১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নবীন মুখ নিভৃত চর্চা সম্ভাবনাময় আগামী


নবীন মুখ নিভৃত চর্চা সম্ভাবনাময় আগামী

মোরসালিন মিজান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এই অনুষদের একদল শিক্ষার্থী এসেছেন ঢাকায়। সকলেই নবীন। সবাই ভাস্কর্যের কাজ করেন। কেমন তাদের কাজ? দেখাতে নিজেরাই আগ্রহী হয়েছেন। আয়োজন করেছেন দলীয় প্রদর্শনীর। ভেন্যু জয়নুল গ্যালারি। গত শুক্রবার এখানে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী প্রদর্শনী। একটু নীরবে নিভৃতেই চলছে। তবে কৌতূহলীরা ঠিকই ঢুঁ মারছেন গ্যালারিতে। একেকজন শিল্পীর একেকরকম ভাবনা। স্বতন্ত্র ভাবনা থেকে ভাস্কর্য গড়েছেন। এসব ভাস্কর্যে নিজের বর্তমান নয় শুধু, আগামীর গন্তব্যও কী হতে পারে যেন সেই নির্দেশনা।

‘ইনার এ্যাসারশন’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন ৮ শিল্পী। শাহিন আলম, শ্রাবন্তী চৌধুরী, গৌতম চৌধুরী, বুদ্ধদেব ম-ল, হরশিত বিশ্বাস, জায়েদ আল মাহফুজ, পার্থ প্রতীম সাহা ও সৈয়দ ফেরদৌস মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ক্লাসে বসে পাঠ নেন। সেইসঙ্গে চলে নিজস্ব চর্চা। গ্যালারি ঘুরে চর্চাটির সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। বিভিন্ন মাধ্যমের কাজ দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। পাথর কাঠ সিমেন্ট ফাইবার গ্লাস ব্রোঞ্জের মাধ্যমে গড়া হয়েছে ভাস্কর্য। আছে স্থাপনা শিল্প। দেয়ালও খালি পড়ে নেই। ড্রইং দিয়ে সাজানো। তবে পাথরের কাজগুলো আলাদাভাবে চোখে পড়ে। শাহীন আলমের ফ্রি স্ট্যান্ডিং ভাস্কর্যে ঘোড়ার মুখাবয়ব। আবক্ষ মূর্তি। জায়েদ আল মাহফুজ হয়ত পাল ও সেন আমলের মূর্তি দেখেই প্রভাবিত হয়েছেন শিল্পী। তাই মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন ব্ল্যাক গ্রানাইড।

কালো পাথরে গ্রামীণ জীবন ও লোক চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি। তার সিরিজ ওয়ার্ক ‘রিটার্ন টু হাউস।’ এতে দিনের কাজ শেষে হালের বলদ নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায় বাংলার কৃষককে। ত্রিমাত্রিক গঠন। সেমি রিয়ালিস্টিক কাজ। দেখতে বেশ লাগে। একই মাধ্যমে শ্রাবন্তী চৌধুরী যে ফিগারেটিভ কাজ করেছেন, মুগ্ধ হয়েই দেখতে হয়। তার নারী মুখ যেন গ্রামের উঠোন থেকে খুঁজে নেয়া। গুটি-সুটি বধূ মন খারাপ করে একলাটি বসে আছেন? নাকি ক্লান্ত শ্রান্ত খুব? অভিব্যক্তি দেখে চটজলতি কিছু অনুমান করা যায় না। হরিশিত বিশ্বাসের কাজে আগামীর সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। পাথরে গড়া তার একটি ভাস্কর্যের শিরোনাম হোপ ফর ফ্রিডম। কাজের স্বাধীনতা আরও পেলে নিশ্চয়ই ভাল করবেন শিল্পী।

প্রদর্শনীতে আছে একাধিক কাঠের কাজ। একাত্তরে বর্বর পাকিস্তান বাহিনীর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে হাই রিলিফ ওয়ার্কে। চোখ বাঁধা অন্ধকার সময়। নির্যাতনে কুকড়ে যাওয়া কয়েকটি মুখ। মুখগুলো গণহত্যার স্মারক হয়ে সামনে আসে। তুলে ধরে বাঙালীর আত্মত্যাগের ইতিহাস। অভিন্ন মাধ্যমে বিমূর্ত শিল্পকর্ম গড়েছেন বুদ্ধদেব ম-ল। মেহগনি কাঠের স্বভাব বেশ রপ্ত করে সেটিকে ভাষা দিয়েছেন তিনি। সিমেন্ট মাধ্যমে কাজ করেছেন গৌতম চৌধুরী। তরুণ শিল্পী ভেতরের হতাশাগুলোকেই যেন শিল্পের রূপ দিয়েছেন। প্রদর্শনীতে স্থাপনা শিল্পের ভাষায় নাগরিক জীবনের ছবি তুলে ধরেছেন পার্থ প্রতীম সাহা।

নবীনদের কাজ। প্রথম প্রদর্শনী। সীমাবদ্ধতা যথারীতি আছে। সে যতই থাক, একটু উদার চোখে তাকালে এখানে দেখা যাবে সম্ভাবনাটুকুও। আগামী বুধবার পর্যন্ত চলবে সম্ভাবনার প্রদর্শনী। ঘুরে আসতে পারেন ভাস্কর্যপ্রেমীরা।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: