১৮ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া যায় ॥ প্রধানমন্ত্রী


কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া যায় ॥ প্রধানমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ মরণশীল। জন্ম নিলে মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়াটাই একজন রাজনীতিকের বড় পাওয়া, বড় অর্জন। সততা নিষ্ঠা একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করে আমাদের প্রয়াত নেতৃবৃন্দ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। যদি একজন রাজনীতিবিদ গণমানুষের পাশে থাকেন ও সমর্থন পান, তাহলে অর্থ-বিত্ত-শক্তি কোন কিছুই কাজে লাগে না।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার ১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিনে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় আরও অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, এবি তাজুল ইসলাম, কামাল আহমেদ মজুমদার, মীর শওকাত আলী বাদশা ও ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রয়াত নেতাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদায়ী বছরে অনেক নিষ্ঠাবান নেতাকে আমরা হারিয়েছি। প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তাঁর কাজের সফলতায় মৎস সম্পদ উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। একজন রাজনীতিবিদ সৎ হলে দেশ এগিয়ে যায়। ছায়েদুল হককে আমরা সেই রকমই একজন মন্ত্রী পেয়েছিলাম। তিনি এমনই একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন যে তিনি ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়। তখনও ছায়েদুল হক বিজয়ী হয়েছিলেন। তৃণমূলে তাঁর জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে ছিল তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেষ্টা করেও তাঁকে হারাতে পারেনি। কারণ জনগণ তাঁর সঙ্গে ছিল, জনগণের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। আবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের গোলাস মোস্তফা তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছিলেন যে তাঁর সঙ্গে জাতীয় পার্টির যে প্রার্থী ছিল তিনি শিক্ষা দীক্ষায় ও বিদেশ থেকে এসেছিলেন, অর্থ বিত্তশালী ছিলেন। বলা হয় ওই এলাকা জাতীয় পার্টির এলাকা। এটা একজন রাজনীতিবিদের জীবনে শিক্ষনীয়ও বটে। তৃণমূলে তাঁর যে সম্পর্ক ছিল সাধারণ মানুষের প্রতি যে দরদ ছিল তাঁর প্রতি মানুষের যে সমর্থন ছিল। সেই সমর্থনে তিনি জয়ী হয়ে আসেন। মূলত একজন রাজনীতিবিদ যদি গণমানুষের পাশে থাকেন মানুষের সমর্থন পান তাহলে অর্থবিত্ত শক্তি কোন কিছুই কাজে লাগে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাস চালাতো, সেখানে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করত। নির্বাচন বানচালের নামে সেখানে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ চালিয়ে কয়েকজন সদস্যকেও হত্যা করা হয়। প্রায় দেড় শতাদিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগুণ দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। বিএনপি-জামায়াতের ভয়াল সন্ত্রাসের মধ্যেও অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মঞ্জুুরুল ইসলাম লিটন নির্বাচিত হয়ে আসে। দুর্ভাগ্য আততায়ীর গুলিতে লিটন নিহত হন।

তিনি বলেন, এরপর একেবারে তৃণমূলের একজন নেতা গোলাম মোস্তফা সেখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সবসময় আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি একেবারেই একজন তৃণমূলের মানুষ। ইউনিয়নেই থাকতেন, তিনি একজন ভাল লেখক, কবি একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তৃণমূলের সঙ্গে মিশে যাওয়া একজন নেতা ছিলেন তিনি। জনপ্রিয়তার কারণে তিনি নির্বাচিত হয়ে আসেন। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন, একমাস ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

যাঁদের নামে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় ॥ বর্তমান সংসদের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ, সাবেক ডেপুটি স্পীকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, সাবেক গণপরিষদ সদস্য ফজলুর রহমান ভূইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন সরকার, কাজী নুরুজ্জামান, গাজী আতাউর রহমান, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এছাড়া ভাষা সংগ্রামী মুহাম্মদ মুহাম্মদ তকীয়ুল্লাহ জয়নাল আবেদীন, দলিল উদ্দিন, বিজ্ঞানী আবদুল লতিফ, সংগীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী, নৃত্যশিল্পী রাহিজা খানম ঝুনু, ওয়ালটন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্পে, মিসরে মসজিদে বোমা হামলায়, ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড়ে এবং দেশে বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করে সংসদ। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী চলমান সংসদের কোনো সদস্যের মৃত্যুতে তাঁর জীবন ও কাজের উপর আলোচনা করা হয়। পরে অধিবেশন মুলতবি হয়। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য বিরতি রাখা হবে বলে জানান স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: