১৮ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চাঁদা না পেয়ে কৃষকের ধান লুটে নিল ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার


চাঁদা না পেয়ে কৃষকের ধান লুটে নিল ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার

নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর ॥ লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না পেয়ে সাড়ে চার একর জমির কৃষকের দু’শ ৪৪ মন ধান লুটে নিয়ে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো. ইউছুফ ছৈয়াল ও সদস্য (মেম্বার) মোঃ স্বপনসহ সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ১৫ জনের আসামি করা হয়। বৃহস্পতিবার কৃষক কায়কোবাদ চুন্নু বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২ এ মামলা দায়ের করেন।

বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার ওসিকে তদন্তের জন্য বলেছেন। এসময় আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনের দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

এজাহারে বলা হয়, চাঁদপুরের হাইমচরের কায়কোবাদ চুন্নুর লক্ষ্মীপুরের চররমনী মোহন ইউনিয়নের চর আলী হাসান গ্রামে পৈতৃক ও ক্রয় করা জমিটি চাষাবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় মোহাম্মদ শামছুল হককে দায়িত্ব দেন। ওই জমিতেই ধান চাষ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ, স্বপন ও সেলিম চৌধুরী সহযোগীদের নিয়ে চাঁদা বাবদ জোরপূর্বক জমির ৮০ ভাগ ধান কেটে নিয়ে যেত। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে জানালে সমস্যা সমাধান করে দেয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাঁরা। এতে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান এবং মেম্বার ক্ষুদ্ধ হন। পরে প্রতিপক্ষকে দিয়ে বাদীকে জমিটি দখলের হুমকি দেয়া হলে জেলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা গত ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর জোরপূর্বক পাকা ধানগুলো কেটে নিয়ে যায়। পরে চারটি বাড়িতে স্তুপ করে রাখা এক’শ ৬৩ বস্তায় মোট দু’শ ৪৪ মন ধান বিক্রির পর টাকা আসামিরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বাদী।

বাদীর আইনজীবি এ্যাডভোকেট প্রহলাদ সাহা রবি বলেন, বিচারক মামলাটি ডিবির ওসিকে তদন্তের জন্য দিয়েছেন। আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় চর রমনী মোহনের ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল বলেন, বিতর্কিত জমিটির ক্রয় সূত্রে মালিক সেলিম চৌধুরী এবং শামছুল হক মাঝি। প্রায় সাড়ে চার একরের জমিটি এককভাবে জোরপূর্বকভাবে শামছল হক মাঝি জবর দখল করতে চায়। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। দু’পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে দু’পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে পরিষদে ডাকা হয়। কিন্ত শামছল পরিষদে না বসে জমির সাবেক মালিক তাহের চৌধুরীর স্ত্রী সহ দু’জনের মধ্যে অপর জমির মালিক চুন্নুকে দিয়ে হয়রানিমূলক মামলটি দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে সমাধানের জন্য স্বপন মেম্বারকে দিয়ে আমি ধানগুলো জব্দ করে পরিষদে রাখার ব্যবস্থা করি। লুটের কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। নচেৎ সেখানে মারামারিসহ রক্তপাত হওয়ার সমুহ আশংকা ছিলো। শামছল হক মাঝিকে এককভাবে ধানগুলো না দেয়ায় সে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করিয়েছে। এটি একটি হাস্যকর মামলা। তবে এর সঠিক সমাধান না হলে দু’পক্ষের রক্তপাতের সমুহ আশংকা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে উক্ত চরে জমির দখল নিয়ে অসংখ্য খুনাখুনিসহ রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: