১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পাকিস্তানী পদলেহনকারীদের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোন ॥ ইতিহাস মোছা যায় না


পাকিস্তানী পদলেহনকারীদের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোন ॥ ইতিহাস মোছা যায় না

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল নাগরিক সমাবেশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, পদলেহনকারী, তোষামোদীর দল আর যেন বাংলার মাটিতে ইতিহাস বিকৃত করতে না পারে সেজন্য সমগ্র বাংলার মানুষকে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইতিহাস-ইতিহাসই। তাকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। আজকে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাস সত্যকে তুলে ধরে। যতই তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হোক। ইতিহাস তার সত্যস্থান করে নেবে। এতক্ষণ আকাশ মেঘে ছেয়েছিল। আজকে আমাদের সূর্য নতুন করে দেখা দিয়েছে। এই নতুন সূর্যই এগিয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।

’৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর জাতির বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা ও ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণ যারা নিষিদ্ধ করেছিল তাদের উদ্দেশে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো আজকে বিশ^ ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা দেখে তাদের কী এখন লজ্জা হয় না? তারা একদিন এই ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ করেছিল। জানি না এদের লজ্জা-শরম আছে কি না? এরা তো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রেতাত্মা। স্বাধীন বাংলাদেশে থাকলেও পাকিস্তানের খোসামোদী, তোষামোদী ও চাটুকারিতার দল। কিন্তু ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাস তার সত্য স্থান করে নেয়। আজকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতিতে পুরো বাঙালী জাতি, সকল শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সব শক্তি সম্মানিত হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্থান পাওয়ায় শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সমাবেশ বলা হলেও দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত সমাবেশ মহাসমাবেশে রূপ নেয়। আর এই নাগরিক সমাবেশ ঘিরে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও নজরুল গবেষক ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশে ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিস কালদুল। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভাকে ধন্যবাদ জানিয়ে নেয়া ধন্যবাদ স্মারক পাঠ করেন এবং সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধির হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বেলা পৌনে তিনটায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় সমাবেশের মূল অনুষ্ঠান। সভার শুরুতে শহীদদের প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর ‘ধন্য মুজিব ধন্য’, ‘শোন একটি মুজিবুবের থেকে লক্ষ্য মুজিবুরের কণ্ঠ’, যত দিন রবে পদ্মা যমুনা গঙ্গা মেঘনা বহমান ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’ গানগুলো সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। সুবিশাল ও দৃষ্টিনন্দন এই নাগরিক সমাজের সমাবেশে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকেও চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বজ্রনির্ঘোষ ভাষণ নিয়ে নিজের লেখা সাড়া জাগানিয়া কবিতা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ আবৃত্তি করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। প্রায় ৯০ ফুট বিশাল নৌকাসদৃশ মঞ্চে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশে স্বনামধন্য শিল্পী শাহীন সামাদ, মমতাজ বেগম এমপি, সাজেদ আকবর ও অনিমা মুক্তি গোমেজ। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল আলিম চৌধুরীর মেয়ে ডাঃ নুজহাত চৌধুরী।

নাগরিক সমাবেশ ঘিরে রাজধানীজুড়ে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ওপর রংবেরঙের ডিসপ্লে ছাড়াও ব্যানার, ফেস্টুন এবং নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে শত শত পোস্টার লাগানো হয়। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও সংলগ্ন এলাকাকেও মনোরম সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। স্বাধীনতা স্তম্ভের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক বিশাল নৌকা সবার দৃষ্টি কাড়ে। সমাবেশের মূল মঞ্চও বানানো হয়েছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সামনে স্থাপন করা হয় আলাদা একটি মঞ্চ। সমাবেশ কার্যক্রম সরাসরি প্রচারে সমাবেশস্থলে লাগানো হয়েছিল কয়েকটি বড় বড় এলইডি মনিটর। দুপুর থেকে সমাবেশ শেষ অবধি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে প্রকম্পিত ছিল পুরো এলাকা।

বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে এই প্রথম দেশের একটি অবিস্মরণীয় অর্জনে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে এমন বিশাল একটি নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। সমাবেশে বিভিন্ন দলের দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক, বাঘা বাঘা মন্ত্রী-নেতা-এমপি উপস্থিত থাকলেও তাঁদের কারোরই জায়গা হয়নি সমাবেশের মূল মঞ্চে। প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন দেশের স্বনামধন্য বিশিষ্ট নাগরিকরাই। বক্তৃতাও দিয়েছেন শুধু তাঁরাই। শুধু নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ইউনেস্কো মহাপরিচালককে দেয়া ধন্যবাদ স্মারকটি পাঠ করার সুযোগ পান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্টজনদের ব্যাপক উপস্থিতিও একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করে। আর যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান এবং চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর এই প্রথম এত বড় একটি সমাবেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে উপস্থিত বেশিরভাগ বিশিষ্ট নাগরিকরাই বলেছেন, নিকট অতীতে সব শ্রেণী-পেশার বিশিষ্টজনদের এত ব্যাপক উপস্থিতি কখনো দেখা যায়নি।

নাগরিক এই সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই পুরো এলাকায় নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। বেলা আড়াইটায় সমাবেশের সময় নির্ধারণ করা হলেও দুপুর বারোটার পর থেকেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নামে মিছিলের স্রোত। বেলা দুইটার মধ্যেই বিশাল প্যান্ডেল পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। এরপরও মিছিলের স্রোত আসতে থাকায় প্যান্ডেলে স্থান না হওয়ায় পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানই লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে। দুপুর দুইটা থেকেই মানুষের স্রোতের কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চতুর্দিকের রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। একপর্যায়ে সমাবেশের পরিধি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাপিয়ে দোয়েল চত্বর, টিএসসি, শাহবাগ, মৎস্যভবন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশে আসা লাখো মানুষের চোখে মুখে ছিল একাত্তরের মতোই বিজয়ের আনন্দ। মানুষের স্রোত সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনীদের গলদঘর্ম হতে হয়।

শুধু আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলই নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রণাঙ্গণের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মিছিল সবার দৃষ্টি কাড়ে। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে মিছিল আসছিল; বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেচে-গেয়ে যোগ দেন অনেকে। সমাবেশে আসা হাজার হাজার মানুষের গায়ে ছিল রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকার রং লাল-সবুজের গেঞ্জি ও টুপি। সবার হাতে ছিল রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা। এমনকি সমাবেশের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এসেছিলেন জাতীয় পতাকার রং লাল-সবুজের শাড়ি পরে। তবে নাগরিক এই সমাবেশে মানুষের ঢল নামায় রাজধানীর অধিকাংশ স্থানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

যে স্থানটিতে দাঁড়িয়ে বাঙালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের দিশা দিয়েছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সেই ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতি উদযাপনের সমাবেশ ঘিরে সেই উদ্যান মুখরিত হয়ে ওঠে ‘জয় বাংলা’ সেøাগানে। বিভিন্ন দেশের আরও ৭৭ ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ভাষণকেও গত মাসের শেষে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নেয় ইউনেস্কো।

বিশাল এই নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি প্রদানে ইউনেস্কোসহ সমর্থন প্রদানকারী সকল দেশের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার অনেক চেষ্টা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যারা এটা করেছিল তারা পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, স্বাধীনতাবিরোধী। কিন্তু ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও তা মুছে ফেলা যায় না। তারা মুছে ফেলতে পারেনি। আজকে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ একুশটা বছর জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারেনি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার বিজয়ের ইতিহাস জানতে পারেনি, এটা জাতির জন্য কলঙ্ক। বিজয়ী জাতি তার ইতিহাস জানতে পারে না। জানতে দেয়া হয়নি। অথচ আজ ইউনেস্কো আজকে বিশ^ ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার প্রতি একটা অনুরোধ থাকবে, আর যেন পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, পদলেহনকারী, খোসামোদী-তোষামোদীর দল যেন আর বাংলার মাটিতে ইতিহাস বিকৃত করতে না পারে। সেজন্য সমগ্র বাংলার মানুষকে জাগ্রত হতে হবে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে যে একটি দেশের উন্নয়ন হয়, তা আমরা প্রমাণ করেছি। একুশ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এর আগে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিরা ক্ষমতায় থেকে আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকভাবে পরাজিত করতে চেয়েছিল। বাঙালী জাতিকে গোলামের জাতি হিসেবে পরিণত করতে চেয়েছিল। কিন্তু অপশক্তিরা তা পারেনি। আর আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। তাই দেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আর ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে চলতে হয় না। আজকে বাজেটের ৯৮ ভাগই নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বাঙালীর রাজনৈতিক মুক্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সংস্কৃতি অধিকার ফিরিয়ে দিতে। আজকে আমরা সারা বিশে^ গর্বিত জাতি। কিন্তু গর্বিত উন্নত শির যেন পরাজিত না হয়, পুরো বাঙালী জাতিকে সেইভাবে গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার চেয়েছিলেন, ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে গড়ে তুলব। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে দেশকে গড়ে তুলব। সেটাই আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞতা। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব। এতক্ষণ মেঘে ছেয়েছিল। আজকে আমাদের সূর্য নতুন করে দেখা দিয়েছে। এই সূর্য এগিয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রাম আর ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। জাতি হিসেবে পেয়েছি একটি রাষ্ট্র, বিশ্ব মর্যাদা। এজন্য বঙ্গবন্ধুকে জীবনের মূল্যবান সময়ই কাটাতে হয়েছে কারান্তরালে। ১৯৪৮ সাল থেকে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠা সংগ্রামের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংগ্রাম শুরু হয়। ৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্টতা পেলেও পাকিস্তানীরা বাঙালী জাতির হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা দেয়নি। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে গোটা জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে জাগ্রত করে তুলেছিলেন।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনের কিছু সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে জড়িয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। ওই মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁর মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবিস্মরণীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকাশ্য রাজনীতি না করলেও আমার মা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের ছায়া সঙ্গী হয়ে সবসময় পাশে থেকেছেন। যখন বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেয়ার জন্য তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন আমার মা বাবাকে (বঙ্গবন্ধু) শোবার ঘরে নিয়ে গিয়ে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিতে বলেন। এর আগে অনেক নেতা ভাষণের জন্য অনেক পরামর্শ দিচ্ছিলেন, অনেকে লিখিত বক্তব্যও বঙ্গবন্ধুর হাতে দিয়েছিলেন।’

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বড় মেয়ে হিসেবে ওই সময় বাবার পাশে থাকার আমার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমি বাবার মাথার পাশে বসে তাঁর মাথা নেড়ে দিচ্ছিলাম। তখন আমার মা বঙ্গবন্ধুর পাশে একটি মোড়া নিয়ে বসে তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন- তোমাকে অনেকে অনেক কথা বলবে। দেশের জনগণের মুক্তির জন্য তুমি আজীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছ। তাই দেশের জনগণের জন্য তোমার মনে যে কথা আসবে সেই কথায় বলবে। তোমার থেকে দেশের জনগণের ভাল আর কে বেশি জানে। মনে রেখ, সমাবেশে সবার হাতে বাঁশের লাঠি। আর পাশে হানাদারদের অস্ত্রের হুমকি। জনগণের জীবন তোমার হাতে। তাই তোমার মনে যে কথা আসবে সেই কথাই বলবে।’ তিনি বলেন, আমার মা প্রকাশ্য রাজনীতি না করলেও আমার মনে হয়, ওই সময় আমার মায়ের বঙ্গবন্ধুকে দেয়া শ্রেষ্ঠ পরামর্শ আর হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক শ্রেষ্ঠ ভাষণ রয়েছে যার সবগুলোই ছিল লিখিত। কিন্তু ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর কোন লিখিত কিংবা কোন নোটও ছিল না। সম্পূর্ণ অলিখিত সংক্ষিপ্ত ভাষণে জাতির পিতা পাক হানাদারদের বাঙালী জাতির ওপর শোষণ, নির্যাতন, বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে কী কী করতে হবে তার সব নির্দেশনাই দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আগে থেকেই জানতেন পাকিস্তানীরা বাঙালীর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেবে না। যুদ্ধ করেই দেশকে স্বাধীন করতে হবে। এজন্য আগে থেকেই যুদ্ধ করে কীভাবে দেশকে স্বাধীন করতে হবে, কোথায় থেকে অস্ত্র আসবে, ট্রেনিং কোথায় হবে, অর্থ কোথা থেকে আসবে সব ব্যবস্থা আগে থেকেই করে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ পাক হানাদাররা গণহত্যা শুরুর পরই পরদিন ভোররাতে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শেষ শত্রু থাকা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য বাঙালী জাতিকে নির্দেশ দেন। বাঙালী জাতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের ৯৬ হাজার সৈন্য বাঙালী জাতির হাতে বন্দী, আর আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে তারা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পর স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ কি দুর্ভাগ্য, এই ৭ মার্চের ভাষণ একসময় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে জীবন পর্যন্ত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জীবনদানকারী নেতাকর্মীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সেই সকল মুজিব সৈনিকদের, শত বাধা উপেক্ষা করে দিনের পর দিন এই ভাষণ বাজিয়ে গেছে। যত নিষিদ্ধ করেছে ততবেশি মানুষ জাগ্রত হয়েছে এবং এই ভাষণ তারা বাজিয়েছেন। পৃথিবীর কোন ভাষণ এতদিন এত ঘণ্টা বাজানো হয় আর মানুষ শোনে এটা কিন্তু কোনদিন হয়নি।

তিনি বলেন, যতই তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম মুছতে চেয়েছে, যতই তারা এই ভাষণ বন্ধ করতে চেয়েছে, মানুষের ভিতরে যে উদ্দীপনা ও স্বাধীনতার চেতনার জাগ্রত ছিল তা কখনও মুছে ফেলতে পারে নাই। তবে আমাদের দুর্ভাগ্য, এই বাংলাদেশের নাগরিক; তারাই জাতির পিতাকে হত্যা করল, তারাই এই ঐতিহাসিক ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা করল। এই ভাষণ নিষিদ্ধ করল তারা কারা? ’৭৫-এর পর অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখলের পালা শুরু করেছিল, যারা এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করেনি। যারা এই দেশ ও মাটির প্রতি কোনরকম টানই ছিল না- তারাই জাতির পিতার নাম মুছতে চেষ্টা করেছে। এই ভাষণ মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও কখনও তা মুছে ফেলা যায় না। মুছে ফেলতে পারে নাই। আজকে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।

৭ মার্চের স্বীকৃতির গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু স্বীকৃতিই নয়। আসলে ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাসও সত্যকে তুলে ধরে। যতই তা মুছতে চেষ্টা করুক, ইতিহাস তার সত্য স্থানটা অবশ্যই করে নেবে। আজকে সেই স্বীকৃতি বাংলাদেশ পেয়েছে। শুধু ভাষণ নয়, সমগ্র বাংলাদেশ, বাঙালী জাতি সকল মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি, সকলেই আজকে সম্মানিত হয়েছে। বিশ্ব দরবারে এই ভাষণের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে।

অন্য বক্তারা যা বলেন ॥ সভাপতির বক্তৃতায় ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কারাগারে বন্দী থাকলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থেকে শক্তি সঞ্চয় করে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ চালিয়ে যায়। মানব জাতির ইতিহাসে এটি শ্রেষ্ঠ ভাষণ। এ ভাষণের ইউনেস্কোর স্বীকৃতি আমাদের অসাধারণ সম্মান বয়ে এনেছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হলো। তিনি বলেন, পৃথিবীর নানা ভাষায় অনুবাদ করে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে বিশ্বের যেখানে শোষিত-বঞ্চিত মানুষ শক্তি অর্জন করতে পারে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের শক্তি সমগ্র বিশ্বের মানুষকে উজ্জীবিত করুন এই কামনা করি।

ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশী নামধারী পাকিস্তানীরাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেন। এখন এই বাংলাদেশী নামধারী পাকিস্তানীরা এখনও সক্রিয়। তারা বাঙালী জাতিকে আবারও গোলামীর জাতিতে পরিণত করতে চয়। আমাদের প্রতিজ্ঞা নিতে হবে এই ছদ্মবেশী পাকিস্তানীদের আর ক্ষমতায় যেতে দেয়া যাবে না। এ দেশকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেব না। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যত।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একে অপরের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ পেতাম না। দেশের প্রকৃত নাগরিক হতে হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে শুনতে হবে, অনুভব করতে হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ ভাষণ ছিল লিখিত। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল অলিখিত। পাকিস্তানী শত্রুদের আমরা পরাজিত করেছি। এখন নতুন শত্রুদের মোকাবেলা করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্থান দিয়ে ইউনেস্কো বাঙালী জাতিকে সম্মানিত করেছে, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধুর দেয়া বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণকে স্থান দিয়ে ইউনেস্কোও সম্মানিত হয়েছে।

সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ হলো মহাকাব্য। এ ভাষণের পর দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে গ্রাম সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সেখানে দরিদ্র নেই। বর্তমান সরকারের ব্যাপক সফলতা থাকলেও তার প্রচার কম হচ্ছে। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। তবে দেশে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। সম্মিলিতভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখতে হবে।

শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে দুর্লভ সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। মাত্র ১৮ মিনিটের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্কুলে পড়তে ৬টি ক্লাস নিতে হয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কোন বিকল্প নেই।

ইনেস্কোর অভিনন্দন ॥ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল’ হিসেবে ইউনেস্কো স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিয়েট্রিস খলদুন। নাগরিক সমাবেশে তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করে নিয়েছে ইউনেস্কো। এ জন্য ইউনেস্কোও গর্বিত। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ঐতিহাসিক নথি ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ভাষণটির ওপর অনেক পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। গত মাসেই এ স্বীকৃতি দেয়া হয়। একটি ভাষণের মাধ্যমে একটি জাতিকে একত্রিত করার ইতিহাসের দলিল এটি। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশ এবং এ দেশের জনগণকে অভিনন্দনও জানান তিনি।