২১ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নয় দিনব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু আজ


নয় দিনব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভাল ছবি, ভালো দর্শক সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিপাদ্যে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। ৯ দিনের এ উৎসবে প্রদর্শিত হবে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ৬৪টি দেশের ২১৬টি চলচ্চিত্র। রুচিসম্পন্ন ও ইতিবাচক সংস্কৃতি বিনির্মাণের লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজক রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ।

আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে উৎসব উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন উৎসব পরিচালক। তিনি জানান, তুরস্কের নির্মাতা কাজিম ওজর আলোচিত চলচ্চিত্র ‘জার’ এবারের উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে। চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও সেমিনারের ভেন্যুগুলো হলোÑসুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল ও প্রধান মিলনায়তন। এছাড়াও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তন, রাশিয়ান কালচার সেন্টার ও স্টার সিনেপ্লেক্সে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি আরও বাড়ছে। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ব্যাপ্তি আরও বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া আয়োজন নিয়ে কথা বলেন উৎসবের চিফ প্রোাগ্রামার জোরেহ জামিনসহ উৎসব আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান কিশোওয়ার কামাল ও আয়োজক কমিটির সদস্য ম. হামিদ। সভাপতিত্ব করেন উৎসব আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা রবিউল ইসলাম।

কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে উৎসব চলাকালীন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিয়মিতভাবে মিট দ্য প্রেসের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে চলচ্চিত্রকার, প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এ পর্বটি চলবে ১৫ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দিন ১৫ তারিখ বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন উপমহাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকবেন ভারতের খ্যাতিমান নির্মাতা মধুরিমা সিনহা।

উৎসবে বাংলাদেশের পাশাপাশি আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ইরান, ইরাক, ফ্রান্স, চেক রিপাবলিক, চীন, কাজাখস্তান, জর্ডান, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, সুইডেন, তুর্কি, সুইরাজল্যান্ডসহ ৬৪টি দেশের বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ২১৬টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

আয়োজকরা জানান, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘ফোরথ ইন্টারন্যাশনাল উইমেন ফিল্ম মেকারস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের নারী চলচ্চিত্র নির্মাতারা এ পর্বে তাদের চলচ্চিত্র অভিযাত্রার গল্পের পাশাপাশি নারী নির্মাতাদের নানা প্রতিবন্ধকতার গল্পও শোনাবেন।

এবারের উৎসবে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফার্স্ট এশিয়ান ফিল্ম ক্রিটিকস এ্যাসেম্বলি কনফারেন্সে এশীয় অঞ্চলের ১২টি দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকাররা অংশ নেবেন। উৎসবের অংশ হিসেবে ৫ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর পাঠশালায় শুরু হয়েছে অষ্টম ঢাকা আন্তর্জাতিক সিনে ওয়ার্কশপ। উৎসবে যোগ দিতে আসা বিদেশী চলচ্চিত্রকাররা এখানে বিভিন্ন সেশনে কর্মশালা পরিচালনা করছেন।

এবারের উৎসবে এশিয়ান কম্পিটিশন বিভাগে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫টি চলচ্চিত্র এই বিভাগে (ন্যূনতম ৭০ মিনিটব্যাপী ফিকশন ফিল্ম) প্রতিযোগিতা করছে। এ বিভাগে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতাকে প্রদান করা হবে ১ লাখ টাকা। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি এ বিভাগে পুরস্কৃত করা হবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক ও চিত্রনাট্যকারকে।

ফরাসি নারী নির্মাতা জুলি বার্টুসেলি এবং সিলিনি সিএমার ৭টি ছবি দিয়ে সাজানো হবে রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগটি। এই বিভাগের সবগুলো চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে। উৎসবের বাংলাদেশ প্যানোরোমা বিভাগটি না থাকলেও এবার তা সংযোজিত হয়েছে। চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠন ফিপরেসি এই বিভাগে সমালোচক পুরস্কার দেবেন। বিভাগের ১০টি চলচ্চিত্র থেকে ১টি চলচ্চিত্র শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র এবং একজন নির্মাতা পাবেন শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার।

৪১টি সিনেমা নিয়ে সাজানো সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড বিভাগ থেকে দর্শক জরিপে একটি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে। ১১টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে চিলড্রেন্স বিভাগটি। গণগ্রন্থাগারে শওকত ওসমান মিলনায়তন ও জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে এই চলচ্চিত্রগুলো। এই বিভাগ থেকে একটি চলচ্চিত্র পাবে ‘বেস্ট জুভেনাইল অডিয়েন্স বাদল রহমান অ্যাওয়ার্ড’। রাজশাহীর আড়ানিতে লাল মাফলার দিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা রুখে দেয়া দুই শিশু বিজয়ী নির্মাতার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেবেন। ২৯টি চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হবে স্পিরিচুয়াল ফিল্মস বিভাগ। রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে প্রদর্শিত সিনেমাগুলো থেকে একটি শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র এবং একটি শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার পাবে।

৫০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হচ্ছে উইমেন ফিল্ম মেকারস সেশন, যার সবগুলো চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে। এ বিভাগ থেকে একটি শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র, একটি শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার দেয়া হবে।

দেশ-বিদেশের ৫২টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে শর্ট এ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম বিভাগ। জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে এই চলচ্চিত্রগুলো। এই বিভাগে রয়েছে শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র ও শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার।

পল্লীকবি জসীমউদ্্দীন জাদুঘরের উন্মুক্তকরণ ॥ দেশের পথিকৃৎ কবি পল্লীকবি জসীমউদ্্দীন। লেখনীর মাধ্যমে এই কবি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাজে সহযোগী হিসেবে আমৃত্যু কাজ করেছেন। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এই কবির অবদানকে তুলে ধরতে সরকার কবির নিজ গ্রাম ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে প্রতিষ্ঠা করেছে ‘পল্লীকবি জসীমউদ্্দীন জাদুঘর ও লোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’। জাতীয় জাদুঘরের এই শাখা জাদঘুরটি দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের জন্য পয়লা ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেয়া হয়। প্রাপ্তবয়স্করা ২০ টাকা এবং শিশুরা ১০ টাকা দর্শনীর বিনিময়ের এ জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। শনিবার থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা এবং শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

জাতীয় যন্ত্রসঙ্গীত উৎসবের সমাপ্তি ॥ আতশবাজির আলোর ঝলকানির সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রের সুর মূর্ছনায় বৃহস্পতিবার শেষ হলো শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দশদিনের জাতীয় যন্ত্রসঙ্গীত উৎসব। একাডেমি প্রাঙ্গণ নন্দনমঞ্চে অনুষ্ঠিত হওয়া এ উৎসবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ৬৪ জেলার যন্ত্রশিল্পীরা অংশ নেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী।

সমাপনী দিনে বেহালা বাজিয়ে শোনান ড. রূপসী মমতাজ, বাঁশিতে সুর তোলে মূর্তজা কবির মুরাদ, সন্তুর বাজিয়ে শোনান সালাউদ্দিন শান্তনু, বিএমএফ অর্কেস্ট্রা দল উপস্থাপন করে ‘বায়ান্ন থেকে পঁচাত্তর’ শীর্ষক পরিবেশি। এছাড়াও ছিল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পরিবেশিত অর্কেস্ট্রার সুর। জেলার পরিবেশনায় লালমনিরহাটের শৈবাল কান্তি রায় তবলা, আব্দুল আজিজ কি-বোর্ড, দিলীপ কুমার রায় তবলায়, মুকুল চন্দ্র রায় তবলা, চিত্ত রঞ্জন দোতরা, সোলদার আলী- সানাই, শ্রী চন্দ্রধর বীনা, মনি মোহন রায় খমক, গোলক চন্দ্র হারমোনিয়াম, উত্তম কুমার রায় মন্দিরা, খোল, সারিন্দা, তবলা, দুলাল চন্দ্র রায় মন্দিরা ও তবলা এবং ফুলবাবু দোতরায় সুর তোলেন। তাদের পরিবেশনায় ছিল আসরী, তবলায় লহরা, ভাওয়াইয়া সুর, বিয়ের গীত, কুশান সুর, ক্ষ্যাপা সুর, কীত্তন সুর, পালাগানের সুর।

রাঙ্গামাটির সুবল বিশ্বাস ও অর্নব মল্লিক তবলা, ধারশ মনি চাকমা বাঁশী, শশীরন চাকমা দুদুক, জয় শান্তি চাকমা শিঙা, শান্তিময় চাকমা হেংগ্রং, সীমান্ত চাকমা গিটার, ঝুলন দত্ত হারমোনিয়াম, শৈল দেওয়ান ও সচিব চাকমা ঢোল, করুণাময় চাকমা মং, মিলন ধর কি-বোর্ড এবং শিমুল কুমার দাশ ড্রাম প্যাডের সুরে মুগ্ধ করেন সকলকে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: