১৯ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গান কবিতায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব


গান কবিতায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্মরণ করা হবে একাত্তরের বীর শহীদদের। মাতৃভূমির জন্য প্রাণ বিসর্জনকারীদের জানানো হবে বিনম্র শ্রদ্ধা। বিশিষ্টজনদের আলোচনায় উচ্চারিত হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেয়ার বারতা। গান-কবিতার পঙ্ক্তিমালায় অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বারতায় উঠে আসবে একাত্তরের বিজয়গাথা। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আলিঙ্গন করে কাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব। রাজধানীর নানা প্রান্তের ৮টি মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসবের সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। এবারের উৎসব স্লোগান নেয়া হয়েছে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ থেকে। সেই প্রতিপাদ্যটি হচ্ছে ‘৭ মার্চ মুক্তি ও স্বাধীনতার ডাক বাংলার ঘরে ঘরে/৭ মার্চ সম্পদ আজ বিশ্ব-মানবের তরে’। জোটের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ২০০ সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার শিল্পী নানা পরিবেশনায় রাঙিয়ে তুলবেন উৎসব। থাকবে নৃত-গীত, কবিতা আবৃত্তি, পথনাটকের উপস্থাপনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

বুধবার বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসবের উদ্বোধন হবে। উৎসব উদ্বোধন করবেন স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও সংস্কৃতির ¯্রােতধারাকে এগিয়ে নেয়া অগ্রণী নারী শিল্পীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদ, অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার, চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা, আবৃত্তিশিল্পী কাজী মদিনা, নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান প্রমুখ। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পরিবেশিত হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাদায়ী গান-কবিতা। থাকবে নৃত্য পরিবেশনা। সব শেষে ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’ শিরোনামের পথনাটক পরিবেশন করবে শব্দ নাট্যগোষ্ঠী। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে চলবে এ উৎসব। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় শহীদ মিনার থেকে বের হবে বিজয় দিবসের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ১৪ ডিসেম্বর থেকে শহীদ মিনারের পাশাপাশি রাজধানীর আরও ৭টি মঞ্চে ছড়িয়ে যাবে বিজয় উৎসবের অভিযাত্রা। আলোচনার সঙ্গে নাচ-গান, পথনাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে সজ্জিত সেই সাতটি মঞ্চের পরিবেশনা চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রয়াত বিশিষ্টজনদের নামাঙ্কিতসহ এই সাতটি মঞ্চ হলো ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরের নায়করাজ রাজ্জাক ও আবৃত্তিশিল্পী কাজী মঞ্চ, দনিয়ার আব্দুল জব্বার ও বারী সিদ্দিকী মঞ্চ, উত্তরার রবীন্দ্র সরণী আনিসুল হক মঞ্চ, মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা মঞ্চ ও অপু আনাম চলচ্চিত্র মঞ্চ, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ মঞ্চ ও বাহাদুর শাহ পার্ক মঞ্চ।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় এবারের বিজয় উৎসবের বিস্তারিত তথ্য। উৎসবের নানা তথ্য উপস্থাপন করেন জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। এছাড়া উৎসব নিয়ে কথা বলেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সাধারণ সম্পাদক আকতারুজ্জামানসহ জোটের নেতৃবৃন্দ।

উৎসবের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জোটের বিজয় উৎসব। একইসঙ্গে তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নের অঙ্গীকারে শুরু হয় এ উৎসব। পরবর্তীতে শহর ঢাকার এ উৎসবটি ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জে। ধীরে ধীরে এ উৎসব আবির্ভূত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারী ও তরুণদের ভুল পথে চালিত করার জবাব হিসেবে।

ঢাকা আর্ট কলেজের যুগপূর্তির প্রদর্শনী ॥ ২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা আর্ট কলেজ। সময়ের স্রোতধারায় পথচলার এক যুগ পূর্ণ করল চারুশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানটি। সাফল্যের সেই উদযাপন উপলক্ষকে শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় শুরু হলো এক যুগ পূর্তির চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। সোমবার থেকে শুরু হওয়া ছয় দিনের এ প্রদর্শনী চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন চিত্রশিল্পী অলকেশ ঘোষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন ও শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক মনিরুজ্জামান। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা আর্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. গোবিন্দ রায়। আয়োজনের শুরুতেই ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন জাতীয় সঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গান ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’।

যুগপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রদর্শনী উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। যাতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন এনামুজ্জাহিদ। সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন রমিত চাকমা, ক্ষণিতা ফারহানা, শফিউল্লাহ, সামিউল আলম, আশিষ আশ্চার্য্য, দ্বীনবন্ধু পাল, ইমন দাস, রানা প্রতাপ খাঁ, আকাশ চন্দ্র সরকার, নিরাঞ্জন ম-ল, ওয়ালিউল বাসার, ঋতু রায় ও মোহাম্মদউল্লাহ রাকিব।

শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা প্লাজার দুই ও তিন নং গ্যালারিতে এ প্রদর্শনী চলছে। এতে ঢাকা আর্ট কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলিয়ে ১৮০ জন শিল্পীর ৫০০টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সাত মার্চের ভাষণের স্বীকৃতির আনন্দ আয়োজন ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই প্রাপ্তি উপলক্ষে সোমবার বিকেলে আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাহীন সামাদ, তিমির নন্দী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, তপন চৌধুরী, অনিমা মুক্তি গমেজসহ ক্লোজআপ থেকে উঠে আসা শিল্পী সাব্বির, বাধন, নওরীন ও পুণ্য। কবিতা আবৃত্তি করেন মহিদুল ইসলাম ও শাহাদাৎ হোসেন নিপু। পরিবেশিত হয় শিশু একাডেমির পরিচালক আনজীর লিটন রচিত নৃত্যনাট্য ‘রক্তদিয়ে নাম লিখেছি’ । নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন নাজিব মাহফুজ লিমন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব রেবেকা মমিন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ বেগম ও শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বিজয় উৎসব ॥ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিজয় উৎসবের আয়োজন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। আগারগাঁওয়ে জাদুঘরের নতুন ভবনে ‘মানবাধিকার দিবস থেকে বিজয় দিবস’ শীর্ষক উৎসবের দ্বিতীয় ছিল সোমবার। এদিন উন্মুক্ত মঞ্চে পথনাটক ‘বুদ্ধি’ পরিবেশন করে নাট্যযোদ্ধা ও ‘গর্ত’ পরিবেশন করে প্রাচ্যনাট। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে ঢাকা মহিলা কলেজ, হযরত শাহ আলী মহিলা কলেজ ও শেরেবাংলা নগর আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীরা। জাদুঘরের সবুজ চত্বরে সারিগান পরিবেশন করে কিশোরগঞ্জের কিশোরগঞ্জ গণসাংস্কৃতিক সংস্থা। ভাস্কর্য অঙ্গনে সঙযাত্রা পরিবেশন করে মহাদেব সঙযাত্রা দল (টাঙ্গাইল)।

আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে উন্মুক্ত মঞ্চে পথনাটক ‘অরণ্যমঙ্গল’ পরিবেশন করবে আরণ্যক নাট্যদল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল হাই স্কুল ও আগারগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: