১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সিডরের দশ বছর ॥ গৃহপুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে


সিডরের দশ বছর ॥ গৃহপুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ কলাপাড়া উপজেলা ভূমি প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় সিডরে বিধ্বস্ত কয়েক হাজার পরিবার আবাসন-আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর পেলেও তাদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে। সরকার এ খাতে প্রায় পৌনে ৩৪ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অধিকাংশ বাসিন্দাদের ঘরের দলিল বুঝিয়ে দেয়া হয় নি। আজ-কাল বলে অসহায় মানুষগুলোকে অফিসের বারান্দায় ঘুরছে চারটি বছর। এমনকি কারা কোন প্রকল্পে বসবাস করছে তার হাল-নাগাদ তালিকা পর্যন্ত নেই। ফলে সমবায় অফিস আশ্রিতদের কর্মদক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ঋনদান প্রক্রিয়া চালু করতে পারেনি। অথচ সাতটি বছর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের দেয়া ২২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে। বর্তমানে ব্যারাক হাউসসহ ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। জীর্ণদশার কারণে ইতোমধ্যে শত শত পরিবার ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। অনেকে আবার বেড়িাঁধের স্লোপে কিংবা ফের খাস জমিতে ঝুপড়ি তুলে চরম দুর্যোগ ঝুঁকিতে থাকছেন। আশ্রয়হারা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আর ব্যরাক হাউসের শত শত ঘর খালি পড়ে আছে। এমনকি এসব ঘরের টিন-চাল-বেড়া খুলে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। ফলে সিডরের দশ বছর পরও দরিদ্র শ্রমজীবি মানুষের জন্য সরকারের নেয়া যুগান্তকারী উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

সিডর তান্ডবে উপকূলীয় কলাপাড়ায় ১২ হাজার নয় শ’ পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়ে। এদর পুনর্বাসনে সরকারিভাবে আবাসন, বিশেষ আবাসন, জাপানি ব্যরাক হাউস, আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিয়নে দেড় শতাধিক ব্যরাক হাউস করা হয়। যেখানে প্রায় দুই হাজার পরিবারের আশ্রয় স্থল করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদোগেও পাঁচ হাজার পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। সিডর পরবর্তী সময় থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পুনর্বাসনের কাজ চলতে থাকে।

এছাড়াও সিডর পরবর্তী সময়ে সৌদি সরকারের সহায়তা ১৫৪০টি পরিবার ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ৩৯২৫টি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয় বিধ্বস্তদের। কিন্তু এসব ঘর বসবাসের অনুপযোগি হয়ে গেছে। অর্ধেকের কোন অস্তিত্ব নেই।

সরকারি হিসাবে কলাপাড়ায় অন্তত ১৭০টি ব্যারাক হাউস করা হয়েছে। এছাড়া গুচ্ছ গ্রাম ও আদর্শ গ্রাম করা হয়েছে আরও দশটি। যেখানে কমপক্ষে দুই হাজার পরিবারের আবাসস্থল রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় দেড় হাজার পরিবার বসবাস করছে। কিন্তু কাগজপত্রে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে ৪৯৭ টি পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। এগুলো ছাড়াও রাখাইনদের জন্য তিনটি বিশেষ আবাসন করা হয়েছে। যেখানে ৫৭টি পরিবার বসবাস করছে। বর্তমানে এসব আবাসনের বাস্তব চিত্র কী তা খোদ সরকারি প্রশাসন সঠিকভাবে জানাতে পারেনি।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে প্রকৃত ছিন্নমূলদের মধ্যে আবাসনের ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: