১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

র্তমান দলের ফিটনেস-বিপ্লব দেখলে গর্ব হয় ॥ কাপিলদেব


র্তমান দলের ফিটনেস-বিপ্লব দেখলে গর্ব হয় ॥ কাপিলদেব

অনলাইন ডেস্ক ॥ যেন নক্ষত্রের সমাবেশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলিপুরের তারকা চিহ্নিত হোটেলে! বক্তা ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিলদেব ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতি থিলঙ্গা সুমতিপালা।

আর শ্রোতার আসনে ভারত, শ্রীলঙ্কা দুই দেশের অধিনায়ক বিরাট কোহালি ও দীনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বে তাঁদের পুরো দল। উপস্থিত প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক আজহারউদ্দিন-সহ বাংলা ও ভারতীয় ক্রিকেটের ‘হুজ হু’-রা।

যাঁকে নিয়ে আলোচনাসভা, গোটা বিশ্বে ক্রিকেট প্রসারে তাঁর নিরলস প্রয়াস উৎকর্ষ বাড়িয়েছে এই সব আলোকিত ক্রিকেট নক্ষত্রদেরও। ‘জগমোহন ডালমিয়া অ্যানুয়াল কনক্লেভ’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরাটকে দেখে কপিলের মন্তব্য ‘‘সৌরভ আমাকে শুধু ডালমিয়া নিয়ে বলতে মানা করেছে। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়েও বলতে হবে...।’’ এর পরেই হাসতে হাসতে বলেন, ‘‘বিরাট আমরা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকি। জগমোহন ডালমিয়ার মতো তুমিও আমাদের নায়ক। ডালমিয়া ক্রিকেট বিশ্বে পরিবর্তন এনেছিলেন। বিরাট, তুমিও পারো ভারতীয় ক্রিকেটেকে আরও উচ্চ মঞ্চে পৌঁছে দিতে, যেখানে কেউ পৌঁছাতে পারে না। গত কয়েক বছরে ভারতীয় ক্রিকেট দলে তুমি এমন ফিটনেস-বিপ্লব আমদানি করেছে, যা দেখলে গর্ব হয়।’’

আর থিলঙ্গা সুমতিপালা বললেন, ‘‘দূরদৃষ্টি বা নেতৃত্ব প্রদান করা ছিল ‘জগু’-র মজ্জাগত। ক্রীড়া প্রশাসনে ওঁর মতো দক্ষ নেতা দেখিনি।’’ সঙ্গে জুড়ে দেন, ‘‘ক্রিকেট বিশ্বের এত বড় সংস্কার ওঁর মতো কেউ হয়তো করতে পারত না। জীবদ্দশায় বোঝা যায় না একজন কত বড় কাজ করে গিয়েছে। পরে তা বুঝতে পারা যায় ইতিহাসের পাতা উল্টালে।’’

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১০ নম্বর আলিপুর রোডের প্রয়াত বাসিন্দাকে নিয়ে বলতে গিয়ে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘‘ক্রিকেট খেলার আগে থেকেই ওনাকে চিনি। ছোট থেকেই পারিবারিক সম্পর্ক। ক্রিকেট জীবনে কোনও সমস্যা হলে, ওনার কাছে সমাধানের রাস্তা খুঁজে পেয়েছি।’’

সৌরভ মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন বিরাট কোহালি এবং দীনেশ চণ্ডীমল-কে। মঞ্চে তখন হাজির প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়া-র স্ত্রী চন্দ্রলেখা ডালমিয়া ও তাঁর পুত্র অভিষেক ও কন্যা বৈশালী। সৌরভ-ই ভারত অধিনায়কের হাত দিয়ে সম্মানিত করালেন জগমোহন-জায়াকে। আর তার পরে দুই অধিনায়ককে সংবর্ধনা দিলেন সিএবি সভাপতি স্বয়ং।

চলতি বছর থেকেই শুরু হল জগমোহন ডালমিয়া স্মারক বক্তৃতা। কপিল বলছিলেন, ‘‘নায়ক দু’ধরনের হয়। মাঠের মধ্যে ও মাঠের বাইরে। জগমোহন ডালমিয়া মাঠের বাইরের নায়ক। গত পঞ্চাশ বছরে খেলার জগতে এ রকম প্রশাসক আসেনি।’’ কারণ জানাতে গিয়ে কপিল বলছেন, ‘‘মিস্টার ডালমিয়া জানতেন, ক্রিকেটাররা রোজগার করে ১০-১৫ বছরের খেলার জীবনেই। ক্রিকেটারদের জীবনে তার পরের আর্থিক অনিশ্চয়তা না আসার রাস্তা দেখিয়েছিলেন আমার নায়ক।’’

শ্রীলঙ্কা বোর্ডের প্রধান সুমতিপালা আবার মনে করালেন ’৯৬ বিশ্বকাপের সময় সন্ত্রাসের জুজু দেখিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রে না খেলতে চাওয়ার সেই ঘটনা। তাঁর কথায়, ‘‘পাঁচ মিনিটের মধ্যে ওয়াসিম আক্রমকে ফোনে রাজি করিয়ে ও ভারত-পাকিস্তানের যৌথ দল পাঠিয়ে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কায় খেলতে। যার পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রাজি হয়ে যায়।’’ চণ্ডীমলদের বোর্ড সভাপতি সঙ্গে এটাও যোগ করেন, ‘‘মুরলীধরনের বিরুদ্ধে বল ছোড়া এবং বিকৃতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। জগমোহন ডালমিয়া সেই মহাবিপদেও ত্রাতা হয়েছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের।’’

তবে এমন স্মৃতিমেদুর অনুষ্ঠানের তাল কাটল শেষ বেলায়। যখন বাংলা ক্রিকেটের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ রেখে ২৭ জনকে স্মারক, শাল ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হল সিএবি-র তরফে। জগমোহন ডালমিয়া স্মারক বক্তৃতার মঞ্চে এই সংবর্ধনা বড়ই বেমানান।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: