২১ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গানের সুরে নাচের মুদ্রায় উদ্ভাসিত বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম


গানের সুরে নাচের মুদ্রায় উদ্ভাসিত বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম

মনোয়ার হোসেন ॥ শত বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সামাজিক-অর্থনৈতিক নানা সূচকে উঠে আসছে দেশের অগ্রগতির কথা। মৌলবাদ, সন্ত্রাসসহ নানা চক্রান্ত পেরিয়ে সচল হচ্ছে অর্থনীতির চাকা। বাড়ছে মাথাপিছু আয়। আর জ্বলে ওঠা সেই বাংলাদেশের উজ্জ্বল চিত্রটি দৃশ্যমান হলো সংস্কৃতির আলোয়। গানের সুরে, নাচের মুদ্রায় উদ্ভাসিত হলো জয় বাংলার জয়গান। তারুণ্য উদ্দীপ্ত হাজারও শ্রোতা-দর্শকে মুখরিত হলো বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম। সেই উদ্দীপনার মধ্যে ব্যক্ত হলো এ মাটি নয় জঙ্গীবাদের, এ মাটি মানবতার। আর এমন আনন্দের উপলক্ষটি ছিল সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্যের চার বছর পূর্তির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ বছরের ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৪ বছর পূর্ণ হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের সাফল্য উদ্্যাপনে ‘পিতার স¦প্নে কন্যার আহ্বানে কোটি মানুষের মিছিল চলেছে মুক্তির অভিযানে’ প্রতিপাদ্যে এ আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

বিকেল চারটায় শুরু হয় আয়োজন। তবে পৌষের শীতল বিকেলে হৃদয় উষ্ণ করা এ অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ভিড় জমে শ্রোতা-দর্র্শকের । রাত অবধি চলা অনুষ্ঠানে নৃত্য-গীতে মাতিয়ে রাখেন নবীন-প্রবীণ ও প্রখ্যাত শিল্পীরা। শ্রোতাদের অন্তরে আনন্দ ছড়িয়ে গান শুনিয়েছেন লোকসঙ্গীতে বাংলার অহঙ্কার মমতাজ ও নগর বাউল খ্যাত জেমস। ব্যান্ডদল দলছুট, সোলস ও চিরকুটের পরিবেশনা শীতল রাতে ছড়িয়ে উষ্ণতা। নেচে-গেয়ে শ্রোতারা তাল মিলিয়েছে শিল্পীদের সঙ্গে। নৃত্য-গীতের মধ্যে সন্ধ্যায় স্টেডিয়ামে স্থাপিত বড় পর্দায় জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। দেশের অগ্রগতির নানা তথ্য তুলে ধরা প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি আগ্রহভরে শুনেছে পরিবেশনা উপভোগ করতে আসা কয়েক হাজার শ্রোতা-দর্শক। এছাড়াও এ আনন্দযজ্ঞে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে পর্দায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর, অধিদফতরের বিগত চার বছরের উন্নয়ন কর্মকা-ের ছোট ছোট তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি...মননে আলোড়ন তোলা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সম্মেলক কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। জাতীয় সঙ্গীতের পর শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’। এরপর নাচ নিয়ে মঞ্চে আসে অনিক বোস ও তার দল। মুদ্রার সঙ্গে অভিব্যক্তির প্রকাশে ‘জ্বলে উঠো বাংলাদেশ’ ও ‘এ মাটি নয় জঙ্গীবাদের’ গানের সুরে নাচ করে একঝাঁক নৃত্যশিল্পী।। ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় পরিবেশিত পরের নৃত্যে ভালবাসা জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। নাচের সঙ্গে ভেঙ্গে বেড়ায়ে ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা, একটি গর্ব একটি বাংলাদেশ’ ও ‘চলো বাংলাদেশ’ গানের সুর। এরপর দীপা খন্দকারের পরিচালনায় ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা।

নাচ শেষে শারীরিক কসরতের খেলা নিয়ে মঞ্চে আসে শিল্পকলা একাডেমির এ্যাক্রোবেটিক দল। ‘চেয়ার সিটিং’ ও ‘নেক আয়রনবার’ শীর্ষক পরিবেশনা দুটি মুগ্ধ করে দর্শকদের। এরপর ‘চলো এগিয়ে যাই’, ‘বুকের ভেতর আকাশ নিয়ে একটাই আছে দেশ’, ‘ঐ উজ্জ্বল দিন’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন একাডেমির শিল্পীরা। নৃত্য শেষে সমীর বাউলের পরিচালনায় ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’ ও ‘আমার এ ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ গান দুটি সমবেতভাবে গীত হয় একাডেমির শিল্পীদের কণ্ঠে। এছাড়াও আয়োজনে সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনায় ‘নাও ছাড়িয়া দে’, ‘ও পৃথিবী এবার এসে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’, ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেতো’, ‘শোন একটি মুজিবুরের থেকে’ ও ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’ শিরোনামে গানগুলো।

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর নেতৃত্বেই স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন উল্টো পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ, শুরু হয় বাংলার ইতিহাসের ভুল পথে যাত্রা। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে চিত্রটি পাল্টে যায়। স্বাধীনতার সুবাতাস বইতে শুরু করে, শুরু হয় উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় উজ্জ্বল আলোর অভিসারী হয়ে নতুন লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছি। সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার যখন দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে তখন আমাদের উন্নয়নের পথটি কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। গণবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধীরা আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করা করেছে। ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ইসলামের অপব্যাখা দিয়ে জঙ্গীবাদের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রশ্রয় দেয়নি। আমারা কোনভাবেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেবো না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা শুরু করেছেন তা আমরা ব্যাহত হতে দেবো না। সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তৃতা শেষে মঞ্চে আসে ব্যান্ডদল দলছুট। এই সঙ্গীতদলের গানে গানে শ্রোতাদের হৃদয়ে বয়ে যায় উচ্ছ্বাস। দলটি একে একে গেয়ে শোনায় তাদের জনপ্রিয় ‘পরী’, ‘বাজি’, ‘চাঁদের শহরে’। এছাড়াও গেয়ে শোনায় বাউলসাধক শাহ আবদুল করিমের গান ‘গাড়ি চলে না’।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: