১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দেশব্যাপী ৩১ লাখ খুদে পরীক্ষার্থী বসল প্রথম দিনের পরীক্ষায়


দেশব্যাপী ৩১ লাখ খুদে পরীক্ষার্থী বসল প্রথম দিনের পরীক্ষায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রশ্ন ফাঁসসহ অন্য কোন রকম জটিলতা ছাড়াই দেশব্যাপী শুরু হলো দেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নামের শিশুদের এ উৎসবে এবার অংশ নিয়েছে প্রায় ৩১ লাখ পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত স্কুলকে কেন্দ্র করে ছিল অভিভাবক হিসেবে বিশেষত ছিল মায়েদের ভিড়। এদিকে জেএসসি ও জেডিসিতে অব্যাহতভাবে প্রশ্ন ফাঁসে উদ্বেগ ছড়ালেও এ পরীক্ষার প্রথম দিন তেমন কোন খবর পাওয়া যায়নি।

প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, পরীক্ষা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন মন্দ খবর শোনেননি।

রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান ও অতিরিক্ত সচিব ড.এ এফ এম মনজুর কাদির, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি, ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক ইন্দু ভূষণ দেব। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও সারাদেশে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এ পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষানীতি অনুসারে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিকের সমাপনী বলতে আমাদের সার্কেল অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। তারপরই পরীক্ষা। যেহেতু নানা কারণে এখনও সব অষ্টম শ্রেণীর স্কুল আমাদের আওতায় আসেনি, তাই ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলেই এটা করব।

এ পরীক্ষার কারণে শিশুদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিইসি পরীক্ষায় পাস হয়ে কোন চাকরি হবে না। শুধু বৃত্তি দেয়া হয়। কিন্তু অভিভাবকরা তাও বোঝেন না। পড়াশোনার বিষয়ে যতটা না সন্তান বোঝে তারচেয়ে বেশি বোঝেন বাবা-মায়েরা। মন্ত্রী বলেন, আগে বাবা-মায়েরা শিক্ষকদের পাঠদানের ওপর নির্ভর করতেন। এখন তারা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সন্তানকে এ্যাভারেজের মধ্যে রাখতে চান না। আট-দশজনের মতো হোক, এটাও চান না। সন্তানকে এক্সট্রাঅর্ডিনারি বানাতে চান। আসুন আমরা সামাজিকভাবে সবাই এ বিষয়ে সোচ্চার হই।

প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হতো মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। এবার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মোবাইল নিয়ে হলে না ঢোকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলতে পারবেন না। তাই এখন পর্যন্ত কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এর আগে ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বুধবার সকাল এগারোটায় শুরু হয় পরীক্ষা।

প্রথম দিন ১১টা থেকে শুরু হয়েছে ইংরেজী বিষয়ের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে ২৬ নবেম্বর পর্যন্ত। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এক অফিস আদেশে জানিয়েছে, পরীক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কেউই মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেবল জরুরী প্রয়োজনে অফিস কক্ষে সীমিত ব্যবহারের জন্য কেন্দ্র সচিব মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরীক্ষা কক্ষে বিতরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকেও মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে।

জানা গেছে, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য এবার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর। দুর্গম এলাকায় ২০৪ কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতি জেলায় পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর ৯৫১৫৯৭৭ এবং অধিদফতরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে টেলিফোন নম্বর ০২-৫৫০৭৪৯১৭, ০১৯১৩৪৮১৬৭২., ০১৭১২৪১৩১০০ এবং ই- মেইল । সমাপনী পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল তথ্য এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা যাচ্ছে।

পরীক্ষার প্রথম দিন কেন্দ্র ঘিরে ছিল একই আমেজ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের ভিড় তুলনামূলকভাবে কম হলেও রাজধানীসহ শহরের কেন্দ্রজুড়ে ছিল অভিভাবকদের ভিড়। কেন্দ্রগুলোর আশপাশের রাস্তায় সকাল থেকেই সৃষ্টি হয় জানজটের। মতিঝিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেল অভিভাবকরা বসে আছেন সন্তানের পরীক্ষার উৎকণ্ঠা নিয়ে। হলিক্রস ও বটমলী হোম অর্ফানেস স্কুলের বাইরে রীতিমতো যানজট লেগে গিয়েছিল। সন্তানের অপেক্ষায় বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন শত শত অভিভাবক। হলিক্রস স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়েছে শিশু লাবনী। শিশুটি জানাল পরীক্ষা ভাল হয়েছে। পরেরটা আরও ভাল হবে বলে আশা তার।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজের সামনে গিয়েও দেখা গেল অভিভাবকদের ভিড়। পরীক্ষা শেষে অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা জানালেন, পরীক্ষা অত্যন্ত সুন্দর হচ্ছে। কোন রকমের সমস্যা নেই। ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুয়ারা জানালেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে অনেকগুলো স্কুলের শিশু পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ।

পরীক্ষায় এবার অংশ নিচ্ছে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫ খুদে শিক্ষার্থী। যার মধ্যে প্রাথমিকে ২৮ লাখ চার হাজার ৫০৯ এবং মাদ্রাসার ইবতেদায়িতে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৫৬ পরীক্ষার্থী। এদিকে এবার প্রাথমিকে অংশ নিতে যাওয়া ২৮ লাখ চার হাজার ৫০৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে বেশি। ছাত্র ১২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৮৫ ও ছাত্রী ১৫ লাখ চার হাজার ৫২৪। ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী সংখ্যা এক লাখ ৮৯ হাজার ৮০১ জন বেশি। দুই পরীক্ষায় গত বছর মোট ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন অংশ নিয়েছিল। সে হিসেবে এবার পরীক্ষার্থী কমেছে এক লাখ ৩৪ হাজার ২১৩ জন। ২০১৫ সালে ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ জন খুদে শিক্ষার্থী এই সমাপনীতে অংশ নিয়েছিল।

পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয় ২০০৯ সালে। আর ইবতেদায়ি পরীক্ষা শুরু হয় ২০১০ সালে। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল প্রকাশ করা হয়। ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে। ২০১৩ সাল থেকে এই পরীক্ষার সময় আধঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সময়সূচী ॥ সূচী অনুযায়ী, আজ ২০ নবেম্বর বাংলা, ২১ নবেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ২২ নবেম্বর প্রাথমিক বিজ্ঞান, ২৩ নবেম্বর ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং ২৬ নবেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ইবতেদায়ি পরীক্ষার সময়সূচী ॥ আজ ২০ নবেম্বর বাংলা, ২১ নবেম্বর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং বিজ্ঞান, ২২ নবেম্বর আরবি, ২৩ নবেম্বর কুরআন ও তাজবিদ এবং ২৬ নবেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: