২১ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মৌলভীবাজারে জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা, আটক ৩


মৌলভীবাজারে জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা, আটক ৩

নিজস্ব সংবাদদাতা, মৌলভীবাজার ॥ ছাত্রলীগের দুই কর্মী খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল (রবিবার) সকালে নিহত ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী শাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগ নেতা আনিসুল ইসলাম তুষারকে প্রধান আসামী করে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৬-৭জন কে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। এদিকে মামলার এজাহার ভুক্ত ৩ জন আসামীকে আটক করেছে পুলিশ।

এজাহার ভুক্ত অনান্য আসামীদের ধরতেও তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এজহার ভ’ক্ত মূল ৫ জন আসামীর ছবি স্থানীয় ভাবে প্রচার করে এদেরকে ধরিয়ে দিতে অথবা সন্ধান দিলে ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষনা দেয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে।

এই ঘটনায় নিহত ছাত্রলীগ নেতা শাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরীর দায়ের করা হত্যা মামলার আসামীরা হলেন শহরের বড়হাট এলাকার মৃত আতিকুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে আনিসুল ইসলাম তুষার (২৭), শমসের নগর রোডের বাদশা মিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান (২০), পশ্চিম ধরকাপন এলাকার সৈয়দ বুলু মিয়ার ছেলে সৈয়দ সৌমিক (২২), রাজনগর উপজেলার চকিরাই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মুক্তির ছেলে আশফাকুল ইসলাম মাহদী (২০), মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রবাসের শিক্ষার্থী জামিল (১৮), সদর উপজেলার পাগুলিয়া এলাকার আব্দুল মুকিতের ছেলে সনি হায়দার (২০), বেরিচর পশ্চিম বাজার এলাকার ফখরুল ইসলামের ছেলে রুবেল মিয়া (২৮),সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী কনক মিয়া (১৮), শহরের মাতার কাপন এলাকার সৈয়দ আবু জাফরের ছেলে প্রতীক হাসান (২০), সদর উপজেলার মোকাম বাজার এলাকার হ্রদয় আহমদ (২১), রাজনগরের মহলাল এলাকার আয়ুব হাসানের ছেলে তামিম হাসান (২০), শহরের র্কোট এলাকার ফাহিম মুনতাসির (২০)সহ আরো ৬-৭জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

পুলিশ আটকৃত রুবেল, কনক ও জামিলের ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে বিজ্ঞ আদালত ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ,সহকর্মী,সহপাঠী ও স্বজন সুত্রে জানা যায় গত সোম অথবা মঙ্গল বারের দিকে কোন একসময় মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রবাসের পাশে একই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা তুষার গ্রুপের অনুসারী একজন কর্মীর সাথে দ্বন্ধ হয় ছাত্রলীগে নেতা শাবাব গ্রুপের অনুসারী এক কর্মীর। এনিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাটির একপর্যায়ে ধ্বস্তাধস্তিতে তুষার গ্রুপের ওই কর্মীর হাতে আঘাত পায়।

এবিষয়টি সমাধানের জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তুষার নিহত নাহিদ আহমদ মাহিকে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রাবাস এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে মাহির মাধ্যমে ফোনে বিচার শালিসের জন্য নিহত ছাত্রলীগ নেতা শাবাবকে ওখানে আসতে বলা হয়। খবর পেয়ে শাবাব নিজ বাসা থেকে মোটরসাইকেল যোগে ছাত্রবাস এলাকায় পৌঁছান।

সেখানে পৌঁছার পর তুষার গ্রুপের সাথে শাবাবের কথাকাটাটি হয়। একপর্যায়ে তুষার গ্রুপের কর্মীরা চওড়া হয়ে শাবাব ও মাহিকে মাঠের পশ্চিম প্রান্তের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রহার ও ছুরিঘাত করে। এসময় তাদের আতœচিৎকারে পথচারি ও সাথে থাকা সহকর্মীরা তাদের হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত ডাক্তার অতিরিক্ত রক্ত করনে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের অনুসারীদের মধ্যে ৩-৪ মাস আগে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে বয়ে চলা দ্বন্ধ প্রায় মাস দিন আগে সমাধান করে দেন ছাত্রলীগ নেতা নিহত শাবাব। এটা তুষার গ্রুপের পচন্দ না হওয়ায় এবং বছর দিন আগে থেকে তুষার ও শাবাবের মধ্যে বয়ে চলা অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধের ক্ষোভে এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। ছাত্রলীগ নেতা তুষার ও নিহত শাবাব দু’জনই ছাত্রলীগের একই গ্রুপের অনুসারী। ছাত্রলীগ নেতাকর্মী নিয়ে তুষার ও শাবাবের রয়েছে আলাদা গ্রুপ। তারা নিজেরাই ওই উপগ্রুপের প্রধান ও তাদের অধিনস্ত নেতাকর্মীদের দেখভাল করত।

এদিকে শাবাব ও মাহির খুনের সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে গতকাল (রবিবার) ভোরে মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র কনক ও জামিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার ভোরে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে জোড়া খুনের ঘটনায় ৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ ডিসেম্বর ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে কুলাউড়া উপজেলার পাবই এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে কৌশিক দাশের পুত্র কনককে গ্রেফতার করা হয়। অপর দিকে সদর উপজেলার ফতেহপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আনসার মিয়ার পুত্র আল জামিলকে গ্রেফতার করা হয়। এরা উভয়ই মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র ও স্কুলের আবাসিক হোষ্টেলে থাকতো।

ঘটনার পরপর হোষ্টেল থেকে তারা চলে যায়। মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল আহাম্মদ জানান, নিহত শাবাবের মা সেলিনা রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ সহ আরো অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত রুবেল কনক ও জামিল এজহার ভুক্ত আসামী। গত ৮ ডিসেম্বর ভোর রাতে শহরের বেরীরচর এলাকার ফকরুল ইসলামের পুত্র রুবেলকে রাজনগর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: