১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মাদকের বিরুধী অভিযানে জড়িত কর্মকর্তাদের ক্ষুদ্রাস্ত্র দেওয়া হবে ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


মাদকের বিরুধী অভিযানে জড়িত কর্মকর্তাদের ক্ষুদ্রাস্ত্র দেওয়া হবে ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংস্থার সরঞ্জাম ও জনবল বৃদ্ধি করে সাংগঠনিক কাঠামো যুগোপযোগী করা হচ্ছে। শীঘ্রই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারীদের ‘ক্ষুদ্রাস্ত্র’ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে হালনাগাদ করা হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সবচেয়ে আলোচিত মাদক ইয়াবার সরবরাহ ঠেকাতে টেকনাফে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিশেষ জোন স্থাপন করা হবে। তিনি দাবী করেন, রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে মাদকের ব্যবহার আগের চেয়ে কমেছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আইন সংশোধনসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সংসদে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৭ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট কাজে নিয়োজিত জনবলকে ক্ষুদ্রাস্ত্র প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ’

একই দলের মো. শফিকুল ইসলাম শিমুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর ও ফিল্ড লেভেলের অফিসারদের অস্ত্র দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে। এ ব্যাপারে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, মাত্র ১০ বছর আগেও এই সংস্থাটি ঠুঁটো জগন্নাথের মতো ছিলো। তখন তিন-চারটি জেলা মিলে একজন কর্মকর্তা ছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা (সরকার) এটিকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেই। এখন প্রতিজেলায় কর্মকর্তা রয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের ‘তরুণদের মধ্যে ক্রেজ সৃষ্টিকারী মাদক’ ইয়াবার প্রবাহ বন্ধে কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ জোন স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ প্রস্তাবটি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোন মাদক উৎপাদন করে না। পাশ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক এসে যুব সমাজকে আক্রান্ত করছে। মাদক চোরাচালান বন্ধে সরকার নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো জানান, ইয়াবার স্রোত বন্ধে কক্সবাজার ও টেকনাফে সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে ইয়াবা পাচারবিরোধী টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে। সারাদেশে ইয়াবা বিরোধী বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে টাস্কফোর্সেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইয়াবাপাচার রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের স্ট্র্যাটেজিক কমিটি কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নাফ নদীতে মাছ ধরার সব ধরণের নৌ-চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে তিন কোটি ৩৫ লাখ ১১ হাজার ২৩৪টি ইয়াবা, ২৫৯ কেজি ৭৬৫ গ্রাম হিরোইন, পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ১৩৭ বোতল ফেন্সিডিল ও ৫২ হাজার ৯৪ কেজি গাজা উদ্ধার করার হয়েছে। একই সময়ে ৭৮ হাজার ৫৩৯টি মাদকবিরোধী মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছে ৯৮ হাজার ৪৮ জন আসামী। মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বারের সংখ্যা ১৪৪টি। অনুমোদনহীন কোনো বার পরিচালনার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলেও সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: