১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ ॥ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ জড়িত ২৯


এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ ॥ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ জড়িত ২৯

অনলাইন রিপোর্টার ॥ সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ ২৯জন জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের বিরোধের জের ধরেই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এই নাশকতা চালায় বলেও তদন্তে জানা গেছে।

সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাহফুজুর রহমান জানান, বুধবার বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম উম্মে সারাবন তহুরা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি ২৯ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরোয়ানাগুলো সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হচ্ছে।

তদন্তে যে ২৯ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেন- সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক (বরখাস্ত) সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, আবু সরকার (বহিরাগত, শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি), জাহাঙ্গীর আলম (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), মৃদুল কান্তি সরকার, কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে আইনজীবী ও বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান), ছাত্রলীগ নেতা বাবলা, মো. আতিকুর রহমান, লায়েক আহম্মেদ, সিদ্দিক আহম্মেদ ইউসুফ, জহিরুল ইসলাম, আক্তারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান শাহিন, মোহাম্মদ বিন মামুন বুলবুল, আউলাদ, আছরাফ আহমেদ শিপন, নজরুল ইসলাম, অলিউল্লাহ ওরফে ওলিউর রহমান, খুরশেদ আলম, বাছিদ ওরফে আবদুল বাছিদ, আবদুস সালাম, ইমতিয়াজ রফিক চৌধুরী, আবদুল্লাহ ফারুক, কয়েছ ওরফে কয়েছুজ্জামান তালুকদার, আবু রেহান, রুবেল ও জ্যোতির্ময় দাস সৌরভ।

তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের জবানবন্দি ফের গ্রহণ করা হয়। এর ফলে সাক্ষীদের মৌখিক সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এটাই প্রমাণিত হয় যে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের বিরোধের কারণেই সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৮ জুলাই শিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে এমসি কলেজ ছাত্রবাসে দেয়া আগুনে ৪২টি কক্ষ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় হল সুপার বশির আহমদ বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ২০১২ সালের ১৩ জুলাই মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আরও দুটি মামলা করা হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: