২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বিদায়ী বছরে সড়কে প্রাণ গেছে ৭৩৯৭ জনের


বিদায়ী বছরে সড়কে প্রাণ গেছে ৭৩৯৭ জনের

স্টাফ রিপোর্টার॥ ২০১৭ সালে সারাদেশে ৪ হাজার ৯৭৯ টি সড়ক দূর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত, ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে। এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। শনিবার সকালে ঢাকা রির্পোটার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্র সমূহে প্রচারিত সড়ক দূর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংগঠনটি। এতে দেখা গেছে বিদায়ী ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে ছোট-বড় ৪ হাজার ৯৭৯ টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে সর্বমোট ২৩ হাজার ৫৯০ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহত হয়েছে। এসব দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছে সর্বমোট ৭ হাজার ৩৯৭ জন, আহত হয়েছে ১৬ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে হাত, পা বা অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে ১ হাজার ৭২২ জন।

এইসব দূর্ঘটনায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান দাঁড়াচ্ছে জিডিপি’র প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ। এসময় ১ হাজার ২৪৯টি বাস, ১ হাজার ৬৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৭৬ টি হিউম্যান হলার, ২৬২ টি কার, জীপ, মাইক্রোবাস, ১ হাজার ৭৪ টি অটোরিক্সা, ১ হাজার ৪৭৫টি মোটরসাইকেল, ৩২২ টি ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ৮২৪টি নছিমন করিমন দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। সংগঠিত দূর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১ দশমিক ৯ শতাংশ খাদে পড়ে এবং ২ দশমিক ৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে সংগঠিত হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে ৪৩১২ টি সড়ক দূর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছিল। বিদায়ী ২০১৭ সালে হাজার সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে। এতে দেখা গেছে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে মোট দুর্ঘটনা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ, নিহত ২২ দশমিক ২ শতাংশ, আহত ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান মতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ৪৫০ টি সড়ক দূর্ঘটনায়, ১ হাজার ১০৩ জন আহত ও ৫২০ জন নিহত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৬৬ টি সড়ক দূর্ঘটনা সংগঠিত হয়। এতে ১ হাজার ৬০৬ জন আহত ও ৫৩৫ জন নিহত হয়। মার্চ মাসে ৪৭২ টি সড়ক দূর্ঘটনায়, ১ হাজার ৪৮ জন আহত, ৫০৬ জন নিহত হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৩৭৭ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১০ জন আহত, ৪১৮ জন নিহত হয়। মে মাসে ৪৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৪৫ জন আহত ৫৩৯ জন নিহত হয়।

জুন মাসে ৪০২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৫৪ জন আহত ও ৫০৩ জন নিহত হয়েছে। জুলাই মাসে ৩৮০টি সড়ক দূর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৩২ জন আহত ও ৪২৫ জন নিহত হয়। আগষ্ট মাসে ৩৪৪টি সড়ক দূর্ঘটনায় ৩৯১ জন নিহত ও ৬৯৮ আহত হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ৩৯৪টি সড়ক দূর্ঘটনায় ৪৬৬ জন নিহত ও ১ হাজার ৩৭১ আহত হয়। অক্টোবর মাসে ৪২৬টি সড়ক দূর্ঘটনায় ৪৬৫ জন নিহত ও ৭৮৬ আহত হয়। নভেম্বর মাসে ৪০৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৭ জন নিহত ও ৬৭০ আহত হয়। ডিসেম্বর মাসে ৪৩০টি সড়ক দূর্ঘটনায় ৫০০ জন নিহত ও ১১৪৮ আহত হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে সড়ক দূর্ঘটনার কারণ হচ্ছে- বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালনা। বিপদজনক অভারটেকিং। রা¯তার নির্মান ক্রটি। ফিটনেস বিহীন যানবাহন। যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা। চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেড ফোন ব্যবহার। মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো। মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পরা। রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকায় রাস্তার মাঝ পথে পথচারীদের যাতায়াত।

সড়ক দূর্ঘটনা রোধে সুপারিশ মালা: ট্রাফিক আইন, মোটরযান আইন ও সড়ক ব্যবহার বিধি-বিধান সম্পর্কে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, মসজিদ, মন্দির, গির্জায় জনসাধারণের জন্য ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা। টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র সমূহে সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ করা, ফুটপাত বেদখল মুক্ত করা। রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা। জেব্রাক্রসিং অংকন করা। চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিং ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা। যাত্রী বান্ধব সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন। গাড়ীর ফিটনেস ও চালদের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি উন্নত বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে আধুনিকায়ন করা। জাতীয় মহাসড়কে স্বল্পগতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেন এর ব্যবস্থা করা। প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা ও পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা। সড়ক দূর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে যারা ছিন্নমূল ও দারিদ্রের কাতারে নেমে যাচ্ছে তাদের ভরণ-পোষণের দায়-দায়িত্ব সরকারকে গ্রহণের জন্য প্রস্তাব করা।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড.হোসেন জিল্লুর রহমান, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও দূর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ফুয়ারার সভাপতি ইকরাম আহম্মেদ, বুয়েট এর দূর্ঘটনা গবেষনা কেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, সাবেক সংসদ সদস্য এড. হুমায়ন কবির হিরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. হারুন অর রশিদ প্রমূখ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: