্র জানায়, এবার সম্মেলন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে সাবেক তিন নেতাকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা নেতৃত্বের যোগ্যতায় এগিয়ে থাকবে তারা শীর্ষ পদ পাবে। এক্ষেত্রে একাডেমিক ও সাংগঠনিক যোগ্যতা, দক্ষ, শিক্ষার্থীবান্ধব এবং দলের প্রতি নিবেদিতরাই এ পদে আসবেন বলে জানা গেছে।

২০১৫ সালের ২৬ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন হয়। সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগকে সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে দুই বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এরপর কেটে যায় দুই বছর পাঁচ মাস। কিন্তু গঠনতন্ত্র মেনে সম্মেলন আর ডাকা হয়নি। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র উপেক্ষার এ ধারাবাহিকতার বিরোধিতা করে সংগঠনটির একটি অংশের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল যথাসময়ে সম্মেলন করা। জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে আগামী ৩১ মার্চ ও ১ এপ্রিল সে দাবি সফল হতে যাচ্ছে।