১৮ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিরোপায় চোখ সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটসের


শিরোপায় চোখ সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটসের

মিথুন আশরাফ ॥ বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচ আজ। সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দলগুলোর একটিই আশা থাকে। সেটি হচ্ছে, জয়। জিতলেই যে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাবে। ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের স্বপ্নও তাই। শিরোপাতেই চোখ রয়েছে সাকিবের।

সোমবার নিজেদের প্রস্তুত করেছেন ঢাকার ক্রিকেটাররা। শেষদিনের মতো নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন। কঠোর অনুশীলন করেছেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি ভবনের মাঠে অনুশীলন করেছেন। সাকিব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকেই নজর দেয়ার কথা বলেছেন। সাকিব যখন সোমবার দুপুরে ফাইনালে দলের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন, তখনও তিনি জানেন না, ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কোন দল। কারণ, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি যে শেষ হয়নি। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা। তাই সাকিব প্রতিপক্ষ নিয়ে নয়, নিজেদের খেলা নিয়ে, নৈপুণ্য দেখিয়ে শিরোপা জেতার কথাই বলেছেন। জানিয়েছেন, ‘দুইটি দলের সঙ্গেই খেলেছি। রংপুরের (রাইডার্স) সঙ্গে দুটি ম্যাচ, কুমিল্লার (ভিক্টোরিয়ান্স) সঙ্গে তিনটি। সবাই সবার সম্পর্কে এখন জানে। যাদের সঙ্গেই খেলা হোক, আশা করি ভাল একটা ম্যাচ হবে। যেহেতু একটি দলের হয়ে খেলছি, অবশ্যই চেষ্টা থাকবে দল যেন চ্যাম্পিয়ন হয়।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হলো, ওই দিনটিতে কে ভাল খেলে। টি২০তে একজন-দুজনও খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ভাল একটা ম্যাচ হোক। সবাই উপভোগ করুক খেলাটা।’

প্রথম কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লাকে পাত্তাই দেয়নি ঢাকা। ৯৫ রানে জিতে ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছে। লীগ পর্বে কুমিল্লার কাছে দুই ম্যাচ হেরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে জিতেছে ঢাকা। বোঝাই যাচ্ছে, এমন কঠিন ম্যাচে ঢাকাই ফেবারিট। আর রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে লীগ পর্বে এক ম্যাচে হেরেছে, আরেক ম্যাচে জিতেছে ঢাকা। কুমিল্লার চেয়ে রংপুরই ঢাকার কাছে কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা। কারণ, রংপুরে যে টি২০ স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানে ভরা। টি২০ ক্রিকেটের রাজা ধরা হয় যাকে, সেই ক্রিস গেইল আছেন রংপুরে। কিন্তু সাকিব এসব নিয়ে ভাবছেনই না। তিনি জানেন, ঢাকাও অনেক শক্তিশালী দল। দলটি লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। যদি আবার ফাইনালে জিতে, তাহলে টানা দ্বিতীয়বার ঢাকা ডায়নামাইটস শিরোপা ঘরে তুলবে। সেই সঙ্গে সাকিবও টানা দুইবার অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা উঁচিয়ে ধরবেন। সাকিব জানেন ঢাকা অনেক শক্তিশালী দল। বিশেষ করে স্পিনে ঢাকার ধারে কাছে কেউ নেই। সাকিব নিজে আছেন। সুনীল নারাইন, শহীদ আফ্রিদি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত রয়েছেন। তাইতো সাকিব বলেছেন, ‘আমাদের বোলিং আক্রমণ ভাল। তিন মূল স্পিনারের পাশাপাশি রনিও পুরো মৌসুমে ভাল বোলিং করেছে। মোসাদ্দেকও খুব ভাল করছে। সব মিলিয়ে বোলিং আক্রমণ ভাল করছে।’ সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে বলেন, ‘ব্যাটিং মাঝেমধ্যে ব্যর্থ হলেও এখন ধারাবাহিক। টুর্নামেন্টের এই সময়টাতে এই ধারাবাহিকতটাই গুরুত্বপূর্ণ। মোমেন্টামও আছে। চেষ্টা থাকবে আরেকটি ফাইনাল জেতার। এখানে অনেক বড় বড় ক্রিকেটার আছেন। তাদের সবার ভেতরই ভাল করার তাড়া থাকে এ রকম ম্যাচে।’

ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন মনে করছেন, এ মুহূর্তে ঢাকাই সেরা। সুজন জানিয়েছেন, ‘ঢাকা যখন দল বানায় কাগজে কলমে সেরা ছিল। মাঠে আমরা এই মুহূর্তে সেরা, যেহেতু আগে ফাইনালে উঠেছি, সেরা বলতেই হবে। তো দলটা বানানো হয়েছিল চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখার জন্য। আমাদের দলের মধ্যে সেই বারুদও আছে। টি২০তে স্পেশালিস্টদের কথা যদি বলি পোলার্ড, নারাইন, লুইস, আফ্রিদি, সাকিব অনেকে আছে ম্যাচ উইনার। সবাই তাদের প্রমাণ রেখেছে। আমাদের খারাপ দিনে সাকিব দারুণ করেছে, রংপুরের সঙ্গে ব্যাট-বল দুই জায়গাতেই দারুণ ছিল। আমি বিশ্বাস করি, আমরা ক্যাপাবল ফাইনাল জেতার, আমরা এটা ডিজার্ভও করি।’

সবার ভেতরই একই প্রশ্ন, শিরোপা এবার কার? ঢাকাই ফেবারিট ধরে নেয়া হচ্ছে। দলটি যে ধারাবাহিক জয়ের মধ্যে আছে। ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে আসরের পর্দা নামবে আজ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কুমিল্লা কিংবা রংপুর যে দলই ঢাকার প্রতিপক্ষ হোক, ঢাকাকেই ফেবারিট মানা হচ্ছে। আসর শুরুর আগেই ঢাকা শক্তিশালী দল বানিয়েছে। ‘কাগজে-কলমে’ ঢাকাকেই সেরা দল ভাবা হয়েছে। ফাইনালে উঠে সেই প্রমাণ ঢাকা দিয়েছেও। দেশী-বিদেশী সেরা ক্রিকেটারদেরই দলে ভিড়িয়েছে সাকিবের দল। তবে ফাইনালে জমজমাট একটি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ঢাকার প্রতিপক্ষ যে দলই হোক, শক্তিমত্তায় সমানই থাকবে। ফাইনালে ওঠা দলতো আর দুর্বল হতে পারে না। তাই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

ঢাকার ব্যাটিংয়ে শুরুতে এভিন লুইস, মেহেদী মারুফ রয়েছেন। এরপর জো ডেনলি, কাইরন পোলার্ড, সাকিব আল হাসান, শহীদ আফ্রিদি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সুনীল নারাইন, জহুরুল ইসলাম অমি রয়েছেন। প্রত্যেকে অসাধারণ ব্যাটসম্যান। বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা রাখেন। একজনকে আউট করলে, আরেকজন আছেন। প্রথম নয়জনই ব্যাট হাতে ঝলক দেখাতে প্রস্তুতও। বোলিংয়ে ঢাকার মোহাম্মদ আমির, আবু হায়দার রনি, সাকিব আল হাসান, সুনীল নারাইন, শহীদ আফ্রিদি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আছেন। ঢাকাকেই তাই সেরা ধরা হচ্ছে।

অবশ্য বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচে লড়াই হওয়ার তেমন ইতিহাস নেই। এর আগে চারবার বিপিএল হয়েছে। ২০১৫ সালে তৃতীয় আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেই আসরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। বরিশাল বুলসের বিপক্ষে জিততে শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হয়েছিল কুমিল্লাকে। কিন্তু ২০১২ সালে প্রথম বিপিএলে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ২০১৩ সালে দ্বিতীয় বিপিএলে আবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ২০১৬ সালে চতুর্থ বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটস যে চ্যাম্পিয়ন হয়, সহজ জয়ই পায়। প্রতিপক্ষ দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছড়িয়ে দিতে পারেনি। এবারও কী সেই রকমই হবে?

সেই রকমটি হওয়ার সম্ভাবনা এবার খুবই কম। কারণ, ফাইনালে এবার ঢাকার প্রতিপক্ষ কুমিল্লা কিংবা রংপুর যে দলই থাকুক, খুবই ব্যালান্সড। শক্তিশালী দল। এখন ফাইনাল ম্যাচের চাপ যে দলের ক্রিকেটাররা নিতে পারবে, তারাই শিরোপা হাতে তুলবে। তবে শিরোপার দিকেই নজর দিচ্ছে সাকিবের ঢাকা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: