১৯ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দস্যি ছেলে যুদ্ধে গেল ফিরলো না আর...গুমড়ে যায় হাহাকার


দস্যি ছেলে যুদ্ধে গেল ফিরলো না আর...গুমড়ে যায় হাহাকার

মোরসালিন মিজান

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এখন আগারগাঁয়ে। অসহনীয় যানজট ঠেলে সেখানে পৌঁছতে হয়। তবে নতুন ভবনের সামনে দাঁড়াতেই যাতায়াতের কষ্ট দূর হয়ে যায়। বুক গর্বে ভরে উঠে। মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস গর্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। একাত্তরের আরও কত শত উপাদান! সবই সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আর এখন তো ডিসেম্বর। প্রতিবারের মতোই আয়োজন করা হয়েছে বিজয় উৎসবের। সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় রবিবার। এর পর থেকে লাল সবুজের হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। সঙ্গীত নৃত্য নাটকের ভাষায় শিল্পীরা মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা বর্ণনা করছেন। শহীদের রক্তে ভেজা মাটির প্রতি অনুগত থাকার শপথ নিচ্ছে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা। দেখে মন আশাবাদী হয়ে উঠে।

জাদুঘর ভবনের বহিরাঙ্গনে উন্মুক্ত মঞ্চ গড়ে নেয়া হয়েছে। এখানে বিকেল ৩টায় শুরু হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। অল্প জায়গা। ছোটখাটো মঞ্চ। তবে ভরপুর উপস্থিতি। দূর থেকেই কানে আসছিল চিরচেনা সুর তোমার স্বাধীনতা গৌরব সৌরভে/এনেছে আমার প্রাণের সূর্যে রৌদ্রের সজীবতা/দিয়েছে সোনালী সুখী জীবনের দৃপ্ত অঙ্গীকার।/সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার...। গানে গানে দেশ নিয়ে অহঙ্কারের কথা জানাচ্ছিল ইস্পাহানী গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। মঞ্চের কাছে গিয়ে দেখা যায়, কচিকাঁচাদের সকলেই জাতীয় পতাকার রংয়ে সেজেছে। লাল সবুজের শাড়ি পরে সম্মেলক কণ্ঠে গাইছিল তারা। পরের গানটি বেদনা জাগানীয়া। এইটুকুন মেয়েরা পুত্রহারা মায়ের শোক বুকে ধারণ করে গাইছিল, দস্যি ছেলে সেই যুদ্ধে গেল ফিরলো না আর/আজো শূন্য হৃদয়ে তার গুমড়ে গুমড়ে যায় হাহাকার/খোকা আসবে, ঘরে আসবে যেন মরণের সীমা ছাড়িয়ে...। বার বার শোনা গান! তবুও মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। যুদ্ধ শেষে সন্তান ফিরবে। মা তার বীর সন্তানের জন্য অপেক্ষা করে আছেন। অপেক্ষা আর শেষ হয় না! গানে গানে বেদনার অনুভূতি ছড়িয়ে দেয় খুদে শিল্পীরা। নাচের মুদ্রায়ও দেশের বন্দনা করে তারা। ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে’ গানের সঙ্গে ছিল সুন্দর একটি নাচ। অভিন্ন পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসে ক্যালিক্স প্রিক্যাডেট স্কুলের শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবেদনটিও ছিল উল্লেখ করার মতো। এর আগে নাট্য ছিল আয়োজন। এদিন সুবচন নাট্যসংসদ পরিবেশন করে পথনাটক ‘বোধদয়।’ নাটকটি রচনা করেন সাইফ আহমেদ। নিদের্শনায় আহাম্মদ গিয়াস।

সন্ধ্যায় প্রধান মিলনায়তনে ছিল অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। শুরুতে মানবাধিকার বিষয়ে বক্তৃতা করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। একক সঙ্গীতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান খ্যাতিমান শিল্পী মিতা হক। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। সুন্দর পরিবেশনা ছিল ব্রাইট স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের। প্রিয় কবিতা থেকে বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন ঢাকা স্বরকল্পনের শিল্পীরা। সবশেষে গান করেন আড়শিনগর বাউল সংঘের শিল্পীরা।

আয়োজকরা জানান, আজ সোমবার বিকেলে পরিবেশিত হবে পথনাটক ‘বুদ্ধি।’ পরিবেশন করবে নাট্যযোদ্ধা। পথনাটক ‘গর্ত’ নিয়ে মঞ্চে থাকবে প্রাচ্যনাট। ঢাকা মহিলা কলেজ, হযরত শাহ আলী মহিলা কলেজ ও শেরেবাংলা নগর আদর্শ মহিলা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীরা থাকবে তাদের পরিবেশনা নিয়ে। বিকেল পাঁচটায় সবুজ চত্বরে সারিগান পরিবেশন করবে কিশোরগঞ্জ গণসাংস্কৃতিক সংস্থা। সন্ধ্যা ৭টায় ভাস্কর্য অঙ্গনে সঙযাত্রা পরিবেশন করবে টাঙ্গাইলের মহাদেব সঙযাত্রা দল।

আনন্দ বেদনার উৎসব চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। চারটি মঞ্চে চলবে অনুষ্ঠান।