২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধি প্রসঙ্গ ॥ গেজেটে আচরণবিধি


বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধি প্রসঙ্গ ॥ গেজেটে আচরণবিধি

বিকাশ দত্ত ॥ অবশেষে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির বহু আলোচিত গেজেট প্রকাশ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের আদেশক্রমে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোঃ জহিরুল হক স্বাক্ষরিত ২৪ পৃষ্ঠার এই গ্রেজেট প্রকাশ করা হয় সোমবার। এই বিধিমালা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা ২০১৭ নামে অভিহিত হবে। সার্ভিসের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে এক বা একাধিক কারণে সুনিদিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে এই বিধিমালা ও অন্যান্য বিধান অনুসারে অনুসন্ধান এবং বিভাগীয় মামলা রুজুসহ আনুষঙ্গিক সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া অনুসন্ধান ইত্যাদি বিষয়ে সুপ্রীমকোর্টের উদ্যোগ, বিভাগীয় মামলা ও সূচনা রুজু অভিযোগ বিবরণী ও অভিযোগনামা, সাময়িক বরখাস্তকরণ ও এর অবসান, দ-সমূহ, তদন্ত ও দ- আরোপের পদ্ধতি, তদন্ত কার্যক্রম, তদন্তের সময়সীমা ও প্রতিবেদন, তদন্ত প্রতিবেদনের বিবেচনায় কতিপয় সিদ্ধান্ত, শারীরিক ও মানসিক অদক্ষতার ক্ষেত্রে অনুসন্ধান, সার্ভিস ত্যাগের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান, ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি, আপীল ও রিভিউ, অন্যান্য দ- পুনঃবিবেচনার আবেদন, নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ, সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শের কার্যকারিতা, বিভাগীয় মামলা হতে কার্যকারিতা, বিভাগীয় মামলা হতে অব্যাহতির ফলসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিধিমালা সার্ভিসের কোন শিক্ষানবিসের ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য হবে না। দুর্নীতি ব্যতীত অন্য কোন কারণে উপবিধি (৩) এ উল্লেখিত বিধিমালা অনুসারে কোন শিক্ষানবিসের চাকরির অবসান করা হলে উক্ত অবসানের এই বিধিমালা ও অধীনে চাকরি হতে বরখাস্ত বা অপসারণ বা অবসর হিসেবে গণ্য হবে না। সার্ভিসের কোন সদস্যকে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদানের সুযোগ না দিয়ে এবং ব্যাখ্যা প্রাপ্তির পর সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শ গ্রহণ না করে তার বিরুদ্ধে বিধি ৩-এর উপবিধি (১) অনুসারে অভিযোগ আনয়ন বা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিরূপণের পদক্ষেপ গ্রহণ বা বিভাগীয় মামলা রুজুর কোন কার্যক্রমের সূচনা করা যাবে না। উপবিধি-২ অনুসারে প্রাপ্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য (যদি থাকে) বিবেচনার পর, উপযুক্ত কর্র্র্তৃপক্ষ যদি মনে করে যে বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান প্রয়োজন, তাহলে সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শক্রমে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করবে কিংবা একাধিক কর্মকর্তা সমন্বয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবে। এ ক্ষেত্রে সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শ প্রাপ্তির পর প্রেষণে নিয়োজিত অভিযুক্ত কর্মকর্তার উর্ধতন বা তদুর্ধ পর্যায়ের সার্ভিসের একজন কর্মকর্তাকে সভাপতি করে অপর দুই সদস্যের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে উক্তরূপ তদন্তকার্য সম্পন্ন হবে। শর্ত থাকে যে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগীয় ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থা প্রতিষ্ঠানের প্রেষণে কর্মরত থাকাবস্থায় কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃত কোন অভিযোগের অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত করে পূর্বে বর্ণিত তদন্তকার্য সম্পন্ন করতে হবে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা যুগ্ম জেলা জজ বা নি¤œতর পর্যায়ের কর্মকর্তা হলে, সার্ভিস পদে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। সার্ভিসের কোন সদস্যের বিরুদ্ধে বিধি-৬ অনুসারে মামলা রুজুর সময় বা পরবর্তী যে কোন পর্যায়ের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ, সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শ অনুসারে লিখিত আদেশ দ্বারা চাকরি হতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে। বিভাগীয় কোন মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শ অনুসারে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার ওপর বিধি ১৬তে উল্লিখিত দ-ের যে কোন একটি আরোপ করতে পারবেন। দ-ের মধ্যে রয়েছে, তিরস্কার বা ভর্ৎসনা, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদোন্নতি স্থগিত রাখা, যা এক বছরের বেশি সময় হতে পারবে না। পেনশনের ওপর কোন প্রভাব আরোপ না করে বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখা। বিভাগীয় মামলার ক্ষেত্রে নি¤েœাক্ত দ-গুলো গুরুদ- হিসেবে গণ্য হবে। সার্ভিসের প্রবেশ পদ ব্যতীত অন্যান্য পদে কর্মরত অভিযুক্ত কর্মকর্তার ক্ষেত্রে তার বেতন বর্তমান বেতন স্কেলের একধাপ নি¤œতর স্কেলে অবনমিতকরণ। উক্ত কর্মকর্তার ভবিষ্যত পদোন্নতি বন্ধকরণ। চাকরি হতে বরখাস্তকরণ, যা পেনশন প্রাপ্তি বা ভবিষ্যতে সরকারী চাকরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হবে। চাকরি হতে অপসারণ যা পেনশন প্রাপ্তি বা ভবিষ্যতে সরকারী চাকরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হবে। চাকরি হতে অব্যাহতি যা, যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে ভবিষ্যতে সরকারী বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের/সংস্থার চাকরি লাভের সুযোগ অবারিত রাখবে। বেতন স্কেলে প্রারম্ভিক ধাপে স্থায়ী ভাবে অবনমিত করে দেয়া। বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়া।

তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ বিধি ১৮(১) (গ) তে নির্ধারিত চার মাসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারলে উল্লেখপূর্বক সময় বর্ধনের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনাক্রমে উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষ অনধিক দুই মাস পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারবে। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ যদি অভিযুক্ত কর্মকর্তার ওপর গুরুদ- আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তা হলে তদন্ত রিপোর্টেও অনুলিপি অভিযোগ নাম, অভিযোগ বিবরণী, অভিযুক্ত কর্মকর্তার জবাব ও উভয় পক্ষের সাক্ষ্য আনুষঙ্গিক সকল বিষয় সুপ্রীমকোর্টে প্রেরণ করবে এবং সুপ্রীমকোর্ট সমূহ বিষয়াদি বিবেচনা করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ওপর কোন লঘুদ- বা গুরুদ- আরোপ করা যায় কিনা বা অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে কিনা বা কোন বিষয়ে অতিরিক্ত তদন্ত প্রয়োজন কিনা সে বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করবেন। কোন ফৌজদারি অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আদালত উক্ত অপরাধ বিচারের উদ্দেশে আমলে গ্রহণ করে থাকলে উক্ত আদালত অবিলম্বে বিষয়টি সুপ্রীমকোর্টের মাধ্যমে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে। এবং উক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন কিনা তদবিষয়ে উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষ সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শ গ্রহণক্রমে প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করবে। উক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে ফৌজদারি মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক আদেশ বহাল থাকবে এবং সাময়িক বরখাস্তকৃত উক্ত কর্মকর্তার খোরাকি ভাতা ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধি ১২ ও ১৩ প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া বিভাগীয় মামলায় তিরস্কারের দ-প্রাপ্ত সার্ভিস সদস্য উক্ত দ-াদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে দ-াদেশের বিরুদ্ধে তার স্থানীয় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল আবেদন করতে পারবেন। এবং তিনি এরূপ আবেদনের আপীলের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করবেন। এই বিধিমালা সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষ পরিপত্র জারির মাধ্যমে অভিযোগ নাম, অভিযোগবিবরণী, অনুসন্ধান বিষয়ক আদেশ ও অন্যান্য আদেশ কারণ দর্শানোর নোটিস, আদেশ, পত্রিকায় প্রকাশিতব্য বিজ্ঞপ্তি, সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরার ফরমের নমুনা তৈরি করতে ও অনুসরণ করতে পারবে।

্এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের কোন দ্বন্দ্ব ছিল না, নেই। একজন ব্যক্তির (বিচারপতি এসকে সিনহা) রাজনৈতিক অভিলাষের জন্য সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। তিনি রিমুভ হওয়াতে সঙ্কট দূরীভূত হয়েছে। এ কারণে আজ নিম্ন আদালতের গেজেট বের হয়েছে।’ মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচারকদের নিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ ও অপসারণসংক্রান্ত বিধিমালা না করায় গত একবছর ধরে সুপ্রীমকোর্টের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের টানাপোড়েন চলে আসছে। এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকার ২৫ দফা সময় নিয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলা বিধির গেজেটে হয়ে গেছে। এই বিধিমালায় আপত্তি জানিয়ে তা ফেরত পাঠিয়েছিলেন পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তার ঘটনাবহুল পদত্যাগের পর দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার সঙ্গে আইনমন্ত্রীর আলোচনার পর বিধিমালা চূড়ান্ত হয়। ‘মাননীয় সুপ্রীমকোর্টের পরামর্শ কিন্তু অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে একটা ঐকমত্যে পৌঁছে এই শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আজ প্রকাশ করা হয়েছে’। বিচারপতি এসকে সিনহা এই বিধিমালা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে দাবি করেন আইনমন্ত্রী। এই শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে অনেক নাটক হয়েছিল। আমি আজ আপনাদের বলব, বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের কোন দ্বন্দ্ব ছিল না। একজন ব্যক্তি এটাকে রাজনীতিকরণ করার চেষ্টার কারণে এটা বিলম্বিত হয়েছিল। সেটা যখনই রিমুভড হয়ে হয়ে গেছে, আমরা কিন্তু বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের ঐকমত্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে আজকে গেজেট করতে পেরেছি।

মাসদার হোসেন মামলার চূড়ান্ত শুনানি করে ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়। ওই রায়ে আপীল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থী ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সর্বোচ্চ আদালত। মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নবেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার একটি খসড়া প্রস্তুত করে সুপ্রীমকোর্টে পাঠায়। সরকারের খসড়াটি ১৯৮৫ সালের সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালার অনুরূপ হওয়ায় তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী বলে গতবছর ২৮ আগস্ট শুনানিতে জানায় আপীল বিভাগ।

এরপর ওই খসড়া সংশোধন করে সুপ্রীমকোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেইসঙ্গে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয় আইন মন্ত্রণালয়কে। এরপর দফায় দফায় সময় দেয়া হলেও সরকারের সঙ্গে আদালতের মতপার্থক্যের কারণে ওই বিধিমালা গেজেট প্রকাশের বিষয়টি ঝুলে থাকে। আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এর আগে শৃঙ্খলা বিধিমালার যে খসড়া সুপ্রীমকোর্টে জমা দেয়া হয়েছিল, গত ৩০ জুলাই তা গ্রহণ না করে কয়েকটি শব্দ ও বিধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি সিনহা। শৃঙ্খলাবিধির সেই খসড়া নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর দেশ ছাড়ার পর ছুটি শেষে ১০ নবেম্বর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

এরপর গত ১৬ নবেম্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার সঙ্গে বৈঠক করে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ওই খসড়া নিয়ে মতপার্থক্য দূর হয়েছে। এরপর তিনি সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন প্রমোটিং ইকোয়ালিটি, জাস্টিস এ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে গেজেট প্রকাশের তথ্য জানান। আনিসুল হক বলেন, “কিছু কিছু প্রতিকূলতা আছে। এই প্রতিকূলতাগুলো কিন্তু আমরা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। একটু সময় হলে আমি মনে করি অনেক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারব।” নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেয়ার একমাত্র এখতিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রপতির। তিনি কখন নিয়োগ দেবেন, সেটা তো তিনি আমাকে বলবেন না। আইনমন্ত্রী একইসঙ্গে বলেন, অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি সংবিধান অনুসারে প্রধান বিচারপতির অনুরূপ সব কাজই করতে পারেন। তিনি বিচারপতি নিয়োগ দিলেও সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ লংঘন করা হয় না।