১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ফেনী করাগারে ধারন ক্ষমতার ৫ গুন পুরুষ ও ১০ গুন মহিলা বন্ধী


ফেনী করাগারে ধারন ক্ষমতার ৫ গুন পুরুষ ও ১০ গুন মহিলা  বন্ধী

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেনী ॥ ফেনী করাগারে ধারন ক্ষমতার ৫ গুন বেশী পুরুষ ও ১০ গুন বেশী মহিলা বন্ধী রয়েছে। জেলা করাগারে ধারন ক্ষমতার বেশী বন্ধী থাকায় খাদ্য সমস্যা না হলেও পানি ব্যবহার সহ দৈনন্দিন কাজের সকল সমস্যা বন্ধীদের নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে আছে। রাতে পালা করে ঘুমানো ছাড়া বন্ধীদের রাত কাটানোর উপায় নেই।

অনুসন্ধানে জানাযায়- ফেনী মহকুমাকে ১৯৮৪ সালে জেলায় রুপান্তর করা হয়।। বৃটিশ আমলে স্থাপিত ফেনী শহরের প্রানকেন্দ্রর এ কারাগারকে জেলা কারগারে উন্নিত করা হয়। আগে থেকেই এ কারাগারে ১৭০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা সহ মোট ১৭২ জন বন্ধী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ৮৫০ জন পুরুষ ও ২০ জন মহিলা বন্ধী কারাগারে রয়েছে। ফেনী করাগারের জেলার শংকর কুমার মজুমদার জানান- বন্দীদের খাওয়ার জন্য নিয়মিত সরকারী খাদ্য সরবরাহ রয়েছে। ধারন ক্ষমতার বেশী বন্ধী থাকায় গোসল পায়খানা প্রশ্রাব সহ আনুসাঙ্গীক কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। রাতে পালাক্রমে ঘুমানো ছাড়া এদের শোয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে তিনি বন্ধীদের জন্য ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। তা হচ্ছে প্রতিটি বন্ধীকে করাগারে আসার পর যারা স্বাক্ষর দিতে জানেননা তাদের স্বাক্ষর শিখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ইসালামী ফউন্ডেশন থেকে অভিঞ্জ লোক এনে বন্ধীদের সংশোধনের উপদেশ দেয়ার জন্য সাপ্তাহিক আলোচনা সভার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফেনীকে ১৯৮৪ সালে জেলায় রুপান্তর করা হয়। তার পর থেকে স্থান নির্ধারনে জটিলতা সৃষ্টির কারনে এক যুগেরও বেশী সময় ফেনী জেলা কারাগার নিমানের জন্য কোন কর্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ॥ কারগার নির্মান খাতের অর্থ বরাদ্ধ এসে বারবার ফিরে গেছে । অবশেষে ২০০৩ সালে ফেনী জেলা কারগার নির্মানের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফেনী শহরতলীর রানীর হাটের গনপূর্ত বিভাগের পরিত্যক্ত সাড়ে ১২ একর জায়গার ইটভাটাকে জেলা প্রশাষন থেকে রিজিউম করে নেয়। সেখান থেকে সাড়ে ৬ একর জায়গা জেলা কারাগারের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয় । সে বছরই দরপত্র আহব্বান করা হয়। কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারের উদাসিনতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের

দায়সারা কর্মকান্ডের কারনে আজও ফেনী জেলা করাগার নির্মানের কাজ শেষ হয়নি। জেলার শংকর কুমার মজুমদার জানান- নুতন কারাগরে সাড়ে তিনশ বন্ধীর থাকার ব্যবস্থা থাকছে। সেখানে এক হাজারের উপর বন্ধী রাখা যাবে। কারন জেল কোড অনুসারে প্রতিটি বন্ধীর জন্য ৩৬ বর্গফুট (৬ ফুট বাই ৬ ফুট জায়গা ) বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া নুতন প্রতিটি ভবন ৪ তলা ফাউন্ডেশন দেয়া হলেও বর্তমানে দোতালা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উপরের দিকে সম্প্রসারন করা যাবে। আগামী বছর জুন মাস নাগাদ নুতন কারাগারের নির্মান কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়। বন্ধীদের স্বজনদের দাবী - বন্ধীদের দুর্ভোগ লাগব করার জন্য ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর নজরদারী করে নুতন করাগার নির্মন দ্রুত শেষ করার ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: