১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নেইমার জাদু, পিএসজির গোলের রেকর্ড


নেইমার জাদু, পিএসজির গোলের রেকর্ড

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অনেকেই বলেছেন বার্সিলোনা ছেড়ে ভুল করেছেন নেইমার। কিন্তু ব্রাজিলিয়ান তারকার সিদ্ধান্ত যে সঠিক তা তিনি হরহামেশাই প্রমাণ করে চলেছেন। নতুন ক্লাব ফ্রান্সের প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনে (পিএসজি) আরও একবার আলো ছড়িয়েছেন তিনি। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। জোড়া গোল করেছেন এডিনসন কাভানিও। তাতেই প্যারিসের পার্ক দ্য প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে স্কটিশ ক্লাব সেল্টিককে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে পিএসজি। গ্রুপের আরেক ম্যাচে বেলজিয়ামের আন্ডারলেচটকে ২-১ গোলে হারিয়েছে জার্মান জায়ান্ট বেয়ার্ন মিউনিখ। পিএসজি ও বেয়ার্ন দু’দলেরই আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়েছে।

প্রায় প্রতি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে ইউরোপ সেরার আসরে গ্রুপপর্বে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েছে পিএসজি। প্রতিযোগিতাটির গ্রুপপর্বে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে ২৪ গোল করেছে প্যারিসের ক্লাবটি। ২১ গোল নিয়ে আগের রেকর্ডটি ছিল জার্মানির ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের। মাস দুই আগে সেল্টিককে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল পিএসজি। কিন্তু ফিরতি লেগে মাত্র ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যে মোসা ডেম্বেলে গোল করে শুধু অতিথিদের এগিয়ে দেননি, নড়েচড়ে বসার আগে প্যারিসের স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দেন। তবে ম্যাচে এই একটিমাত্র সাফল্য ছাড়া আর কিছুই দেখাতে পরেনি স্কটিশ চ্যাম্পিয়নরা। হঠাৎ করেই এক গোলে পিছিয়ে গিয়ে পিএসজি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে সেল্টিক প্যারিসের সফরটা স্মরণীয় করে তুলেছিল। আর এই গোলের পিছনে অবদান ছিল এক ফরাসীরই। ফরাসী অলিবার এনচ্যামের কর্নার থেকে তারই স্বদেশী ডেম্বেলে দারুণ এক গোলে অতিথিদের এগিয়ে দেন। তার এই গোলে পিএসজি গোলরক্ষক আলফোনসে আরেয়োলার তেমন কিছুই করার ছিল না। তাদের এই উচ্ছ্বাস অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

নয় মিনিটেই বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় তার নিজস্বতায় স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান। আদ্রিয়ের রাবোয়িটের থ্রু থেকে সেল্টিক গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনকে পরাস্ত করতে কোন বেগ পেতে হয়নি নেইমারের। ২২ মিনিটে ভেরাত্তির সহায়তায় নেইমার পিএসজিকে লিড এনে দেন। ২৮ মিনিটে নেইমারের পাসে কাভানি দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন। পিএসজির জার্সি গায়ে এটি উরুগুয়ের তারকার ১৫০তম গোল। বিরতির ১০ মিনিট আগে এমবাপে ফ্রিকিকে পিএসজিকে ৪-১ গোলে এগিয়ে দেয়। মোনাকো থেকে চলতি মৌসুমে পিএসজিতে আসার পরে এমবাপের এটা সপ্তম গোল। বিরতির পরে গর্ডনের কারণে এমবাপে দ্বিতীয় গোল পাননি। ৭৫ মিনিটে অবশ্য ভেরাত্তি স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেননি। ৭৯ মিনিটে ব্যাক পোস্ট ভলিতে কাভানি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ম্যাচের শেষ গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা আলভেজ। আর এই গোলেই পিএসজির বড় জয় নিশ্চিত হয়। এদিকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার সুযোগ হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বুধবার রাতে বাসেলের মাঠে শেষ মুহূর্তের গোলে ০-১ ব্যবধানে হেরে গেছে রেড ডেভিলসরা। ফলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার জন্য গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ম্যানইউকে। বাসেলের মাঠ সেন্ট জ্যাক পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। রোমেলু লুকাকু, এ্যান্থনি মার্শিয়াল, মারোয়ান ফেলাইনি ও মার্কোস রোজোরা গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন। সুইজারল্যান্ডের মাঠে এক পয়েন্ট পেলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হতো গ্রুপপর্বের প্রথম চার ম্যাচে জেতা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ‘স্তব্ধ’ করে এগিয়ে যায় বাসেল। মাইকেল লেংয়ের গোলে নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া বাসেল নকআউটের স্বপ্ন উজ্জ্বল করে।

এই ম্যাচে বিরল রেকর্ড গড়েছেন ইব্রাহিমোভিচ। ম্যাচে মাঠে নেমে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সাতটি দলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে খেলার কীর্তি গড়েন সুইডিশ ফরোয়ার্ড। ডাচ ক্লাব আয়াক্সের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে খেলা শুরু করেন ইব্রাহিমোভিচ। এরপর একে একে জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান, বার্সিলোনা, এসি মিলান, পিএসজি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে ইউরোপের কুলিন আসরে অংশ নেন তারকা এই ফরোয়ার্ড।