১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এটিপি ফাইনালসে চ্যাম্পিয়ন দিমিত্রোভ


এটিপি ফাইনালসে চ্যাম্পিয়ন দিমিত্রোভ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গ্রিগর দিমিত্রোভের মুখেই শিরোপার হাসি। ডেভিড গোফিনকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এটিপি ট্যুর ফাইনালসের শিরোপা জিতেছেন বুলগেরিয়ার এই টেনিস তারকা। রবিবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে দিমিত্রোভ ৭-৫, ৪-৬ এবং ৬-৩ গেমে পরাজিত করেন গোফিনকে। সেইসঙ্গে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকেই শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখান। লন্ডনের ওটু এ্যারিনাতে বিস্ময়কর এই ফাইনাল ম্যাচে বুলগেরিয়ার ষষ্ঠ বাছাই দারুণ চাপের মধ্যে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিরোপা অর্জন করেণ। এই জয়ের ফলে র‌্যাঙ্কিংয়েও দারুণ অগ্রগতি হয়েছে তার। স্প্যানিশ টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল এবং সুইজারল্যান্ডের জীবন্ত কিংবদন্তি রজার ফেদেরারের পরে র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন গ্রিগর দিমিত্রোভ।

পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দিমিত্রোভ। ম্যাচের শেষে উচ্ছ্বসিত ২৬ বছর বয়সী দিমিত্রোভ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ আমার দারুণ কেটেছে। এখানে খেলতে পারাটা দারুণ সৌভাগ্যের। আমার ক্যারিয়ারে এটা অন্যতম স্মরণীয় একটি শিরোপা। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার দল ও পরিবার আমাকে অবিশ^াস্য রকম সহযোগিতা করেছে।’ ওটু এ্যারিনাতে এবারের আসরে অপরাজিত থেকেই শিরোপা জিতেছেন দিমিত্রোভ। গোফিনের বিপক্ষে রাউন্ড রবিন লীগে ৬-০, ৬-২ গেমে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু গোফিনও প্রথম রাউন্ডে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান তারকা রাফায়েল নাদালকে ও সেমিফাইনালে রজার ফেদেরারকে পরাজিত করে শিরোপার অন্যতম ফেবারিট হিসেবে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলেন। প্রথমবারের মতো এবারের আসরের ফাইনালে এমন দুজন মুখোমুখি হয়েছিলেন যারা উভয়ই প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছেন।

তবে ডেভিড গোফিন নয়, শেষের হাসিটা হেসেছেন দিমিত্রোভই। মৌসুমের শেষ বড় টুর্নামেন্ট হিসেবেই বিবেচিত এটিপি ফাইনালস। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ সারির ৮ জন খেলোয়াড় অংশ নেন এই টুর্নামেন্টে। কিন্তু ইনজুরির কারণে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়ে নেন রাফায়েল নাদাল। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের আরেক ফেবারিট ফেদেরার বিদায় নেন শেষ চার থেকেই। এর ফলেই সুযোগ পান গ্রিগর দিমিত্রোভ। যাকে ‘বেবি ফেদেরার’ নামেই চেনেন অনেকে। মূলত ফেদেরারের মতো খেলার ধরনের কারণেই বুলগেরিয়ান তারকাকে ডাকা হয় ‘বেবি ফেদেরার।’ ২০০৮ সালে জুনিয়র উইম্বলডন জিতেই প্রথমবারের মতো পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে এসেছিলেন দিমিত্রোভ। এরপর অবশ্য নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। গত কয়েক মৌসুম ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও মেজর কোন শিরোপার দেখা পাননি এই বুলগেরিয়ান তারকা। তবে এবার এটিপি ফাইনালসেই বাজিমাত করেন তিনি। টানা পাঁচ জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন গ্রিগর দিমিত্রোভ।

তার চোখে-মুখে স্বপ্ন এখন বহুল কাক্সিক্ষত গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট জয়। ওটু এ্যারেনায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই দিমিত্রোভ জানিয়ে দিলেন তা। এ প্রসঙ্গে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বুলগেরিয়ান তারকা বলেন, ‘অবশ্যই আমার প্রধান লক্ষ্য গ্র্যান্ডস্লাম জেতা। এই স্বপ্নটা আমার সবসময়ের, যা নতুন করে বলছি আবার। অতীতেও আমার ভালো ফলাফল ছিল তবে এখন আমি আগের চেয়েও অনেক বেশি ধারাবাহিক। এটাই আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।’ এটিপি ফাইনালসে রজার ফেদেরার এবং রাফায়েল নাদাল খেললেও ছিলেন না নোভাক জোকোভিচ এবং এ্যান্ডি মারে। নাদাল-ফেদেরার দু’জনেই এখন ক্যারিয়ারের গোধূলিতে। অন্যদিকে ইনজুরি আর ফর্মহীনতায় ভুগছেন নোভাক জোকোভিচ এবং এ্যান্ডি মারে। এগুলোই এখন নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বুলগেরিয়ার দিমিত্রোভকে।