১৯ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়াতে হবে ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী


পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়াতে হবে ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে উন্নতির জন্য বহুজাতিক কোম্পানির পাশাপাশি বড় কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এই বাজারে গভীরতা তথা স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ করা উচিৎ।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা প্লাজায় বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০১৭ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য পুঁজিবাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১০ সালে মার্কেটে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সঠিক নেতৃত্বের কারণে আজ মার্কেট স্থিতিশীল।

পুঁজিবাজারে কোনো নতুন কোম্পানি আসলে তার ব্যবসায়িক ক্ষতি না করার অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যেন আবার সুযোগ-সুবিধা চেয়ে কোম্পানির ক্ষতি না করি; সে দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

পুঁজিবাজার সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চায়। এ বাজার যদি ঠিক না থাকে তাহলে কীভাবে বিনিয়োগ করবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের সুদের হার সবার চেয়ে বেশি। এ কারণে আমাদের এফডিআর কমে গেছে। তাহলে মানুষ করবে কী? মানুষ ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ করেছে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সকলকে সর্তক থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি দেশে অর্থনীতির বড় শক্তি ব্যাংক। ব্যাংকিং খাত সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সর্তক থাকতে হবে। এক সময় ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে ব্যাপক ব্যবসা করেছে। তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আমরা এ হাহাকার, আর্তনাদ শুনি না। সেজন্য মার্কেট সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একটি দেশের অর্থনীতি সৃষ্টিশীলতা থাকলে উন্নয়ন হতে বাধ্য।

এদিকে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চুপ করে বসে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে আসছে বিএসইসি।

ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে যদি অনিয়ম হয় সে ক্ষেত্রে চুপ করে বসে থাকতে পারে না বিএসইসি। যেখানে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিএসইসি আইন প্রণয়ন এবং তার কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূমিকা রাখে। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগ নির্ভর পুঁজিবাজার গড়ে না উঠলে তা কখনো স্থিতিশীল হবে না। তাই বিনিয়োগ নির্ভর পুঁজিবাজার গঠনের জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। কেননা দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়নের জন্য আমাদের পুঁজিবাজার হতে পারে নির্ভরযোগ্য।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. একে মোমেন বলেন, আমাদের পুঁজিবাজার এগিয়ে নিতে হলে একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। কারণ আগামী ৫ বছরে পুঁজিবাজার কোথায় কোন অবস্থানে থাকবে তার পরিকল্পনা থাকতে হবে। এসময় বিএসইসি কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়- তা নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বড় বিনিয়োগ এখন দুরূহ ব্যাপার।

ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, পুঁজিবাজারে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এমন ধরনের আয়োজন প্রশংসনীয়। এতে বাজারের আস্থা ও গতিশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে আগে যে শঙ্কা ছিল- তা এখন অনেকাংশেই কমে এসেছে। তার প্রধান কারণ হল আমাদের সরকার আন্তরিকভাবে চান এই পুঁজিবাজারের উন্নতি হোক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান। এসময় এসময় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হকসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।