২১ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হলিউড ও বলিউডকে পাল্লা দিতে সক্ষম হবে ॥ তথ্যমন্ত্রী


বাংলাদেশের চলচ্চিত্র হলিউড ও বলিউডকে পাল্লা দিতে সক্ষম হবে ॥ তথ্যমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, চলচ্চিত্র একটি গণমাধ্যম। বিভিন্ন জাতীয় বিষয় জোড়ালোভাবে উপস্থাপনের যোগ্যতা রাখে। চলচ্চিত্র শিল্পকে উন্নত করতে থোক বরাদ্দসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের চলচ্চিত্রও হলিউড-বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারাবিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের মনোরঞ্জনে সক্ষম হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে লাইসেন্স পাওয়া বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আব্দুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ৯টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঘোষণাপত্র পেয়েছে ২১৪টি পত্র-পত্রিকা। লাইসেন্স পাওয়া টিভি চ্যানেলগুলো হচ্ছে- বৈশাখী টিভি, আর টিভি, বাংলা ভিশন, যমুনা টিভি, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি নিউজ ও দেশ টিভি। এর মধ্যে চ্যানেল ওয়ান ও সিএসবি নিউজের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। আর দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে। মন্ত্রী সংসদকে চ্যানেল দুটির সম্প্রচার বন্ধ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চ্যানেল দুটিকে ’দাঙ্গার উসকানিদাতা’ হিসাবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের তেঁতুল হুজুরের (আল্লামা আহমদ শফি) নেতৃত্বে যেদিন (২০১৩ সালের ৫ মে) ঢাকা দখলের চেষ্টা চলছিলো তখন ওই দুটি টিভি চ্যানেল সরকারের বিধি-নিষেধ না মেনে উল্টো দাঙ্গায় উসকানী দিয়ে যাচ্ছিলো। এটা দেখেই সেদিন সন্ধ্যার পর আমরা চ্যানেল দুটির সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়, যা এখনও বলবৎ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের জবাবে তথ্য মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ৪৫টি এবং নিবন্ধিত পত্রিকার সংখ্যা ৩ হাজার ২৫টি। এর মধ্যে ১ হাজার ১৯১টি দৈনিক, ৩টি অর্ধসাপ্তাহিক, ১ হাজার ১৭৫টি সাপ্তাহিক, ২১২টি পাক্ষিক, ৪০৪টি মাসিক, ৭টি দ্বিমাসিক, ২৮টি ত্রৈমাসিক, ১টি চতুর্মাসিক এবং ২টি করে ষান্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকা রয়েছে। ঢাকা থেকে ১ হাজার ২৪৬টি এবং মফস্বল থেকে ১ হাজার ৭৭৯টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি জানান, সারাদেশের অনলাইন পত্রিকার হালনাগাদ কোনো তালিকা সরকারের কাছে নাই। তবে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য ২ হাজার ১৮টি অনলাইন পত্রিকার আবেদন পাওয়া গেছে।

সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু জানান, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের বিষয়ে ভারতীয় দর্শকদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে ডাউনলিংক ফি বেশি হওয়ায় ভারতীয় ক্যাবল অপরারেটররা এ বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছে না। বিষয়টি ভারতীয় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশসহ সার্কভূক্ত দেশসমূহের টিভি চ্যানেলসমূহ যাতে সহজে ভারতে সম্প্রচার করা যায় সেই লক্ষ্যে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্ক ফোরামে উত্থাপনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: