২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হিমালয়কন্যাদের গোলবন্যায় ভাসাল বঙ্গকন্যারা


হিমালয়কন্যাদের গোলবন্যায় ভাসাল বঙ্গকন্যারা

রুমেল খান ॥ পুরো ম্যাচেই ডাগআউটে গোলাম রব্বানী ছোটন ছিলেন অসম্ভব সিরিয়াস ও উত্তেজিত। ‘ধর’, ‘মার’, ‘সামনে’ ‘পেছনে’ ‘অমুককে দে’... প্রেসবক্স থেকেই দেখা ও শোনা যাচ্ছিল সব। ছোটনের এই লম্ফঝম্ফ বৃথা যায়নি। তার শিষ্যারা বড় জয়ই উপহার দিয়েছে তাকে। সাফ অ-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ের মাসে বিজয় দিয়েই শুরু করলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বঙ্গকন্যারা হিমালয়কন্যাদের ভাসালো গোলবন্যায়। রবিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে নেপালকে। বিজয়ী দল ম্যাচের প্রথমার্ধেই এগিয়ে ছিল ৪-০ গোলে। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন করে নয়নাভিরাম হ্যাটট্রিক। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করে বিজয়ী দলের অপর ফরোয়ার্ড মনিকা চাকমা।

খেলায় আগাগোড়া প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তারা যেভাবে খেলেছে তাতে করে ১০ গোলে না জেতাটা ছিল বিস্ময়কর এবং হতাশাজনক। কেননা, গোলের প্রচুর সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। বিশেষ করে তহুরা যেভাবে খেলেছে, তাতে সে ডাবল হ্যাটট্রিক করতেই পারতো। কিন্তু বক্সের ভেতর ঢুকে অতিরিক্ত ড্রিবলিং করায় গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে একাধিক।

ম্যাচের ৪ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের সীমানার বাঁপ্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সের ভেতর শামসুন্নাহারের শট নেপালের গোলরক্ষক কারিনা ধিমাল ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে। ৭ মিনিটে বাঁপ্রান্ত দিয়ে নেপালে ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে তহুরা ক্রস করে। মারজিয়ার বাঁ পায়ের উঁচু শট দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্রসবারে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। হতাশায় পোড়ে বাংলাদেশ শিবির।

১০ মিনিটে বক্সের ভেতর মারিয়ার ক্রস। তহুরা মিস করে। কর্নার পায় বাংলাদেশ। সেই কর্নার থেকেই গোলের ‘গোলের হালখাতা’ খোলে বাংলাদেশ দল। ১১ মিনিট। মনিকার কর্নার। নেপালের মান মায়ার পায়ে লেগে গোল (১-০)। উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ। ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। বক্সের মধ্যে জটলা। সহ-অধিনায়ক ও ফরোয়ার্ড আনুচিং মগিনির শট আশ্রয় নেয় জালে (২-০)। ৩২ মিনিটে বক্সে ঢুকে তহুরা একা পায় নেপালী গোলরক্ষক কারিনাকে। কারিনাকে কোন সুযোগ না দিয়েই ডান পায়ের গড়ানো শটে তহুরার গোল (৩-০)। ৩৫ মিনিটে মারিয়ার পাসে বল নিয়ে তহুরা বক্সে ঢুকে পড়ে। কিন্তু অতিরিক্ত ড্রিবলিং করায় সঠিকভাবে বল মারতে না পারায় বল ধরে ফেলে গোলরক্ষক। নিশ্চিন্ত গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ৩৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ক্রস করে ডিফেন্ডার আনাই মগিনি। সেই ক্রসে পা ছোঁয়ালেই নিশ্চিত গোল। কিন্তু সময় মতো সেখানে হাজির হতে পারেনি কেউই। ম্যাচের সংযুক্তি সময়ে (৪৫+১ মিনিট) আবারও গোল করে বাংলাদেশ। ডি-বক্সের বাইরে তহুরা ড্রিবলিং করে বল পাস দেয় আনুচিংকে। দেরি না করে প্লেসিং শটে বল জড়িয়ে দেয় সে (৪-০)।

৫৭ মিনিটে বক্সের ভেতর মনিকার শট গোলরক্ষক পাঞ্চ করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে। ৫৯ মিনিটে বক্সের ভেতর আনুচিং বল পেয়ে শট করে। গোলরক্ষক প্রতিহত করে। বল চলে যায় বাঁপ্রান্তে দাঁড়ানো সুযোগ সন্ধানী তহুরার কাছে। দেরি না করে ডান পায়ের জোরালো শটে তহুরা বল জড়িয়ে দেয় জালে (৫-০)।

৬০ মিনিটে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মারজিয়ার বাঁ পায়ের উঁচু শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৭২ মিনিটে বক্সের ভেতর আনুচিংয়ের পাস থেকে বল পেয়ে তহুরার উঁচু শটে আবারও গোল (৬-০)। ৭৬ মিনিটে বক্সের ভেতর মনিকার বাঁ পায়ের উঁচু শট ক্রসবারে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। ৮৩ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বল পেয়ে মনিকার উঁচু শট পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে বাইরে যায়। ৯০ মিনিটে। বাঁপ্রান্ত। তহুরার বাঁ পায়ের উঁচু ক্রস বদলি ফরোয়ার্ড সাজেদা খাতুন হেড করলে পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটেই বক্সের ভেতর আবারও মনিকার উঁচু শট পোস্টের ওপর দিয়ে গিয়ে মিস। শেষ পর্যন্ত খেলা শেষ হলে ৬-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ছোটনের শিষ্যারা।