১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চার্জশীট থেকে বাদ যেতে ইয়াবা ডিলারের দৌঁড়ঝাপ


চার্জশীট থেকে বাদ যেতে ইয়াবা ডিলারের দৌঁড়ঝাপ

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ আড়াই লক্ষাধিক পিস ইয়াবা উদ্ধার মামলার চার্জশীট থেকে বাদ পড়ার গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে ওমান থেকে দেশে ফিরেছে এক প্রসিদ্ধ ইয়াবা গডফাদার। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা সম্রাট টেকনাফের লেদার হেলাল উদ্দিন। স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা টুকে দেয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে বিদেশে পালিয়ে যায়।

সেখানে প্রায় দুই মাসের বেশী অবস্থানের পর স্বজনরা তাকে সুখবর জানালে তিনি তড়িগড়ি করে চলে আসেন টেকনাফে। উখিয়া থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তার গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে আদালতে মামলার চার্জশীট জমা পড়ার আগেই তিনি দেশে ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ভোররাতে উখিয়ার বালুখালীস্থ হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ২ লাখ ৫৫ হাজার পিস ইয়াবা সহ ঢাকাগামী একটি ট্রাক জব্দ করে। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের এসআই রাজেশ বড়ুয়া বাদী হয়ে ট্রাক ড্রাইভার যশোর জেলার শার্শা থানার আব্দুর রশিদের পুত্র মোহাম্মদ মিন্টু আলী, ট্রাক হেলপার একই এলাকার মশিউর রহমানের পুত্র দেলোয়ার হোসেন, ট্রাক মালিক হামিদ ও স্বরাস্ট মন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার টেকনাফ লেদা এলাকার জালাল সওদাগরের পুত্র হেলাল উদ্দিনসহ ৪ জনকে এজাহার নামীয় আসামী করে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। মামলাটির তদন্তের দ্বায়িত্ব পান উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কায় কিসলু।

এ মামলায় ট্রাক ড্রাইভার মিন্টু আলী কক্সবাজারে ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজ উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই বিভিন্ন ভাবে হেলাল উদ্দিনের আত্বীয়রা পুলিশের কাছে তদ্বির চালায়। স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার হেলাল উদ্দিন এর আগেও গ্রেফতার হয়েছিল। ২০১৪ সালের ৫ আগষ্ট হেলাল ও বনি আমিনসহ ৪ পাচারকারীকে প্রায় ৩০ হাজার ইয়াবা নিয়ে রাজধানীর মাতুয়াইল থেকে আটক করে র্যাব। সে সময় র্যাব তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও ১৩টি মোবাইল ফোন এবং একটি ওয়াইফাই মডেম উদ্ধার করে। ওইসময় গ্রেফতারকৃত ইয়াবা বিক্রেতা হ্নীলা লেদা এলাকার মৃত জালাল আহমদ সওদাগরের পুত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা ভুক্ত ও একাধিক মামলার আসামি হেলাল উদ্দিন, হ্নীলা ফুলের ডেইল এলাকার মৃত মুসলিম উদ্দিনের পুত্র বনি আমীন, ঢাকার নাজমুল হাসান ও ইব্রাহিম হাওলাদারকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

ঐ সময় র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়,তাদের কাছ থেকে ২৯ হাজার ৮শত ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ইয়াবা বিক্রির নগদ এগার লাখ ৮৩ হাজার টাকা পাওয়া যায়। হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং ইয়াবা ডিলার হিসেবে পরিচিত। এ ইয়াবা সম্রাট ইয়াবার ডিলার বনে যাবার পর চট্টগ্রামের মইজ্জার টেক এলাকায় ৫তলা ফ্ল্যাট, বহদ্দারহাট এলাকায় ৪ তলা ফ্ল্যাট, বহদ্দারহাট ১ কিলোমিটার এলাকায় ৩ তলা ফ্ল্যাট, টেকনাফে হোয়াইক্যং ও হ্নীলা স্ত্রী খালেদা আকতারসহ নামে বেনামে ২’শ কানি জমি ক্রয়, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ৪টি স্পেশাল বাস, ৩ টি ট্রাকসহ বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার গাড়ি ক্রয় করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, ইয়াবা সহ মাদক মামলাগুলো অত্যান্ত স্পর্শকাতর মামলা, এসব মামলাগুলোর ব্যাপারে প্রসাশনের দৃষ্টি থাকে সর্বদা। মামলা থেকে বাদ যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: