১৪ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

করমেলা শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ


করমেলা শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শহর থেকে কর মেলাকে গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলে গ্রামের মানুষও কর দিতে উৎসাহী হবে। কারণ গ্রামের মানুষের মধ্যেও আয় বেড়েছে। শুধু সুযোগ না থাকা, না জানা এবং অন্যান্য কারণের জন্যই তারা করের আওতায় আসছে না। একই সঙ্গে মেলার পরিধি বৃদ্ধি করার কথাও জানিয়েছেন গণমাধ্যমের প্রকাশক সম্পাদকরা।

আয়কর মেলা ২০১৭ পরবর্তী বৃহস্পতিবার প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক, প্রকাশক ও মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়োজিত মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের সম্পাদক প্রকাশকরা তাদের মত ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। আর সভাপতিত্ব করেন রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। কর অফিসগুলোতে মেলার মতো পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, এতে মানুষের মধ্যে কর দেয়ার প্রবণতা ও উৎসাহ দুই বাড়বে। আয়কর মেলা শেষ হয়েছে। করদাতারা মেলায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে কর দিতে। কর অফিসে যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো কর মেলায় থাকে না। তাই আমি এনবিআরকে বলব কর মেলার মতো প্রতিটি কর অফিসে স্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশে তৈরি করতে হবে। যাতে করে মানুষ আন্তরিকতার সঙ্গে কর দিতে পারে। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, কর মেলা এখন বাৎসরিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমাদের কর না দেয়ার যে সংস্কৃতি ছিল সেটা পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‘আমরা কর দেব স্বাবলম্বী হবো।’ কর প্রদান না করলে উন্নয়নমূলক কর্মকা- বৃদ্ধি পাবে না। আমাদের করের টাকাতেই পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে। করের টাকাতেই সমাজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এনবিআর যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে তা যেন করদাতাদের আরও উৎসাহিত করে এবং তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে তা খেয়াল রাখতেও বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, মিডিয়া আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার। তারা আমাদের কর্মকা- জনসম্মুখে তুলে ধরছে। কর দেয়া এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে। করদাতাদের আমরা ট্যাক্স কার্ড প্রদান করছি। আমরা বিভিন্ন উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান করছি। কর দেয়াটা ভয়ের কিছু নয় আমরা তা জানাচ্ছি।

এনবিআরের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক তার উপস্থাপনায় বলেন, করমেলার সেবা যেন প্রতিটি কর অফিসে থাকে সেজন্য এ মাসের ১২ তারিখ থেকে প্রতিটি কর অফিসে বিকেন্দ্রীকরণ মেলার আয়োজন করছি। ২৪-৩০ নবেম্বর কর সপ্তাহ পালন করা হবে। এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ স্থানে কর ক্যাম্প করেছি। আমরা মনে করি নতুন প্রজন্ম কর দিতে উৎসাহিত হচ্ছে। রূপকল্প ’৪১ এবং ভিশন ’২১ বাস্তবায়নে রাজস্ব বোর্ড নিরলসভাবেই কাজ করছে।

মতবিনিময় সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন মানি লন্ডারিংয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এটি রোধ করতে এনবিআরকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে বলেন। একই সঙ্গে রাজস্ব বোর্ড শুধু মিডিয়াবান্ধব নয় মিডিয়াকেও রাজস্ববান্ধব হওয়ার কথা বলেন। করের টাকা কোথায় ব্যবহার হচ্ছে তা মানুষ জানতে পারলে আরও বেশি উৎসাহী এবং সম্মানিত বোধ করবেন বলেও মনে করেন তিনি। মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ট্যাক্স ক্যাম্পকে গ্রামে নিয়ে যেতে হবে। তাহলে গ্রামের অনেকেই এগিয়ে আসবে। গ্রামের মানুষের মধ্যেও অনেক আয়। তাদের জানাতে হবে।

চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ভবিষ্যতে মেলা আরও একটু বড় পরিসরে করার কথা। কারণ হিসেবে বলেন, এ বছর যে ভিড় দেখছি তাতে করদাতাদের বেশ কষ্ট হয়। এছাড়াও ট্যাক্সকার্ডের যে অনুষ্ঠান সেটিও আরও একটু ভাল করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পূর্বের চেয়ে মানুষের ট্যাক্স ভীতি কমে গেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

ইত্তেফাক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনও গ্রামের কর মেলা বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে কি করে আরও অধিক মানুষের মধ্যে যাওয়া যায়, কর দেয়ার আগ্রহ তৈরি করা যায় সে প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে বলেন। বণিক বার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, সবচেয়ে বেশি কর আদায় হয় তামাক হতে। এই সেক্টরে আরও মনিটরিং বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হারুন অর রশিদ, বাংলাভিশনের পরিচালক আশরাফ উদ্দিন, সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, ভোরের ডাক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, আমার সংবাদ সম্পাদক হাসেম রেজা, পরিবর্তন ডট কমের প্রধান সম্পাদক আহসান হাবিব, শেয়ারবিজের প্রকাশক ও সম্পাদক মীর মনিরুজ্জামান জাতীয় অর্থনীতির এম জে কিবরিয়া চৌধুরী প্রমুখ। মতবিনিময় সভা শেষে বিভিন্ন প্রকাশক ও সম্পাদকের হাতে ট্যাক্স আইডি কার্ড তুলে দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে ই-টিআইএন সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কর সচেতনতা নিয়ে তিনটি টিভিসি প্রচার করে দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে ১ নবেম্বর থেকে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলায় সারাদেশে আয়কর আদায় হয়েছে দুই হাজার ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ ১৪ হাজার ২২১ টাকা। যা গত বছর ছিল দুই হাজার ১২৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮১১ টাকা। অর্থাৎ এ বছর আয়করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১২ শতাংশ।