১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

টাঙ্গাইলে সাবেক এমপি’র গাড়িতে হামলা


টাঙ্গাইলে সাবেক এমপি’র গাড়িতে হামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ আগামী সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থীতাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কাশেম এবং সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকের পক্ষের মধ্যে কোন্দল প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে।

সভাপতি আবুল কাশেমের গাড়ীতে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক মোজ্জামেল হকের ছেলের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে মিছিল সমাবেশ করেছে সাধারণ সম্পাদক পক্ষ। অপরদিকে সভাপতির অনুসারি সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জেলার সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিস্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

জেলা জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি বরাবরই জাতীয় পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৬, ৮৮, ৯১ সালে জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থীরা এককভাবে নির্বাচন করে এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ’৯১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী মাহমুদুল হাসান ’৯৪ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন। এরপর জাতীয় পার্টিতে যোগদেন ম্যাক গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি আবুল কাশেম। তিনিও দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হন। বিগত ’৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আবুল কাশেম এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু টেলিফোন বিল খেলাফির অভিযোগে আদালতের রায়ে বিগত ২০১২ সালে তিনি এমপি পদ হারান। পরবর্তীতে বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনে জেলা জাতীয় পার্টির তৎকালীন সভাপতি আব্দুস সালাম চাকলাদারকে মনোনয়ন দেয় দল। কিন্তু তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে বিরত থাকেন।

গত বছর ২০১৬ সালের (২৬ অক্টোবর) জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে আবুল কাশেমকে সভাপতি এবং মোজাম্মেল হককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলীয় দায়িত্ব পাওয়ার পর মোজাম্মেল হক টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য তৎপর হন। তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নের জনসংযোগ শুরু করেন। তখন থেকেই জাতীয় পার্টির মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। কেউ সভাপতির দিকে, কেউ সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে অবস্থান নেন। গত কয়েকমাস ধরে এ বিভক্তি প্রকাশ্য রুপ নিয়েছে।

মোজাম্মেল হকের অনুসারিদের অভিযোগ, আবুল কাশেম এলাকায় নিয়মিত আসেন না। কর্মীদের খোঁজখবর রাখেন না। সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বেই দলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাই আগামী নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। আবুল কাশেমের অনুসারিদের অভিযোগ, মোজাম্মেল হক আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন। দলের তৃণমুল নেতাকর্মীদের সাথে তার যোগাযোগ নেই। ব্যক্তিগত কিছু অনুসারি নিয়ে তিনি চলছেন।

গত শনিবার (১৮ নভেম্বর) টাঙ্গাইল-নাগরপুর সড়কের ছিলিমপুরে মোটরসাইকেল আরোহী সাত-আটজন যুবক আবুল কাশেমের গাড়িতে ডিম ছুড়ে মারে এবং অশ্লিল গালিগালাজ করেন। এ ব্যাপারে আবুল কাশেমের গাড়ির চালক ইউনুস খান বাদি হয়ে শনিবার (১৮ নভেম্বর) দেলদুয়ার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকের ছেলে মুহিত হককে আসামী করা হয়েছে। এ মামলা দায়েরের প্রতিবাদে মোজাম্মেল হকের অনুসারিরা রোববার (১৯ নভেম্বর) সকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল থেকে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়া হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। এতে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ শামসুজ্জোহা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওস্তাগির হোসেন, শহর জাতীয় পার্টির সদস্য আহসান খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। তারা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এদিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবুল কাশেম প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সভা শেষে উপজেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হককে দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য খন্দকার নাজিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম চাকলাদার, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে মোজাম্মেল হক জানান, আবুল কাশেমের পকেটের লোক দিয়ে উপজেলা কমিটি ১৫/১৬ বছর আগে করা হয়েছে। নিস্ক্রিয় এই কমিটির কিছু নেতা আবুল কাশেমের পক্ষে বলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মোজাম্মেল হক ও তার অনুসারিদের ডিম ছোড়া ও গালাগালি প্রসঙ্গে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কাশেম বলেন, সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ এসব করতে পারে না। তাদের এসব কর্মকান্ড কেন্দ্রে জানানো হবে। তারাই এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: