১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হলের সামনে থেকে রাবি ছাত্রীকে অপহরণ


হলের সামনে থেকে রাবি ছাত্রীকে অপহরণ

রাবি সংবাদদাতা ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আবাসিক হলের সামনে থেকে সাতসকালে এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। উম্মে শাহী আমান্না শোভা নামের ওই ছাত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে। শুক্রবার সকালে স্নাতক শ্রেণীর শেষ বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার জন্য তিনি হল থেকে বের হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং শোভার বান্ধবীরা জানিয়েছেন, এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত শোভার সাবেক স্বামী সোহেল রানা। পেশায় আইনজীবী সোহেল রানা নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুরের বাসিন্দা। গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় শোভা দুই মাস আগে তাকে তালাক দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বান্ধবীসহ পরীক্ষা দেয়ার জন্য বের হয় শোভা। হল থেকে বের হয়ে ৫০ গজ দূরত্ব অতিক্রম করতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাইক্রোবাসে শোভাকে জোরপূর্বক তুলে নেয় তার স্বাবেক স্বামী সোহেল রানা। এ সময় শোভার বান্ধবীরা চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের হল থেকে প্রহরীরা ছুটে আসে। কিন্তু আগে থেকেই স্টার্ট দিয়ে রাখা মাইক্রোবাসটি শোভাকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাবকে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে মেয়ের বাবা এসেছেন। মামলার বিষয়টি তিনিই দেখবেন। শোভার বাবার বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করে। বনিবনা না হওয়ায় দুই মাস আগে শোভা সোহেলকে তালাক দেয়। কিন্তু তালাক কার্যকর হতে নাকি তিন মাস সময় লাগে। সোহেল চাচ্ছে যাতে তালাক না হয়। এজন্য শোভাকে তুলে নিয়ে গেছে তার সাবেক স্বামী সোহেল।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, পরীক্ষা দিতে আসার পথে একজন ছাত্রীকে এভাবে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোভাকে তার সাবেক স্বামী মাইক্রোবাসে তুলেছে এটা আমাদের কয়েকজন ছাত্রীও দেখেছে। দ্রুত তাকে উদ্ধারের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।

নগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা সব জায়গায় মেসেজ দিয়েছি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: