১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তুরস্কে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা


তুরস্কে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক ।। ‘বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের বিকাশ এবং তুরস্কের সাথে সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সম্প্রতি আঙ্কারাস্থ জে.ডব্লিউ ম্যরিয়ট হোটেল মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যে ঔষধ বাণিজ্য জোরদার করণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ৯টি প্রধান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল এ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনার শেষে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির প্রতিনিধিগণ তুরস্কের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সাথে বাণিজ্যিক বৈঠকে মিলিত হন এবং ঔষধ বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। এসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন ঔষধ পণ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির উপর একটি আলোক-চিত্র পদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এ সেমিনারে তুরস্কের শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী জনাব ওরহান ইয়েগিন প্রধান অতিথি হিসেবে এবং তুরস্কের ঔষধ ও মেডিকেল ডিভাইস সংস্থার প্রেসিডেন্ট ড. হাক্কি গুরসুজ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, তূর্কী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, তুরস্কের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংবাদকর্মী এবং বাংলাদেশের ঔষুধ শিল্পে নেতৃত্বদানকারী প্রধান ৯ টি ঔষধ কোম্পানীর উচ্চ-পদস্থ প্রতিনিধিগণ উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে তুরস্কের স্থানীয় আগ্রহী ওষুধ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। সেমিনারে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি, উৎকর্ষতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধার উপর বক্তব্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কিত দু’টি প্রামান্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এস.এম রাব্বুর রেজা, সিইও, বেক্সিমকো ফার্মা সেমিনারে বাংলাদেশের ঔষধের গুনগত ও আন্তর্জাতিক মান, বর্হিঃবিশ্বে এর চাহিদা এবং ঔষধ রপ্তানীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঔষধের পরিসংখ্যানগত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টর বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল একটি শিল্পখাত এবং ২৫৭ টি ঔষধ কোম্পানীর উৎপাদিত ঔষধের বর্তমান বাজার মূল্য বার্ষিক ২ বিলিয়নের উপরে।

ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্য এবং ঔষধ রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রগামিতার বিবরণ শুনে তুরস্কের শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং সেমিনারে প্রধান অতিথি জনাব ওরহান ইয়েগিন অভিভূত হন এবং বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ-তুরস্ক ভাতৃপ্রিতম দু’দেশের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করণে সকল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অতপরঃ বিশেষ অতিথি ড. হাকিকি গুরস্জ তাঁর বক্তব্যে ঔষধ শিল্পে দু’দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ এর বিষ্ময়কর অগ্রগতি, নিকট অতীতে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পে উৎকর্ষতা অর্জন ছাড়াও বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থান, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ কন্স্যুলেট, ইস্তান্বুল এর কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার সমাপনী বক্তব্যে সেমিনারের মূল আলোচনার সারমর্ম উপস্থাপন করেন। সেমিনারে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে এর মহসচিব জনাব এস.এম. শফিউজ্জামানও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ কোম্পানীগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎকৃষ্টমানের ঔষধ উৎপাদন করে যাচ্ছে এবং বিশে^র বিভিন্ন দেশে ঔষধ রপ্তানীতে অগ্রগামীতা অর্জনের মাধ্যমে আδলিক পর্যায়ে ঔষধ রপ্তানীর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উপস্থাপনা শেষে অংশগ্রহণকারী উপস্থিত তুর্কী ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়। অতপরঃ রাষ্ট্রদূত, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

সেমিনারটি তুরস্কের ঔষধ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের মধ্যে যে উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ও তুরেস্কর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস আঙ্কারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরার জন্য অনুরূপ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: