১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যেকোন মূল্যে সিজারের সন্ধান দাবি


যেকোন মূল্যে সিজারের সন্ধান দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোবাশ্বার হাসান সিজারকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন তার শিক্ষক, বন্ধু ও স্বজনরা। রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, যেকোন মূল্যে সিজারকে ফেরত চাই। সিজারের সন্ধান রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক নাদির জুনাইদ, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম আসাদুজ্জামান, শবনম আযীম ও সিজারের ছোট বোন তামান্না।

অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, ‘আমাদের স্বাধীন দেশে গত কয়েক মাসে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে প্রতি ১০০ ঘণ্টায় একজন করে গুম ও নিখোঁজ হচ্ছে। এটা দেশের জন্য খুবই হতাশাজনক। সিজার একজন গবেষক। তাঁর গবেষণা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। কিন্তু এমন ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত। তাঁকে দ্রুত আমাদের সামনে দেখতে চাই।’

অধ্যাপক মফিজুর রহমান বলেন, ‘যদি সে (সিজার) কোনো অন্যায় করে থাকে তাকে প্রকাশ্যে এনে বিচার করুন। কিন্তু তার গুম হয়ে যাওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদি সে অপহরণ এর স্বীকার, আত্মগোপন অথবা গুম হয়ে থাকে তাহলেও সরকারের দায়িত্ব তার সন্ধান দেয়া।’

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার জন্যই মানুষ রাষ্ট্র তৈরি করে। এদেশে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়েছে। কিন্তু সিজার কি এমন অপরাধ করেছে যে তার বিচার না করে গুম করা হলো? তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমত। একজনের গবেষণা পছন্দ নাও হতে পারে। এজন্য কি তাকে গুম করতে হবে? তিনি বলেন, ‘হত্যার চেয়ে নিখোজ ভয়ঙ্কর। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আমরা সিজারের সন্ধান চাই। আর যেন কোন নাগরিককে এভাবে নিখোঁজ হতে না হয়।

সিজারের সহপাঠী শবনম আযীম বলেন, ‘রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে শিক্ষক সিজারকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই যেকোন মূল্যে সিজারকে ফেরত চাই।’

সিজারের ছোট বোন তামান্না সরকারের প্রতি যেকোনো মূল্যে তার ভাইকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। এসময় তিনি গণমাধ্যমের প্রতি মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ প্রচার না করার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, সিজার গত মঙ্গলবার নিখোঁজ হন। তিনি ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। দেশে ফিরে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এটুআই প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ছয় দিন পার হলেও তার সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু ও স্বজনরা।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: