২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বরিশালে সাহায্যের দাবি করে প্রতারণা


বরিশালে সাহায্যের দাবি করে প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ মৃত্যু ব্যক্তির লাশ পরিবহনে কিংবা মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় সাহায্যের জন্য র্যাব ও পুলিশ পরিচয়ে মোবাইল ফোনকল বা এসএসএস এর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে।

ওই চক্রের সদস্যরা লোভনীয় অফার দিয়ে, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহের কথা বলেও ফেসবুকে অর্থ আদায়ে সক্রিয় রয়েছে। কখনও গভীর রাতে সুমধুর নারী ও পুরুষ কন্ঠে নানা ধর্মীয় ও স্বর্ণালংকার পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। আবার নারীরা প্রেমের অভিনয় করেও হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। কোন সরকারী কর্মকর্তা, কিছু পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন, আত্মীয়-স্বজন বিপদে পরেছে, মোবাইলে বিকাশের ফাঁকা ম্যাসেজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান দিতে ও দারিদ্র পরিবারের অসুস্থ্য ব্যক্তিদের সাহায্য করার নামে নানাভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারনা করে আসছে। বর্তমানে বরিশালে এ ধরনের প্রতারণা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতারণার চক্করে পরে প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকার মানুষ আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। চক্রটি মোবাইল ফোনে কল দিয়ে কৌশলে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়া বরিশাল নগরীল অভিরুচি কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৈয়দ রেজাউল কবির জানান, অতিসম্প্রতি তার মোবাইল ফোনে (০১৭১৪-৩১১০৬৪) নাম্বার থেকে ফোন করে পরিজয় দেন তিনি পুলিশের এসআই মিজান। চিকিৎসার বখা বলে তিন হাজার যদি টাকা টাকা চান এবং সেই টাকা বাসায় গিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এসআই মিজানের দেয়া বিকাশের (০১৯১২-৯৩৭৯২৮) নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে দেয় ওই ব্যবসায়ী। পরেরদিন টাকা ফেরত না পাঠানোর কারনে রেজাউল কবির সেই কথিত এসআই মিজানকে ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারনার শিকার হয়েছেন।

নগরীর খান ট্রেডার্সের স্বত্তাধীকারি মেহেদী হাসান খান জানান, নগরীর রুপাতলি র্যাব অফিসের এসআই মাসুদ পরিচয় দিয়ে তার কাছে (০১৯১১-৭৬৫১৯২) নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে বরিশালের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে বলা হয়, ঢাকা আনজুমান থেকে বরিশালের বাকেরগঞ্জ এলাকার এক ব্যক্তির লাশ টাকার অভাবে আনতে পারছেন না। এজন্য তার কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। আর সাহায্যের টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নাম্বারও দেয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে মেহেদী সমস্যার কথা শুনে মৃত ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা জেনে ঢাকার আনজুমান কর্তৃপক্ষের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে জানতে পারেন পুরো বিষয়টি প্রতারণা। এভাবে প্রতিনিয়ত প্রতারনার শিকার হচ্ছেন অনেকে।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারণার বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র শাখাওয়াত হোসেন জানান, এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বরিশাল র্যাব-৮ এর অধিনায়ক হাসান রাজীব আল ইমন বলেন, আবেগে না পরে প্রতারক চক্রের হাত থেকে রেহাই পেতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা সকলে সচেতন হলে প্রতারক চক্রটি থাকবেনা। তিনি আরও বলেন, র্যাবের কাছে প্রতারনার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে র্যাব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কাজও শুরু করেছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: