ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৯ মার্চ ২০২৪, ১৫ চৈত্র ১৪৩০

থিয়েটার অঙ্গনের ‘মুনির চৌধুরী’ নাটকের মঞ্চায়ন

প্রকাশিত: ০৪:০৪, ১২ নভেম্বর ২০১৭

থিয়েটার অঙ্গনের ‘মুনির চৌধুরী’ নাটকের মঞ্চায়ন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র গীতাঞ্জলি ললিতকলা একাডেমির ত্রয়োদশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের সমাপনী শুক্রবার উত্তরার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ইন্সটিটিউট অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনীতে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং ঢাকা মহানগর উত্তরা’র মাননীয় উপ-পুলিশ কমিশনার জয়দেব কুমার ভদ্র। আলোচনা অনুষ্ঠানের পর বাংলা নাটকের পথিকৃত শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর জীবন ও কর্ম নিয়ে নাট্যদল থিয়েটার অঙ্গনের দশম প্রযোজনা ‘মুনীর চৌধুরী’ নাটকের দশম মঞ্চায়ন হয়। ‘মুনীর চৌধুরী’ নাটকটি রচনার পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছে প্রবীর দত্ত। নাটকের প্রধান চরিত্র মুনীর চৌধুরীর নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন মাহবুব আমিন মিঠু। আরও অভিনয় করেছেন সাবিনা আক্তার, মোঃ রাজীব আহমেদ, মোঃ জয় আক্তার সজিব, সম্বিতা রায়, জান্নাতুল ফেরদৌস রশনি, মির্জা সাইফুল ইসলাম সুমন, অক্ষয় কুমার সরকার, মোঃ আলম, সিরাজুল ইসলাম, আজিম আহমেদ সালমান ও মোঃ আবু উবায়দা। ‘মুনীর চৌধুরী’ নাটকের মঞ্চ পরিকল্পনায় আলি আহমেদ মুকুল, পোশাক পরিকল্পনায় ড. আইরিন পারভীন লোপা, আবহসঙ্গীত শিশির রহমান, আলো শামীমুর রহমান, ভিডিও অরণ্য আলমগীর, কোরিওগ্রাফি সম্বিতা রায়, রূপসজ্জা শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, সেট নির্মাণ মনির, প্রচ্ছদ নকশাশিল্পী রফিকুন নবী, প্রযোজনা অধিকর্তা মাহবুব আমিন মিঠু। ‘মুনীর চৌধুরী’ নাটকে শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর জীবন এবং কর্মের নানাদিক তুলে ধরা হয়েছে। তার বহুমাত্রিক নাট্যভাবনার নির্মাণ প্রতিফলিত হয়েছে মৌলিক নাট্যরচনায় ও বিদেশী নাটকের অনুবাদ-রূপান্তরেÑ যেখানে বেদনার সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে কৌতুক বোধ ও এর সঙ্গে সূক্ষ্ম শৈল্পিক প্রতিবাদ। দৃষ্টি উন্মোচনকারী এই নাট্যকার, প্রাবন্ধিক এবং সাহিত্য সমালোচক ১৯৭১ সালে বিজয়ের মাত্র দুইদিন আগে স্বাধীনতাবিরোধী আল-বদর, আল-শামসদের হাতে অন্য বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে নির্মমভাবে শহীদ হন। কোথাও তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। একুশের প্রথম নাটক ‘কবর’ যাকে অমর করে রেখেছে, তারই কোন কবর নেই। তবে কি ‘কবর’ মুনীর চৌধুরীর জীবনের প্রতিচ্ছবি? মূলত নাটকীয় মুহূর্ত তৈরির মাধ্যমে মুনীর চৌধুরীর জীবনালেখ্যই প্রতিফলিত হয়েছে এ নাটকে। এদেশের নব-নাট্যান্দোলনের পথিকৃৎ মুনীর চৌধুরীর বুদ্ধিদীপ্ত প্রচেষ্টায় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় এদেশের আত্মসচেতন ও সমাজসচেতন নাট্যভাবনার সূত্রপাত ঘটে। অল্পকাল ব্যবধানে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পর গোটা দুনিয়ায় শিল্প-সাহিত্যের উদার উঠানে, যখন চিন্তার বিলোড়ন তৈরি হয়েছে তখন বাংলাদেশেও সে প্রবণতার প্রভাব ছায়া বিস্তার করেছে অনিবার্যভাবে। শিক্ষিত-সচেতন মানুষ হিসেবে নাট্যকার মুনীর চৌধুরী বিশ্বমননে স্নাত হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় থেকেই তিনি ঝুঁকে পড়েন নাটকের শিল্প কৌশলের দিকে। তার প্রথম নাটক নওজোয়ান কবিতা মজলিস রচিত হয় ১৯৪৩ সালে। তার নাটকে প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকার নগরকেন্দ্রিক জীবনপ্রবাহ এক কর্মচাঞ্চল্যের অভিজ্ঞতা প্রাধান্য পেয়েছে। আর পেশাগতভাবে শিক্ষকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় শিক্ষার্থী-অধ্যাপক-প্রক্টর-হাউস টিউটর, সাংবাদিক-উকিল-পুলিশ-ডাক্তার নেতা, রিকশাওয়ালা দোকানদার-অভিভাবক, প্রেমিক-প্রেমিকা প্রভৃতি চরিত্র তার নাটকের ক্যানভাসে অতি সাবলীলতায় জায়গা করে নিয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘শান্তির জয় হোক, সাম্যের জয় হোক, সত্যের জয় হোক’ স্লোগানে গত ২৭ অক্টোবর গীতাঞ্জলি ললিতকলা একাডেমির ত্রয়োদশ বর্ষপূর্তি উৎসবের উদ্বোধনী দিনে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমামকে ‘গীতাঞ্জলি সম্মাননা পদক ২০১৭’ প্রদান করা হয়।
×