১৮ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামালায় বাবর - তারেক রহমান জড়িত


২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামালায়  বাবর - তারেক রহমান জড়িত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্পর্শকাতর ও বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলার ১৭ তম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ । মামলার চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বুধবার যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন , ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা বাস্তবায়নে ১১টি স্থানে ষড়যন্ত্রমূলক সভা হয়। এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী (পিডব্লিউ-৬৫) ডিজিএফআই-এর সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমির সামনে টি.এফ.আই. সেলে মুফতী হান্নান স্বীকার করেছে ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামালায় আবদুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং তারেক রহমান জড়িত ছিলেন । টি.এফ.আই. সেলে মুফতী হান্নান আরো বলেন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারী বাসভবনে আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, মওলানা তাইজউদ্দিন, মওলানা আবু তাহের এবং অন্যান্য হুজী নেতাগন ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার প্রস্তুতি মূলক মিটিং করেন। সেখানে আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জামান বাবর প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে সংঘটিত গ্রেনেড হামলা পরবর্তী উদ্ধারকৃত আলামত উদ্দেশ্যেমূলক ও পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য আগামী সোম ,মঙ্গল ও বুধবার দিন ধার্য্য করা হয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। চীফ প্রসিকিউটরকে যুক্তিতর্কে সহায়তা করেন এ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল, এ্যাডভোকেট ফারহানা রেজা, এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমিন । এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে এ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল, মো: আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত ও আশরাফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে এ্যাডভোকেট আইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান যুক্তিতর্কে বলেন , মওলানা আবদুস সালামের মাধ্যমে তার তথ্যের ভিত্তিতে ডিজিএফআই সিলেট থেকে বিপুল নামীয় একব্যক্তি, যে বৃটিশ হাইকমিশনারের উপর গ্রেনেড হামলা মোকদ্দমার অন্যতম আসামী, তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে বৃটিশ হাইকমিশনারের উপর গ্রেনেড হামলা সহ, সব গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত এবং অন্যান্য হুজী নেতারাও জড়িত এবং মুফতী আবদুল হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছে বলে। সেই সময়ে এই তথ্য পাবার পূর্বেই র্যাব মুফতী হান্নানকে গ্রেফতার করে এবং তাকে র্যাব এর টিএফ আই বা টাস্ক ফোর্স ইনটেলিজেন্স সেল-এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

এই সময়ে বিপুলের তথ্য টি.এফ.আই.-এর সেলে দেয়া হয়। মুফতী হান্নানকে টি.এফ.আই. সেলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ২০০৬ ইং সালের আগষ্ট মাসে মুফতী হান্নান বিপুলের দেয়া তথ্য হুবহু স্বীকার করেন। মুফতী হান্নান আরো স্বীকার করেন ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড মামলা সহ সব গ্রেনেড মামলায় তিনি জড়িত। এবং তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন ও পরিচালনা করেছেন। তিনি টি.এফ.আই. সেলে আরো জানান গ্রেনেড গুলো মুফতী হান্নান মাওলানা তাইজউদ্দিনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। মুফতী হান্ন্না আরো জানান তাইজউদ্দিন তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই। টি.এফ.আই. সেলে মুফতী হান্নান আরো স্বীকার করেন ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামালায় আবদুস সালাম পিন্টু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং তারেক রহমান জড়িত ছিলেন ।

উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারী বাসভবনে আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, মওলানা তাইজউদ্দিন, মওলানা আবু তাহের এবং অন্যান্য হুজী নেতাগন ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার প্রস্তুতি মূলক মিটিং করেন। সেখানে আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জামান বাবর প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: