১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আরিফুলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে খুলনার জয়


আরিফুলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে খুলনার জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কি অসাধারণ ব্যাটিং করলেন আরিফুল হক। হারার সম্ভাবনায় থাকা খুলনা টাইটান্সকে জিতিয়ে দিলেন। ১৯ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় আরিফুলের করা অপরাজিত ৪৩ রানে রাজশাহী কিংসকে ২ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে খুলনাকে জেতান আরিফুল।

মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে খুলনা আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকাপর্বের প্রথম ধাপের শেষদিনে দিনের প্রথম ম্যাচে বাজিমাতও করে খুলনা। আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৬৬ রান করে রাজশাহী। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ডোয়াইন স্মিথ। মুশফিকুর রহীম ৫৫ রান করেন। জেমস ফ্রাঙ্কলিনের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ২৯ রান। বল হাতে জুনাইদ খান ৪ উইকেট শিকার করেন। জবাব দিতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯.২ ওভারে ১৬৮ রান করে জিতে খুলনা। খুলনার পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে আরিফুল অপরাজিত ৪৩ রান করে ম্যাচ জেতান। মোহাম্মদ সামি ৩ উইকেট নেন।

গত আসরে খুলনার ফাইনালে ওঠার সুযোগ ছিল। কিন্তু দুটি কোয়ালিফায়ার ম্যাচেই হারে খুলনা। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজশাহীর কাছে হেরেছিল খুলনা। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেস্তে যায়। এবার খুলনা খুব ভাল অবস্থানে আছে। গত আসরে কোয়ালিফায়ারে হারের প্রতিশোধও এবার নেয় খুলনা। গত আসরে লীগপর্বে দুই দলের লড়াইয়ে একবার খুলনা ও একবার রাজশাহী জিতেছিল। এবার দুই দলের প্রথম লড়াইয়ে খুলনাই জিতল।

টার্গেট বড়ই ছিল ১৬৭ রান। এই রান অতিক্রম করতে গিয়ে যখন শুরুতেই ১৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। এরপর রিলি রুশো ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মিলে হাল ধরেন। তাতে করে দল ৮০ রানে যায়। বিপত্তি দূর হয়। কিন্তু এই সময়ে গিয়ে রুশো আউট হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আফিফ হোসেন ধ্রুবও সাজঘরে ফিরেন। তবুও দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন মাহমুদুল্লাহ। দলের স্কোর যখন ১০৭ রানে যায় তখন মাহমুদুল্লাহ আউট হতেই খুলনার হারের সম্ভাবনা উঁকি দেয়। দেখতে দেখতে ১২৮ রানেই ৮ উইকেটের পতন ঘটে যায়। তাতে করে খুলনার হার যেন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ততক্ষণে যে ২১ বলে জিততে ৩৯ রান লাগে। হাতে থাকে মাত্র ২ উইকেট। যে কোন মুহূর্তে অলআউট হয়ে যেতে পারে খুলনা। কিন্তু আরিফুল যেন ত্রাতা হয়ে ধরা দেন।

এরপর যে ১৭ বল খেলা হয় এরমধ্যে ৩ বল খেলেন জুনাইদ খান। বাকি সব বল খেলেন আরিফুল। ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। অষ্টম উইকেট পড়ার সময় আরিফুল ৫ বলে ৬ রান করেছিলেন। সেখান থেকে আরও ১৪ বল খেলে ৩৮ রান করেন আরিফুল। শেষ মুহূর্তে একাই বলতে গেলে ম্যাচ জেতান। তাইতো ম্যাচসেরাও হন। ১৮ বলে জিততে যখন ৩৬ রান দরকার তখন আরিফুল এক ছক্কা ও দুই চার হাঁকানোর সঙ্গে এক ওভারেই ১৭ রান নেন। একটি ওয়াইড হওয়াতে ১৮ রান হয়। তাতে ১২ বলে জিততে ১৮ রান লাগে। আরিফুল ৯ রান নিয়ে নেন। শেষ ওভারে ৬ বলে জিততে ৯ রান যখন লাগে তখন প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান আরিফুল। পরের বলে স্কুপ মেরে বাউন্ডারি হাঁকান। ম্যাচও জিতে যায় খুলনা। আরিফুলের এমন দুঃসাহসী ইনিংসে খুলনাও ৭ ম্যাচে ৪ জয়, ২ হারে ৯ পয়েন্ট পায়। এক ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। আরিফুলের এমন দাপট দেখানো ইনিংসে রাজশাহীর জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর খুলনা শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয়।

রাজশাহীও শুরুতেই বিপাকে পড়ে যায়। ২১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে। ২১ রানের সময় জাকির হাসানকে আউট করেন আবু জায়েদ রাহি। কিন্তু রাহির বোলিংয়ে আউট হওয়ার চেয়ে সেকুগে প্রসন্ন যে ক্যাচটি ধরেছেন, সেটিই বেশি আলোচনায় এসেছে। আসারই কথা। দুর্দান্ত ক্যাচ যে ধরেছেন। জাকির মিডউইকেটের ওপর দিয়ে মারার চেষ্টা করেন। প্রসন্ন বুঝতে পারেন বলটি বাউন্ডারির দিকে চলে যেতে পারে। তারপরও চেষ্টা করেন পেছনের দিক হয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে ক্যাচ ধরার। প্রসন্ন দুই পা সোজা রেখে উল্টো হয়ে একহাত বলের দিকে বাড়িয়ে শূন্যে ড্রাইভ দেন। বল তার হাতে এসে যায়। অসাধারণ একটি ক্যাচ ধরেন। যে ক্যাচটিকে ‘ক্যাচ অব দ্য টুর্নামেন্ট’ খেতাবও মিলে যাচ্ছে। কিন্তু এত দ্রুত ৩ উইকেট পড়ার পর, রাজশাহীকে এত চাপে রাখার পর, এমন একটি ক্যাচ হওয়ার পর থেকেই খুলনার শান্তি যেন উধাও হয়ে যেতে থাকে। ওপেনার ডোয়াইন স্মিথ ও মুশফিকুর রহীম যে দলের হাল ধরেন। দুইজন মিলে দলকে অনেকদূর নিয়ে যান। ৭৬ রানের জুটি গড়েন। ৯৭ রানের সময় স্মিথ (৬২) আউট হয়ে যান।

এরপর জেমস ফ্রাঙ্কলিনকে নিয়ে বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন দেখান মুশফিক। এ দুইজন যখন ব্যাটিং করছিলেন তখন মনে হচ্ছিল ১৮০ রান হয়ে যাবে। দুইজনই দুর্দান্ত ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু ১৫০ রান হওয়ার আগে ১৪১ রানে গিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিক (৫৫) আউট হয়ে যান। তখন রানের গতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এক এক করে আরও তিনটি উইকেট পড়ে। রানও ১৭০-এর নিচেই থাকে। ড্যারেন সামি, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সামি নৈপুণ্য দেখাতে না পারাতেই এমন হয়। ফ্র্যাঙ্কলিন শেষ পর্যন্ত ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানী ক্রিকেটাররা সব বিভিন্ন দলে খেলতে শুরু করে দিয়েছেন। নৈপুণ্যও দেখাচ্ছেন দুর্দান্ত। পাকিস্তানের পেসার হাসান আলী যেমন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে সোমবার এবার বিপিএলে প্রথম বোলার হিসেবে ৫ উইকেট তুলে নেন। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ম্যাচে কুমিল্লাকে জিতিয়েছেন। মঙ্গলবার পাকিস্তানের আরেক পেসার জুনাইদ খান খুলনার হয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন। রাজশাহীর রানে লাগাম টানেন। তাতে খুলনার লাভ হয়। শেষ পর্যন্ত জিতে।

স্কোর ॥ রাজশাহী কিংস ইনিংস ১৬৬/৮; ২০ ওভার (স্মিথ ৬২, মুশফিক ৫৫, ফ্রাঙ্কলিন ২৯*; জুনাইদ ৪/২৭, রাহি ২/২৯)।

খুলনা টাইটান্স ইনিংস ১৬৮/৮; ১৯.২ ওভার (মাহমুদুল্লাহ ৫৬, আরিফুল ৪৩*, রুশো ২০; সামি ৩/২৯, ফ্রাঙ্কলিন ২/৩০)।

ফল ॥ খুলনা টাইটান্স ২ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা ॥ আরিফুল হক (খুলনা টাইটান্স)।