২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মির্জাপুর মুক্ত দিবসে, মুক্তিযোদ্ধাদের র্যালী ও সমাবেশ


মির্জাপুর মুক্ত দিবসে, মুক্তিযোদ্ধাদের র্যালী ও সমাবেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, মির্জাপুর ॥ ১৩ ডিসেম্বর মির্জাপুর মুক্ত দিবস। ৭১’র এই দিনটিতে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা মির্জাপুর হানাদার মুক্ত করে। দিবসটি উপলক্ষে মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল র্যালী ও সমাবেশ করেছে।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পতাকা হাতে শত শত মুক্তিযোদ্ধা মুক্তির মঞ্চে জড়ো হয়। এ সময় মুক্তির মঞ্চে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মো. একাব্বর হোসেন এমপি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু মির্জাপুরের ইউএনও ইসরাত সাদমীন। পরে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মো. একাব্বর হোসেন এমপি। এ সময় বক্তৃতা করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস ডেপুটি কমান্ডার সিদ্দিক হোসেন মুক্তিযোদ্ধা সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক জাহাঙ্গীর হোসেন আম্বার আলী প্রমুখ। পরে র্যালি নিয়ে মির্জাপুর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ শোনে মির্জাপুরের মুক্তিকামী মানুষ উজ্জীবিত হতে থাকে। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি ওপর নৃশংস ও বর্বর হামলা চালায় । ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য এ এলাকার যুব সমাজ সংঘটিত হতে শুরু করে। মির্জাপুর সদয় কৃষ্ণ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শরীরচর্চা শিক্ষক নিরঞ্জন সাহার তত্ত্বাবধানে চলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ। কেউ কেউ কাদেরিয়া বাহিনীতে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিতে শুরু করেন। এছাড়া গঠন করা হয় সংগ্রাম পরিষদ।

মুক্তিযোদ্ধারা বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে জানতে পারেন ৩ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী টাঙ্গাইল প্রবেশ করবে। এর পর সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য ফজলুর রহমান ফারুকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা গোড়ান-সাটিয়াচড়ায় বাংকার খনন শুরু করে। অন্যদিকে কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মুক্তি বাহিনীর একটি দল নাটিয়া পাড়ায় পজিশন নেয়।

৩রা এপ্রিল ভোরে পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে গোড়ান-সাটিয়াচড়া নামক স্থানে পৌঁছার পর ইপিআর এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বাধার সম্মুখিন হয়। এর পর চলে তুমুল প্রতিরোধ যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ২২ ইপিআরসহ ১০৭ বাঙালি নিহত হন এবং প্রায় ৩শ জন পাকসেনা হতাহত হয়।

৩ এপ্রিলের যুদ্ধের পর পাক হানাদার বাহিনী মির্জাপুর থানা ও সার্কেল অফিসে ঘাঁটি গেড়ে এলাকায় জ্বালাও পোড়াও এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করে। ৭ মে হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় দোসররা মির্জাপুর গ্রামে গণহত্যা চালিয়ে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিসহ ৩১ বাঙালিকে হত্যা করে। গুলি করে হত্যা করা হয় দেশ প্রেমিক মাজম আলীকে।

্এরপর শুরু হয় পাকিস্তানীদের উৎখাতের পালা। নবেম্বরে মুক্তিযোদ্ধারা মির্জাপুরকে পাক বাহিনী মুক্ত করলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার পুনরায় দখল করে। এরপর কাদেরিয়া বাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধের দুধর্ষ কমান্ডার শাহ আজাদ কামাল, মো. একাব্বর হোসেন এমপি ও মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুর রহমান, রবিউলসহ মুক্তিযোদ্ধারা সারাশি অভিযান চালিয়ে ১৩ ডিসেম্বর প্রাণপণ যুদ্ধ করে মির্জাপুরকে পাক বাহিনীর দখল মুক্ত করে এবং তৎকালীন সিও অফিসে (বর্তমানে ইউএনও অফিস ) স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: